নালিতাবাড়ীতে এসআই চন্দনের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন, বাবা-ছেলের কারাভোগের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:২৩:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মামলা, প্রতিবেদনকে মিথ্যা দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের মনজুরুল হক, নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাঁদা দাবি, গাছ কাটা ও মাছ লুটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাজতবাস করেছেন এক বাবা ও তাঁর ছেলে। মামলাটি হয়রানিমূলক দাবি করে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, জমি দখলকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের দাবি, নালিতাবাড়ী থানার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দনের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে এমন কিছু ঘটনার উল্লেখ রয়েছে, যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে মামলার বাদী জমি জবরদখলের পাল্টা অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ সোহাগপুর গ্রামের। মামলার বাদী ভজন সরকার ওই ইউনিয়নের একজন গ্রাম পুলিশ সদস্য। অপরদিকে অভিযুক্তরা হলেন একই গ্রামের সন্তোষ সরকার ও তাঁর চার ছেলে। জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে সন্তোষ সরকার একই গ্রামের সুশীল সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে সাফকবলা দলিলের মাধ্যমে কয়েক দফায় জমি কেনেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে সুশীল সরকারের চাচাতো ভাই মেঘনাথ সরকার ও ভজন সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে ওই জমির মালিকানা দাবি করেন। একপর্যায়ে গত ফেব্রুয়ারিতে সন্তোষ সরকারের কেনা ও ভোগদখলে থাকা ২৫ শতক জমি তাঁরা দখল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে গত ১১ আগস্ট সন্তোষ সরকার ওই জমির দখল পুনরুদ্ধার করেন। এ নিয়ে পরদিন দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করে। চাঁদা দাবি, গাছ কাটা ও মাছ লুটের অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধের ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুলাইয়ের একটি ঘটনার উল্লেখ করে সন্তোষ সরকার ও তাঁর চার ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন ভজন সরকার। অভিযোগে বলা হয়, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা বাদীর বাড়িতে প্রবেশ করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের ঔষধি গাছ কেটে ফেলেন। এ ছাড়া বাড়ির সামনের পুকুর থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ লুটের অভিযোগও করা হয়। আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য নালিতাবাড়ী থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই চন্দন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বাদীর বাড়ি থেকে মান্দারসহ বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও বনজ গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি পুকুর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চুরির ঘটনায় ৩০ হাজার টাকা ক্ষতি এবং রাস্তায় আটকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত ২৫ জুলাই অভিযোগে উল্লেখ করা গাছ কাটা, মাছ চুরি ও চাঁদা দাবির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁদের ভাষ্য, বাদীর বাড়িতে অভিযোগে উল্লেখ করা গাছ ও মাছ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। গাছ কাটার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দেখতে চাইলে ভজন সরকার প্রতিবেদককে তা দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে। তবে তিনি সন্তোষ সরকারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে একাধিক মামলা দিয়ে তাঁকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন। সন্তোষ সরকারের পাল্টা অভিযোগ সন্তোষ সরকার বলেন, তিনি সাফকবলা দলিলের মাধ্যমে জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, ভজন সরকার ও মেঘনাথ সরকার জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেছেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিকার চেয়ে তিনিও পাল্টা মামলা করেছেন বলে জানান তিনি। যা বললেন তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই চন্দনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি সাক্ষীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।” এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।



















