সম্পাদকীয় মে দিবস: শ্রমের মর্যাদা, ন্যায়ের দাবিতে নতুন প্রত্যয়
- আপডেট সময় : ০৫:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
প্রতি বছরের মতো এবারও ১লা মে এসেছে—বিশ্ব শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ের দিন, সংগ্রামের দিন, আত্মমর্যাদার দিন। এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের স্মারক, যেখানে শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছিলেন।
১৮৮৬ সালের শিকাগোর শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে দাবির সূচনা—“৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা ব্যক্তিগত জীবন”—তা আজও পৃথিবীর বহু স্থানে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শ্রমিকদের অধিকার এখনো অনেকাংশেই উপেক্ষিত। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
আমাদের দেশের গার্মেন্টস, নির্মাণ, কৃষি ও পরিবহন খাতে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। অথচ তাদের অনেকেই ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা কর্মক্ষেত্রে অবহেলার কারণে প্রাণ হারানোর ঘটনাও নতুন নয়।
মে দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—শ্রমিকরা কেবল উৎপাদনের যন্ত্র নয়, তারা এই রাষ্ট্রের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। তাদের অধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত।
আজকের এই দিনে প্রয়োজন শুধু শোভাযাত্রা বা স্লোগান নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। শ্রম আইন বাস্তবায়ন, মজুরি কাঠামোর ন্যায্যতা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া—এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একই সঙ্গে শ্রমিকদেরও সচেতন হতে হবে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই পারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে।
মে দিবস হোক প্রতিজ্ঞার দিন—
শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের,
এবং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের।
যেখানে সত্য থেমে যায়, সেখানেই প্রতিবাদী কণ্ঠ।
মোহাম্মদ আজিম মিঞা
সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রতিবাদী কন্ঠ









