সর্বশেষ
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নতুন নেতৃত্বকে মহানগর কোর কমিটির অভিনন্দন সিএমপির ওপেন হাউজ ডেতে নাগরিকদের অভিযোগ শুনলেন কমিশনার, মিলল তাৎক্ষণিক সমাধান দশ বছর পর জবিতে মঞ্চ মাতালেন নগরবাউল জেমস যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, দুই নার্সকে অব্যাহতির নির্দেশ বিজয়নগরে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় কাপড়ভর্তি কাভার্ড ভ্যান আটক শেরপুরে পাঁচ দিনব্যাপী বই মেলা উদ্বোধন হয়েছে, গোয়ালবাড়ীতে চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম আহমদের সমর্থনে মতবিনিময় সভা চাটখিলে ছাত্রদলের বিশাল আনন্দ র‍্যালি শওকত আজিজ রাসেলকে কারাগারে পাঠানোয় নোয়াখালীবাসীর নিন্দা, আলোচনায় হাশেম পরিবারের অবদান

সম্পাদকীয় মে দিবস: শ্রমের মর্যাদা, ন্যায়ের দাবিতে নতুন প্রত্যয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

প্রতি বছরের মতো এবারও ১লা মে এসেছে—বিশ্ব শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ের দিন, সংগ্রামের দিন, আত্মমর্যাদার দিন। এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের স্মারক, যেখানে শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছিলেন।
১৮৮৬ সালের শিকাগোর শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে দাবির সূচনা—“৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা ব্যক্তিগত জীবন”—তা আজও পৃথিবীর বহু স্থানে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শ্রমিকদের অধিকার এখনো অনেকাংশেই উপেক্ষিত। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
আমাদের দেশের গার্মেন্টস, নির্মাণ, কৃষি ও পরিবহন খাতে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। অথচ তাদের অনেকেই ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা কর্মক্ষেত্রে অবহেলার কারণে প্রাণ হারানোর ঘটনাও নতুন নয়।
মে দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—শ্রমিকরা কেবল উৎপাদনের যন্ত্র নয়, তারা এই রাষ্ট্রের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। তাদের অধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত।
আজকের এই দিনে প্রয়োজন শুধু শোভাযাত্রা বা স্লোগান নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। শ্রম আইন বাস্তবায়ন, মজুরি কাঠামোর ন্যায্যতা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া—এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একই সঙ্গে শ্রমিকদেরও সচেতন হতে হবে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই পারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে।
মে দিবস হোক প্রতিজ্ঞার দিন—
শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের,
এবং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের।
যেখানে সত্য থেমে যায়, সেখানেই প্রতিবাদী কণ্ঠ।
মোহাম্মদ আজিম মিঞা
সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রতিবাদী কন্ঠ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সম্পাদকীয় মে দিবস: শ্রমের মর্যাদা, ন্যায়ের দাবিতে নতুন প্রত্যয়

আপডেট সময় : ০৫:৩১:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

প্রতি বছরের মতো এবারও ১লা মে এসেছে—বিশ্ব শ্রমিক শ্রেণির অধিকার আদায়ের দিন, সংগ্রামের দিন, আত্মমর্যাদার দিন। এই দিনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের স্মারক, যেখানে শ্রমিকেরা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছিলেন।
১৮৮৬ সালের শিকাগোর শ্রমিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে দাবির সূচনা—“৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম, ৮ ঘণ্টা ব্যক্তিগত জীবন”—তা আজও পৃথিবীর বহু স্থানে পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শ্রমিকদের অধিকার এখনো অনেকাংশেই উপেক্ষিত। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
আমাদের দেশের গার্মেন্টস, নির্মাণ, কৃষি ও পরিবহন খাতে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। অথচ তাদের অনেকেই ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা কর্মক্ষেত্রে অবহেলার কারণে প্রাণ হারানোর ঘটনাও নতুন নয়।
মে দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—শ্রমিকরা কেবল উৎপাদনের যন্ত্র নয়, তারা এই রাষ্ট্রের সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। তাদের অধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত।
আজকের এই দিনে প্রয়োজন শুধু শোভাযাত্রা বা স্লোগান নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। শ্রম আইন বাস্তবায়ন, মজুরি কাঠামোর ন্যায্যতা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া—এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
একই সঙ্গে শ্রমিকদেরও সচেতন হতে হবে তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামই পারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে।
মে দিবস হোক প্রতিজ্ঞার দিন—
শ্রমের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের,
এবং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের।
যেখানে সত্য থেমে যায়, সেখানেই প্রতিবাদী কণ্ঠ।
মোহাম্মদ আজিম মিঞা
সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রতিবাদী কন্ঠ