সর্বশেষ
ময়মনসিংহের ফুলপুরে মানসিক ভারসাম্যহীণ নারীর কোলজুড়ে জন্ম নিল নবজাতক কন্যাসন্তান ,বাবা হয়নি কেউ। বাঁশখালীতে মাকে হত্যা: র‍্যাব-৭ ও র‍্যাব-১৫-এর যৌথ অভিযানে ছেলে ও পুত্রবধূ গ্রেপ্তার বিজিবির যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর বিশেষ অভিযানে ৬ কোটি ৬২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ডায়মন্ড ও বিভিন্ন বিদেশী মূদ্রাসহ একজন ভারতীয় নাগরিক আটক। নালিতাবাড়ীতে ট্যাগ অফিসারের অবহেলায় ফিলিং স্টেশনে বিশৃঙ্খলা নালিতাবাড়ী জালাল উদ্দীন কলেজের অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত… তারেক রহমানের আগমন ঘিরে উলাশির জিয়ার খাল পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, খাল খননে নতুন গতি, যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন মাদক এবং অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক চট্টগ্রামে অকটেন সংকটের তাণ্ডব: নগর রাস্তায় লাইনের ভিড়, ঘাটে ট্রলার আটকে হাজারো জেলের দুর্ভোগ পানান বাজারে ব্যবসায়িক সংগঠনের কমিটি গঠন বাবা-মা অমূল্য ধন

চট্টগ্রামে অকটেন সংকটের তাণ্ডব: নগর রাস্তায় লাইনের ভিড়, ঘাটে ট্রলার আটকে হাজারো জেলের দুর্ভোগ

 মোঃ শহিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

 চট্টগ্রামে হঠাৎ অকটেন সংকট দেখা দেওয়ায় নগর ও উপজেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত অকটেন পাচ্ছেন না। কিছু পাম্পে ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে সীমিত সরবরাহের কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা বলছেন, ডিজেলের বড় কোনো সংকট নেই। তবে অকটেনের সরবরাহ কম হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। তেলবাহী জাহাজ থেকে নিয়মিত তেল খালাস করা হচ্ছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মজুদদারি এবং অনৈতিক বিক্রির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট পেট্রোল পাম্প: ৩৮৩টি, এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর: ৭৯৯ জন, প্যাকড পয়েন্ট ডিলার: ২৫৫ জন। নগরীতে পাম্প: ৪৬টি। পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেছেন, ‘চট্টগ্রামে ডিজেলের বড় সংকট নেই। তবে অকটেনের সরবরাহ সীমিত। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রেশনিং পদ্ধতিতে বিক্রি হচ্ছে।’ জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতেও। যথাযথ ডিজেল না পাওয়ায় অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। ফলে মৌসুমেও হাজারো জেলে ঘাটে অলস সময় পার করছেন। এক ট্রলারের ইঞ্জিন অনুযায়ী এক হাজার থেকে দুই হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল প্রয়োজন। চট্টগ্রামের প্রায় দুই লাখ জেলেরা এই খাতের সঙ্গে জড়িত। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা এবং ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরবরাহকারী সংস্থাগুলোও তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে নগর ও মৎস্য খাতের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চট্টগ্রামে অকটেন সংকটের তাণ্ডব: নগর রাস্তায় লাইনের ভিড়, ঘাটে ট্রলার আটকে হাজারো জেলের দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০১:৩৭:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

 চট্টগ্রামে হঠাৎ অকটেন সংকট দেখা দেওয়ায় নগর ও উপজেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত অকটেন পাচ্ছেন না। কিছু পাম্পে ‘অকটেন নেই’ সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, ডিপো থেকে সীমিত সরবরাহের কারণে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা বলছেন, ডিজেলের বড় কোনো সংকট নেই। তবে অকটেনের সরবরাহ কম হওয়ায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে জ্বালানির প্রকৃত কোনো ঘাটতি নেই। তেলবাহী জাহাজ থেকে নিয়মিত তেল খালাস করা হচ্ছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মজুদদারি এবং অনৈতিক বিক্রির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক ডিলার সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনেও বাধা সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে মোট পেট্রোল পাম্প: ৩৮৩টি, এজেন্ট ডিস্ট্রিবিউটর: ৭৯৯ জন, প্যাকড পয়েন্ট ডিলার: ২৫৫ জন। নগরীতে পাম্প: ৪৬টি। পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন বলেছেন, ‘চট্টগ্রামে ডিজেলের বড় সংকট নেই। তবে অকটেনের সরবরাহ সীমিত। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রেশনিং পদ্ধতিতে বিক্রি হচ্ছে।’ জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে মৎস্য খাতেও। যথাযথ ডিজেল না পাওয়ায় অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। ফলে মৌসুমেও হাজারো জেলে ঘাটে অলস সময় পার করছেন। এক ট্রলারের ইঞ্জিন অনুযায়ী এক হাজার থেকে দুই হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল প্রয়োজন। চট্টগ্রামের প্রায় দুই লাখ জেলেরা এই খাতের সঙ্গে জড়িত। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা এবং ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত অকটেন, পেট্রল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রয়োজন নেই। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরবরাহকারী সংস্থাগুলোও তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকট থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে নগর ও মৎস্য খাতের কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।