সর্বশেষ
শিবচর বাজারে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট রোধে প্রশাসনের অভিযান। ৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%! জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য শেরপুরে বিএনপিতে যোগ দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ নেতাকর্মী ফ্লাশ করলেই মিলবে কিডনি রোগের সংকেত: টয়লেট ট্যাবলেটে যুগান্তকারী উদ্ভাবন কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এনইআইআর ইস্যুতে রাজপথে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরাপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্ট ও ডিজেলসহ ১৮ জন আটক কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি

বিশ্ব মঞ্চে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘মানবপুতুল’ নৃত্য: ওসাকা এক্সপোতে যাচ্ছে ক্ষুদে শিল্পীরা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫ ৫৯ বার পড়া হয়েছে


নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে আলোচনায় আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিশু নৃত্যশিল্পীদের ‘মানবপুতুল নাচ’ এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ আগস্ট তারা অংশ নিচ্ছে জাপানের ওসাকা এক্সপো ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যালে। এতে অংশ নিতে যাচ্ছে সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেনের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের একটি দল।

এই ব্যতিক্রমধর্মী নৃত্যকর্মের পেছনে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান ও নৃত্য প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আল সাইফুল আমীন জিয়া (জিয়া আমীন)। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া’ গানটির সঙ্গে এক অভিনব কোরিওগ্রাফি উপস্থাপন করেন। খেলনার পুতুলের অনুকরণে নৃত্য পরিবেশন করে শিশুরা যেন হয়ে ওঠে জীবন্ত মানবপুতুল। ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওটি রাতারাতি ভাইরাল হয় এবং দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।

এরপর থেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উৎসবে আমন্ত্রণ পেতে থাকেন জিয়া আমীন ও তার দল। এবার তারা যাচ্ছেন জাপানের ওসাকা শহরে, যেখানে দুই সপ্তাহব্যাপী এক্সপো উৎসবে অংশ নেবেন। শিশু শিল্পীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

নৃত্যশিল্পী আনুশকা বলেন, “জাপান যাব ভেবে খুবই ভালো লাগছে। নানা রকম নাচ পরিবেশন করব। আমরা সবাই খুব আনন্দিত।”
অভিভাবক প্রিয়াংকা সাহা বলেন, “আমার মেয়ে এতো ছোট বয়সেই বিদেশে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা নিজেরাও ওদের সঙ্গে জাপানে যাচ্ছি, আনন্দটা দ্বিগুণ।”

জিয়া আমীন বলেন, “প্রতিটি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমি চেষ্টা করব বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গৌরব যেন বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে পারি, সেই প্রচেষ্টা থাকবে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা বারী বলেন, “আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না আমাদের শিক্ষার্থীরা জাপানে যাচ্ছে। এটি শুধু আমাদের বিদ্যালয়ের নয়, গোটা জেলার জন্যই গর্বের।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা জানান, এই আয়োজন শুধু জেলা নয়, দেশের সংস্কৃতির জন্য একটি বড় গর্বের জায়গা তৈরি করেছে। এতে নতুন প্রজন্ম শেকড়ের প্রতি অনুরাগী হবে এবং নিজেদের সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব অনুভব করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্ব মঞ্চে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘মানবপুতুল’ নৃত্য: ওসাকা এক্সপোতে যাচ্ছে ক্ষুদে শিল্পীরা

আপডেট সময় : ০৭:৪৫:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫


নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে আলোচনায় আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিশু নৃত্যশিল্পীদের ‘মানবপুতুল নাচ’ এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ আগস্ট তারা অংশ নিচ্ছে জাপানের ওসাকা এক্সপো ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যালে। এতে অংশ নিতে যাচ্ছে সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেনের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের একটি দল।

এই ব্যতিক্রমধর্মী নৃত্যকর্মের পেছনে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান ও নৃত্য প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আল সাইফুল আমীন জিয়া (জিয়া আমীন)। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া’ গানটির সঙ্গে এক অভিনব কোরিওগ্রাফি উপস্থাপন করেন। খেলনার পুতুলের অনুকরণে নৃত্য পরিবেশন করে শিশুরা যেন হয়ে ওঠে জীবন্ত মানবপুতুল। ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওটি রাতারাতি ভাইরাল হয় এবং দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে।

এরপর থেকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উৎসবে আমন্ত্রণ পেতে থাকেন জিয়া আমীন ও তার দল। এবার তারা যাচ্ছেন জাপানের ওসাকা শহরে, যেখানে দুই সপ্তাহব্যাপী এক্সপো উৎসবে অংশ নেবেন। শিশু শিল্পীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

নৃত্যশিল্পী আনুশকা বলেন, “জাপান যাব ভেবে খুবই ভালো লাগছে। নানা রকম নাচ পরিবেশন করব। আমরা সবাই খুব আনন্দিত।”
অভিভাবক প্রিয়াংকা সাহা বলেন, “আমার মেয়ে এতো ছোট বয়সেই বিদেশে যাচ্ছে, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা নিজেরাও ওদের সঙ্গে জাপানে যাচ্ছি, আনন্দটা দ্বিগুণ।”

জিয়া আমীন বলেন, “প্রতিটি প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমি চেষ্টা করব বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গৌরব যেন বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে পারি, সেই প্রচেষ্টা থাকবে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা বারী বলেন, “আমার এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না আমাদের শিক্ষার্থীরা জাপানে যাচ্ছে। এটি শুধু আমাদের বিদ্যালয়ের নয়, গোটা জেলার জন্যই গর্বের।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা জানান, এই আয়োজন শুধু জেলা নয়, দেশের সংস্কৃতির জন্য একটি বড় গর্বের জায়গা তৈরি করেছে। এতে নতুন প্রজন্ম শেকড়ের প্রতি অনুরাগী হবে এবং নিজেদের সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব অনুভব করবে।