সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

চট্টগ্রামে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে তরুণীর আত্মহত্যা!

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, অভিযোগ মানসিক নির্যাতনের

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের একটি থানায় ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, হেফাজতে থাকাকালে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ওই তরুণী।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১২ জুলাই) রাতে। পুলিশ সূত্র জানায়, কোন একটি মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কারণে তরুণীকে থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে থাকাকালে তিনি হঠাৎ করেই বিষপান করেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও হেফাজতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন,

“পুলিশি হেফাজতে থাকাকালে কীভাবে বিষ খাওয়ার মতো জিনিস সঙ্গে রাখলেন ওই তরুণী?”
“নাকি বিষ সরবরাহ করা হয়েছিল, না হয় আগেই আনা হয়েছিল—পুলিশ তা জানলো না কেন?”

তরুণীর পরিবার দাবি করছে, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছিল। একপর্যায়ে অতিরিক্ত মানসিক নির্যাতনের কারণেই সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

তরুণীর ভাই বলেন,

“ওর বিরুদ্ধে কোনো বড় অভিযোগ ছিল না। অথচ পুলিশ এমনভাবে চেপে ধরেছিল, ও সহ্য করতে পারেনি।”

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন,

“হেফাজতে থাকা একজন মানুষ আত্মহত্যা করলে এর দায় পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা পুলিশের পেশাদারিত্ব ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার প্রশ্ন তোলে।”

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চট্টগ্রামে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে তরুণীর আত্মহত্যা!

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, অভিযোগ মানসিক নির্যাতনের

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের একটি থানায় ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনা জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে, হেফাজতে থাকাকালে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ওই তরুণী।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১২ জুলাই) রাতে। পুলিশ সূত্র জানায়, কোন একটি মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কারণে তরুণীকে থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে ট্রাফিক পুলিশের হেফাজতে থাকাকালে তিনি হঠাৎ করেই বিষপান করেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও হেফাজতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন,

“পুলিশি হেফাজতে থাকাকালে কীভাবে বিষ খাওয়ার মতো জিনিস সঙ্গে রাখলেন ওই তরুণী?”
“নাকি বিষ সরবরাহ করা হয়েছিল, না হয় আগেই আনা হয়েছিল—পুলিশ তা জানলো না কেন?”

তরুণীর পরিবার দাবি করছে, থানায় নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হচ্ছিল। একপর্যায়ে অতিরিক্ত মানসিক নির্যাতনের কারণেই সে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

তরুণীর ভাই বলেন,

“ওর বিরুদ্ধে কোনো বড় অভিযোগ ছিল না। অথচ পুলিশ এমনভাবে চেপে ধরেছিল, ও সহ্য করতে পারেনি।”

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন,

“হেফাজতে থাকা একজন মানুষ আত্মহত্যা করলে এর দায় পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিতে হবে। এ ধরনের ঘটনা পুলিশের পেশাদারিত্ব ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার প্রশ্ন তোলে।”

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।