সর্বশেষ
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রতিবাদী কণ্ঠ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দীনের পা ভেঙেছে, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর আজীবন সদস্য তাজুল গুরুতর অসুস্থ, দোয়ার আহ্বান রাজধানীর বকশীবাজারে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শতাধিক অসহায় মানুষের মুখে হাসিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | কামরুল ইসলাম শুভ’র জন্মদিন – কেক কাটা সম্পন্ন, বিয়ে এখনো ‘লোডিং…’! সুন্দরবনে দস্যু দমনে জিরো টলারেন্স, নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী মোঃ সুজন ঢালী প্রতিবাদী কন্ঠের আজীবন সদস্য — মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার মাদক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত প্রতিশোধ: চরফ্যাশনে কুপিয়ে হত্যা রহিম ভূট্টু বেনাপোলের মানবাধিকার নেতা মিজানুর রহমান গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, ঢাকায় চিকিৎসাধীন ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর সম্মানিত অনুদানদাতা ও আজীবন সদস্য সুমনের পিতার ইন্তেকাল

৩ হাজারের বেশি কবর খোঁড়া সেই মনু মিয়া আর নেই

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সেই মনু মিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ব্যয় করেছেন মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করতে — বিনিময়ে কিছু না চেয়েই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এই নিরহংকারী মানুষটি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন কবর খননের কাজে। জানা যায়, তিনি ৩ হাজারেরও বেশি মৃত ব্যক্তির কবর খুঁড়েছেন। অনেক সময় বিনা পারিশ্রমিকে, কখনো বা লোকজনের অনুরোধে, নিঃশব্দে তিনি কাজ করে গেছেন মানুষের জন্য।

ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কবর খননের কাজ করতেন মনু মিয়া। তাঁর পিঠে কাঁধে থাকত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মানুষ মারা গেলে পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে দাফনের সময়টুকুতে ভরসা দিতেন এই নিঃস্বার্থ মানুষটি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী, ধর্মভীরু ও আত্মত্যাগী এক ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্র। তাঁকে সবাই এক নামে চিনতেন — একজন প্রকৃত “মানবতার কর্মী” হিসেবে।

একজন যুবক বলেন, “উনার মতো মানুষ এ যুগে খুব কম দেখা যায়। নিজের জন্য কিছু করলেন না, সারা জীবন শুধু মানুষের জন্য করে গেলেন।”

তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে জানাচ্ছেন, এমন একজন গরিবের বন্ধু ও মানুষকে ভালোবাসা যিনি কাজে প্রমাণ করেছেন, তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মনু মিয়ার স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে একটি কবরস্থান বা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন — এটাই সবার কামনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩ হাজারের বেশি কবর খোঁড়া সেই মনু মিয়া আর নেই

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সেই মনু মিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ব্যয় করেছেন মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করতে — বিনিময়ে কিছু না চেয়েই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এই নিরহংকারী মানুষটি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন কবর খননের কাজে। জানা যায়, তিনি ৩ হাজারেরও বেশি মৃত ব্যক্তির কবর খুঁড়েছেন। অনেক সময় বিনা পারিশ্রমিকে, কখনো বা লোকজনের অনুরোধে, নিঃশব্দে তিনি কাজ করে গেছেন মানুষের জন্য।

ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কবর খননের কাজ করতেন মনু মিয়া। তাঁর পিঠে কাঁধে থাকত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মানুষ মারা গেলে পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে দাফনের সময়টুকুতে ভরসা দিতেন এই নিঃস্বার্থ মানুষটি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী, ধর্মভীরু ও আত্মত্যাগী এক ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্র। তাঁকে সবাই এক নামে চিনতেন — একজন প্রকৃত “মানবতার কর্মী” হিসেবে।

একজন যুবক বলেন, “উনার মতো মানুষ এ যুগে খুব কম দেখা যায়। নিজের জন্য কিছু করলেন না, সারা জীবন শুধু মানুষের জন্য করে গেলেন।”

তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে জানাচ্ছেন, এমন একজন গরিবের বন্ধু ও মানুষকে ভালোবাসা যিনি কাজে প্রমাণ করেছেন, তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মনু মিয়ার স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে একটি কবরস্থান বা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন — এটাই সবার কামনা।