সর্বশেষ
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রতিবাদী কণ্ঠ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দীনের পা ভেঙেছে, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর আজীবন সদস্য তাজুল গুরুতর অসুস্থ, দোয়ার আহ্বান রাজধানীর বকশীবাজারে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শতাধিক অসহায় মানুষের মুখে হাসিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | কামরুল ইসলাম শুভ’র জন্মদিন – কেক কাটা সম্পন্ন, বিয়ে এখনো ‘লোডিং…’! সুন্দরবনে দস্যু দমনে জিরো টলারেন্স, নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী মোঃ সুজন ঢালী প্রতিবাদী কন্ঠের আজীবন সদস্য — মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার মাদক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত প্রতিশোধ: চরফ্যাশনে কুপিয়ে হত্যা রহিম ভূট্টু বেনাপোলের মানবাধিকার নেতা মিজানুর রহমান গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, ঢাকায় চিকিৎসাধীন ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর সম্মানিত অনুদানদাতা ও আজীবন সদস্য সুমনের পিতার ইন্তেকাল

“সব দিক থেকে আগুন, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ”—বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা শিক্ষকের করুণ অভিজ্ঞতা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ৬২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।

দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ আগুন থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মাইলস্টোন কলেজের একজন শিক্ষক। ভয়াল সেই মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি এতটা হঠাৎ ঘটেছে যে কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে চারদিক ঢেকে যায়। দৃষ্টিসীমা একদম কমে আসে। আমি শুধু আগুন আর ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছিলাম।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজছিল এবং শিক্ষার্থীরা তখন গেটে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ আছড়ে পড়া বিমানের আগুন মুহূর্তেই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষকের বর্ণনায় ভয়াবহ সেই মুহূর্ত:

“আমার হাত পুড়ে গেছে, মুখ আর কান ঝলসে গেছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত পাশের ওয়াশরুমে গিয়ে একটি ভেজা কাপড় এনে নাক ঢাকি, কাছাকাছি থাকা শিক্ষার্থীদেরও একইভাবে করতে বলি। তখন অনেকের শার্টে আগুন ধরে গিয়েছিল। আমি তাদের নিচু হয়ে থাকতে বলি, যাতে ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শিক্ষক নিজে আহত হয়েও অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে তিনি বের করে আনতে সক্ষম হন। এদের একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে সিএমএইচ-এর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

“ওই শিশুটির শরীরের অনেক অংশে চামড়া উঠে গিয়েছিল,”—বলতে গিয়ে থমকে যান শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমার গায়ের কাপড় ছিঁড়ে তাকে মুড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। নিজের অসহ্য যন্ত্রণা সত্ত্বেও আমি ওদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”

এই করুণ অভিজ্ঞতা কেবল একটি মানুষের গল্প নয়—এটি একটি জাতির হৃদয়ে স্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

“সব দিক থেকে আগুন, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ”—বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা শিক্ষকের করুণ অভিজ্ঞতা

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।

দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ আগুন থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মাইলস্টোন কলেজের একজন শিক্ষক। ভয়াল সেই মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি এতটা হঠাৎ ঘটেছে যে কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে চারদিক ঢেকে যায়। দৃষ্টিসীমা একদম কমে আসে। আমি শুধু আগুন আর ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছিলাম।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজছিল এবং শিক্ষার্থীরা তখন গেটে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ আছড়ে পড়া বিমানের আগুন মুহূর্তেই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষকের বর্ণনায় ভয়াবহ সেই মুহূর্ত:

“আমার হাত পুড়ে গেছে, মুখ আর কান ঝলসে গেছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত পাশের ওয়াশরুমে গিয়ে একটি ভেজা কাপড় এনে নাক ঢাকি, কাছাকাছি থাকা শিক্ষার্থীদেরও একইভাবে করতে বলি। তখন অনেকের শার্টে আগুন ধরে গিয়েছিল। আমি তাদের নিচু হয়ে থাকতে বলি, যাতে ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শিক্ষক নিজে আহত হয়েও অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে তিনি বের করে আনতে সক্ষম হন। এদের একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে সিএমএইচ-এর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

“ওই শিশুটির শরীরের অনেক অংশে চামড়া উঠে গিয়েছিল,”—বলতে গিয়ে থমকে যান শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমার গায়ের কাপড় ছিঁড়ে তাকে মুড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। নিজের অসহ্য যন্ত্রণা সত্ত্বেও আমি ওদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”

এই করুণ অভিজ্ঞতা কেবল একটি মানুষের গল্প নয়—এটি একটি জাতির হৃদয়ে স্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।