সর্বশেষ
শিবচর বাজারে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট রোধে প্রশাসনের অভিযান। ৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%! জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য শেরপুরে বিএনপিতে যোগ দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ নেতাকর্মী ফ্লাশ করলেই মিলবে কিডনি রোগের সংকেত: টয়লেট ট্যাবলেটে যুগান্তকারী উদ্ভাবন কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এনইআইআর ইস্যুতে রাজপথে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরাপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্ট ও ডিজেলসহ ১৮ জন আটক কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি

সন্তান জন্মের দুদিন পর হাসপাতালের শয্যায় এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থী ঈশা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

সন্তান জন্মের মাত্র দুই দিন পর হাসপাতালের শয্যায় বসেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ঈশা আলম (১৯) নামের এক সাহসী শিক্ষার্থী। স্বামী ও স্বজনদের অনুপ্রেরণায় মনোবল হারাননি তিনি। গর্ভকালীন সময়েই নিয়েছিলেন পরীক্ষার প্রস্তুতি, আর সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাকে পৌঁছে দেয় পরীক্ষার হলে—যদিও সেটি ছিল একটি হাসপাতালের শয্যা।

রোববার (২৯ জুন) শরীয়তপুর শহরের নিপুণ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিকের একটি কক্ষে, বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন ঈশা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ কামাল।

জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার পশ্চিম কাশাভোগ এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান তুষারের স্ত্রী ঈশা আলম। বর্তমানে তিনি পড়াশোনা করছেন শরীয়তপুর সরকারি কলেজে। চলতি এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজ।

গত বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ প্রসব বেদনা শুরু হয়। রাতেই তাকে শহরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সফল সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান।

পরবর্তী পরীক্ষাটি ছিল রোববার। সদ্য সন্তান জন্মদানের পরপরই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ঈশার পক্ষে খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিষয়টি লিখিতভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে, আবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বোর্ডের নিয়ম অনুসরণ করে ঈশার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হাসপাতালের কক্ষে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন একজন শিক্ষিকা ও একজন নারী পুলিশ সদস্য। পরীক্ষার সময় সদ্যোজাত কন্যাসন্তানটি ছিল তার দাদির কোলে।

ঈশা বলেন, “সন্তান গর্ভে থাকতেই আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কঠিন সময় এলেও মনোবল হারাইনি। পরিবারের সহায়তা ও সাহস আমাকে পরীক্ষায় বসার শক্তি দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি মেয়ে চাইলে সবকিছু জয় করতে পারে।”

সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ কামাল বলেন, “একজন মায়ের অদম্য প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে আমরা তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা গ্রহণ করি। মানবিক বিবেচনায় আমরা চাই, সে যেন উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারে এবং দেশের একজন ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সন্তান জন্মের দুদিন পর হাসপাতালের শয্যায় এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন শিক্ষার্থী ঈশা

আপডেট সময় : ০২:৪৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

সন্তান জন্মের মাত্র দুই দিন পর হাসপাতালের শয্যায় বসেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ঈশা আলম (১৯) নামের এক সাহসী শিক্ষার্থী। স্বামী ও স্বজনদের অনুপ্রেরণায় মনোবল হারাননি তিনি। গর্ভকালীন সময়েই নিয়েছিলেন পরীক্ষার প্রস্তুতি, আর সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাকে পৌঁছে দেয় পরীক্ষার হলে—যদিও সেটি ছিল একটি হাসপাতালের শয্যা।

রোববার (২৯ জুন) শরীয়তপুর শহরের নিপুণ ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিকের একটি কক্ষে, বিশেষ ব্যবস্থায় বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন ঈশা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ কামাল।

জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার পশ্চিম কাশাভোগ এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান তুষারের স্ত্রী ঈশা আলম। বর্তমানে তিনি পড়াশোনা করছেন শরীয়তপুর সরকারি কলেজে। চলতি এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ছিল সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজ।

গত বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ প্রসব বেদনা শুরু হয়। রাতেই তাকে শহরের বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সফল সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয় একটি কন্যাসন্তান।

পরবর্তী পরীক্ষাটি ছিল রোববার। সদ্য সন্তান জন্মদানের পরপরই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ঈশার পক্ষে খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিষয়টি লিখিতভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে, আবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বোর্ডের নিয়ম অনুসরণ করে ঈশার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। হাসপাতালের কক্ষে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন একজন শিক্ষিকা ও একজন নারী পুলিশ সদস্য। পরীক্ষার সময় সদ্যোজাত কন্যাসন্তানটি ছিল তার দাদির কোলে।

ঈশা বলেন, “সন্তান গর্ভে থাকতেই আমি প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কঠিন সময় এলেও মনোবল হারাইনি। পরিবারের সহায়তা ও সাহস আমাকে পরীক্ষায় বসার শক্তি দিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি মেয়ে চাইলে সবকিছু জয় করতে পারে।”

সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ কামাল বলেন, “একজন মায়ের অদম্য প্রচেষ্টাকে সম্মান জানিয়ে আমরা তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা গ্রহণ করি। মানবিক বিবেচনায় আমরা চাই, সে যেন উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারে এবং দেশের একজন ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।”