সর্বশেষ
শার্শায় ১৮০ ভরি ওজনের ১৮টি স্বর্ণবার ও মোটরসাইকেলসহ এক চোরাচালানকারী গ্রেপ্তার শেরপুরে বিয়ের ছয় দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি আটক হয়, বরগুনায় ‘বিএসএস মহাকাশ ক্যাম্প২০২৬’-এ রাবি সায়েন্স ক্লাবের সায়েন্স শো প্রদর্শন মাদারীপুরের কালকিনিতে বাড়ি ফেরার পথে কৃষকের দুই পায়ে রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা! রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য রাজশাহীতে অফিসিয়াল ক্যাপ ও টি-শার্ট উপহার ফরিদপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান প্রদান করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী এড,কাজী আলিমুজ্জামান এমএম জামান, ময়মনসিংহে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে রেঞ্জে: ডিআইজি চৌমুহনীর গণিপুরে দোকানে অভিযান, ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক ১ ঘাটাইলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

শেরপুরে বিয়ের ছয় দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি আটক হয়,

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

 

 

হাতের মেহেদির রং এখনো মুছে যায়নি, সংসারও শুরু হয়নি ঠিকমতো। বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে নববধূ লিমা আক্তারের (২০)। বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী একরামুল (২২) ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিমা পাশের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দেনমোহরে পারিবারিকভাবে একরামুলের সঙ্গে লিমার বিয়ে হয়। গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে ফেরার পর বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র নিয়ে মনোমালিন্য হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

স্বজনদের ভাষ্য, রাত ৩টার দিকে লিমার অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁর ভগ্নিপতিকে ফোন করেন একরামুল। পরে ভোর ৪টার দিকে লিমাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।

লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মরদেহ থানায় নিয়ে যায়। স্বজনদের অভিযোগ, জিনিসপত্র নিয়ে বিরোধের জেরে লিমাকে নির্যাতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে স্বামী একরামুলের দাবি, রাতে ঘুমানোর পর মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। বাইরে গিয়ে পাশের একটি সেমিপাকা ঘরের সানশেডে ওড়না দিয়ে লিমার মরদেহ ঝুলতে দেখেন। পরে তিনি নিজেই মরদেহ নামিয়ে আনেন।

নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক আব্দুল হান্নান জানান, নববধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শেরপুরে বিয়ের ছয় দিনের মাথায় নববধূর মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি আটক হয়,

আপডেট সময় : ১২:৩৭:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

 

 

হাতের মেহেদির রং এখনো মুছে যায়নি, সংসারও শুরু হয়নি ঠিকমতো। বিয়ের মাত্র ছয় দিনের মাথায় রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে নববধূ লিমা আক্তারের (২০)। বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী একরামুল (২২) ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিমা পাশের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাঝিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর এক লাখ ৭০ হাজার টাকা দেনমোহরে পারিবারিকভাবে একরামুলের সঙ্গে লিমার বিয়ে হয়। গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। মঙ্গলবার বিকেলে শ্বশুরবাড়িতে ফেরার পর বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র নিয়ে মনোমালিন্য হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।

স্বজনদের ভাষ্য, রাত ৩টার দিকে লিমার অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁর ভগ্নিপতিকে ফোন করেন একরামুল। পরে ভোর ৪টার দিকে লিমাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।

লিমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ মরদেহ থানায় নিয়ে যায়। স্বজনদের অভিযোগ, জিনিসপত্র নিয়ে বিরোধের জেরে লিমাকে নির্যাতন করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে স্বামী একরামুলের দাবি, রাতে ঘুমানোর পর মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে দরজা খোলা দেখতে পান তিনি। বাইরে গিয়ে পাশের একটি সেমিপাকা ঘরের সানশেডে ওড়না দিয়ে লিমার মরদেহ ঝুলতে দেখেন। পরে তিনি নিজেই মরদেহ নামিয়ে আনেন।

নালিতাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক আব্দুল হান্নান জানান, নববধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।