সর্বশেষ
রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২ রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩ ভোলায় গৃহবধূকে নির্যাতন ও শাশুড়ির দোকানে অগ্নিসংযোগ, ১০ লাখ টাকা ক্ষতি, থানায় লিখিত অভিযোগ সৌদি আরবে জিয়া সংসদের ২১ সদস্যের কমিটি গঠন, আহ্বায়ক সোহেল আহমদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুজন মিয়া ও সদস্য সচিব দুলাল হোসেন নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রাচীন রামাগাড়ী কাচারীঘরের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ, বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্য ২৮ অক্টোবরে লগি-বৈঠার তাণ্ডবে খুনিদের বিচারের দাবিতে নাটোরে জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ। শেরপুরে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রবাসী নিহত, আহত ৪ জন। ওমর ফারুক কাওসারের নেতৃত্বে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা জবির নতুন প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির আহমদ শেরপুরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বিশাল সমাবেশ

রাবির উর্দু বিভাগের সভাপতিকে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

লামিছা রহমান, রাবি
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

 

 

ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম বুলবুল রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উর্দু বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌকিরের উপস্থিতি ৪৯ শতাংশ হওয়ায় তাকে ডিসকলেজিয়েট করা হয়। ফলে তার পরীক্ষার ফরম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান। এ সময় দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর সভাপতি রাজি না হওয়ায় তাকে গালাগাল ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে বুলবুলের বিরুদ্ধে।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া জনসমক্ষে তার হাত ধরে টানাটানি ও আপত্তিকর মন্তব্য করে তাকে হেনস্তা করা হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সে আমার বিভাগের সাবেক ছাত্র। আমাকে কল দিয়ে দেখা করতে বলে। তখন আমি বাসায় যাওয়ার পথে তার সঙ্গে দেখা করি। সে আমাকে বলে, তৌকির নামে একজন প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী, যার উপস্থিতির নম্বর না থাকায় ডিসকলেজিয়েট হয়েছে, তাকে ফরম পূরণের সুযোগ দিতে। আমি তাকে বলি, এটার নিয়ম নেই। তার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। একপর্যায়ে সে আমাকে গালি দিতে শুরু করে এবং আমার হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে। আমি বাইকের উপরে ছিলাম। পরে আমি ভিডিও করতে গেলে আমার মোবাইল নিয়েও টানাটানি শুরু করে। আমাকে মোনাফেক, ধর্ষকসহ নানা আজেবাজে কথা বলতে থাকে সে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার রাগটা মূলত অন্য জায়গায়। সে এই বিভাগের শিক্ষক হতে চায়। কিন্তু তার অনার্সে সিজিপিএ কম থাকায় সে আবেদন করতে পারেনি। তারপর থেকেই সে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত। এখনো পর্যন্ত সে শিক্ষক হবেই—এমন মানসিকতা পোষণ করে।’

অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দিনে দুপুরে পাবলিক প্লেসে সবার সামনে এমন আচরণ আমার জন্য খুবই লজ্জাজনক। আমি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছোটভাইয়ের হয়ে তার কাছে রিকোয়েস্ট করেছি, যেন তাকে মানবিক দিক বিবেচনা করে পরীক্ষায় বসতে দেন। সে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল যার কারণে ক্লাস করতে পারেনি। এর বাইরে আমি কিছু করিনি। এটা তো রুমের ভিতরে না সবার সামনে আমি তাকে কেন হেনস্তা করতে যাব? হেনস্তার যে অভিযোগ তিনি করেছেন, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন। উল্টো তিনি আমার সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সিরিয়াসভাবে দেখতে হবে। আমরা স্যারদের সঙ্গে কথা বলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাদের কিছু তথ্য এসেছে। এখনো সব তথ্য আমরা পাইনি। বিষয়টি আমরা দেখছি। পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাবির উর্দু বিভাগের সভাপতিকে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

 

 

ডিসকলেজিয়েট শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফরম পূরণকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম বুলবুল রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি।

বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উর্দু বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৌকিরের উপস্থিতি ৪৯ শতাংশ হওয়ায় তাকে ডিসকলেজিয়েট করা হয়। ফলে তার পরীক্ষার ফরম পূরণ ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে দেখা করেন ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান। এ সময় দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর সভাপতি রাজি না হওয়ায় তাকে গালাগাল ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে বুলবুলের বিরুদ্ধে।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া জনসমক্ষে তার হাত ধরে টানাটানি ও আপত্তিকর মন্তব্য করে তাকে হেনস্তা করা হয়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সে আমার বিভাগের সাবেক ছাত্র। আমাকে কল দিয়ে দেখা করতে বলে। তখন আমি বাসায় যাওয়ার পথে তার সঙ্গে দেখা করি। সে আমাকে বলে, তৌকির নামে একজন প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী, যার উপস্থিতির নম্বর না থাকায় ডিসকলেজিয়েট হয়েছে, তাকে ফরম পূরণের সুযোগ দিতে। আমি তাকে বলি, এটার নিয়ম নেই। তার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। একপর্যায়ে সে আমাকে গালি দিতে শুরু করে এবং আমার হাত ধরে টানাটানি করতে থাকে। আমি বাইকের উপরে ছিলাম। পরে আমি ভিডিও করতে গেলে আমার মোবাইল নিয়েও টানাটানি শুরু করে। আমাকে মোনাফেক, ধর্ষকসহ নানা আজেবাজে কথা বলতে থাকে সে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার রাগটা মূলত অন্য জায়গায়। সে এই বিভাগের শিক্ষক হতে চায়। কিন্তু তার অনার্সে সিজিপিএ কম থাকায় সে আবেদন করতে পারেনি। তারপর থেকেই সে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত। এখনো পর্যন্ত সে শিক্ষক হবেই—এমন মানসিকতা পোষণ করে।’

অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দিনে দুপুরে পাবলিক প্লেসে সবার সামনে এমন আচরণ আমার জন্য খুবই লজ্জাজনক। আমি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা বুলবুল রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছোটভাইয়ের হয়ে তার কাছে রিকোয়েস্ট করেছি, যেন তাকে মানবিক দিক বিবেচনা করে পরীক্ষায় বসতে দেন। সে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিল যার কারণে ক্লাস করতে পারেনি। এর বাইরে আমি কিছু করিনি। এটা তো রুমের ভিতরে না সবার সামনে আমি তাকে কেন হেনস্তা করতে যাব? হেনস্তার যে অভিযোগ তিনি করেছেন, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন। উল্টো তিনি আমার সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছেন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সিরিয়াসভাবে দেখতে হবে। আমরা স্যারদের সঙ্গে কথা বলে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমাদের কিছু তথ্য এসেছে। এখনো সব তথ্য আমরা পাইনি। বিষয়টি আমরা দেখছি। পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’