ভোলায় ৬ মাসের শিশুর জননীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করল পাষণ্ড স্বামী
- আপডেট সময় : ০১:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ভোলার চরফ্যাশনে বিবাহের মাত্র দুই বছরের মাথায় ফুটফুটে একটি ছয় মাসের কন্যাসন্তান থাকা সত্ত্বেও, যৌতুকের রাক্ষুসে ক্ষুধা মেটাতে এক গৃহবধূকে পশুর মতো পিটিয়ে রক্তাক্ত করার এক রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনা ঘটেছে ভোলার লালমোহনে। ৩ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে লিজা আক্তার (২০) নামে এক অসহায় গৃহবধূকে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার পাষণ্ড স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। এই পৈশাচিক ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে ভোলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং- নারী ও শিশু- ২১৯/২০২৬ ইং)। মামলার ভয়াবহতা এবং অকাট্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ আদালত লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটিকে এজাহার (FIR) হিসেবে গণ্য করে অবিলম্বে নিয়মিত মামলা রুজু করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার রোমহর্ষক আরজি ও নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শশীভূষণ থানার দক্ষিণ চরমঙ্গল গ্রামের লিজা আক্তারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় লালমোহন থানার গজারিয়া গ্রামের মৃত আঃ রব মিয়ার ছেলে মোঃ ফাহাদ (৩০)-এর। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে দিনমজুর পিতা তখন জামাতাকে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৬ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি এবং বিপুল পরিমাণ আসবাবপত্র উপহার দেন। লিজার গর্ভে ফারদিন নামে একটি ৬ মাসের পুত্রসন্তানও জন্ম নেয়। এমনকি লিজার সিজারিয়ান অপারেশনের ৩০ হাজার টাকা খরচও বহন করেন তার অসহায় পিতা! কিন্তু এখানেই শেষ নয়; ব্যবসার নাম করে শ্বশুরবাড়ি থেকে আরও ২ লক্ষ টাকা ধার নেন ফাহাদ। তবে সেই টাকা কোনো ব্যবসায় খাটানো হয়নি, বরং জুয়া খেলে এবং মাদকের নেশায় সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেয় এই কুলাঙ্গার স্বামী! টাকা শেষ হতেই ফাহাদ ও তার পরিবারের লোভী নজর পড়ে লিজার উপর। গত ২১ জুন (২০২৬) রবিবার সকাল ১১টার দিকে গজারিয়া সাকিনে আসামিদের বসতঘরে লিজার ওপর নেমে আসে নরকযন্ত্রণা। স্বামী ফাহাদ, ননদ নাছিমা (৩৫) এবং শাশুড়ি মমতাজ বেগম (৪৮) লিজাকে ঘিরে ধরে আরও ৩ লক্ষ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। লিজা আক্তার তার দিনমজুর পিতার পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ টাকা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানালে, ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আসামিরা। তারা লিজাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। অসহায় লিজা এই আচরণের প্রতিবাদ করতেই স্বামী ফাহাদসহ বাকিরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে। ৬ মাসের দুধের শিশুর কান্নার আওয়াজও গলা টিপে ধরেছিল এই লোভী দানবদের মানবতাবোধকে। এই ঘটনায় লিজা আক্তার বাদী হয়ে ভোলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১১(খ)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
























