সর্বশেষ
শিবচর বাজারে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট রোধে প্রশাসনের অভিযান। ৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%! জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য শেরপুরে বিএনপিতে যোগ দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ নেতাকর্মী ফ্লাশ করলেই মিলবে কিডনি রোগের সংকেত: টয়লেট ট্যাবলেটে যুগান্তকারী উদ্ভাবন কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এনইআইআর ইস্যুতে রাজপথে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরাপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্ট ও ডিজেলসহ ১৮ জন আটক কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি

কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান

মো: আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে


খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই দেশের বাজারে এলপি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দাম বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। পুরোপুরি কারসাজির মাধ্যমে এলপি গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে।”
তিনি জানান, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলেই এই কারসাজিতে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।
ফাওজুল কবির খান বলেন, “যেসব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব দোকান কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “কারসাজির সঙ্গে জড়িত অনেককেই ইতোমধ্যে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এই কার্যক্রম তিন স্তরে পরিচালিত হচ্ছে—জেলা প্রশাসন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং পুলিশ একযোগে কাজ করছে।”
দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করবে জানিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “আমরা বিভিন্ন জায়গায় লোক পাঠাবো। যেকোনো মূল্যে দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কেউ ব্যবসা করতে পারবে না।”
এ সময় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কেউ এ কারসাজির সঙ্গে জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
এলপি গ্যাসের বাজার কাঠামো প্রসঙ্গে ফাওজুল কবির খান বলেন, “সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। সরকারের অংশ মাত্র ২ শতাংশ। ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে উৎপাদিত কিছু প্রোপেন ও বিউটেন দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার করা হয়।”
বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের নিজস্ব উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানিও করা হচ্ছে। তবে শীতকালে গ্যাসের পাইপলাইনে কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়। বিদেশে এসব পাইপলাইন উত্তপ্ত রাখার ব্যবস্থা থাকলেও দেশে এখনো সে ধরনের অবকাঠামো নেই, যা সংকটের একটি কারণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান

আপডেট সময় : ১২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬


খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই দেশের বাজারে এলপি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দাম বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। পুরোপুরি কারসাজির মাধ্যমে এলপি গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে।”
তিনি জানান, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলেই এই কারসাজিতে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।
ফাওজুল কবির খান বলেন, “যেসব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যেসব দোকান কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “কারসাজির সঙ্গে জড়িত অনেককেই ইতোমধ্যে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। এই কার্যক্রম তিন স্তরে পরিচালিত হচ্ছে—জেলা প্রশাসন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং পুলিশ একযোগে কাজ করছে।”
দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করবে জানিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “আমরা বিভিন্ন জায়গায় লোক পাঠাবো। যেকোনো মূল্যে দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কেউ ব্যবসা করতে পারবে না।”
এ সময় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কেউ এ কারসাজির সঙ্গে জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
এলপি গ্যাসের বাজার কাঠামো প্রসঙ্গে ফাওজুল কবির খান বলেন, “সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। সরকারের অংশ মাত্র ২ শতাংশ। ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে উৎপাদিত কিছু প্রোপেন ও বিউটেন দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার করা হয়।”
বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের নিজস্ব উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানিও করা হচ্ছে। তবে শীতকালে গ্যাসের পাইপলাইনে কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়। বিদেশে এসব পাইপলাইন উত্তপ্ত রাখার ব্যবস্থা থাকলেও দেশে এখনো সে ধরনের অবকাঠামো নেই, যা সংকটের একটি কারণ।