কাজীপুরে যমুনার গর্ভে অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি
- আপডেট সময় : ০৩:১৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
যমুনা বিধৌত সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা। পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা আর পশ্চিম পাশ দিয়ে গেছে ইছামতি নদী। প্রতি বছরই যমুনা নদীর ভাঙ্গনে ছোট হচ্ছে কাজীপুরের মানচিত্র। ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারাচ্ছেন নদী পারের মানুষেরা। প্রতি বছরের ন্যায় চলতি বছরেও বর্ষায় মৌসুমের শেষে শুরু হয়েছে যমুনার ভাঙন। এই নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে অন্তত অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি। ভিটেমাটি হারাচ্ছেন মানুষ। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্ৰামীণ সড়ক, ব্রিজ, বসতবাড়িসহ বহু স্থাপনা।স্থানীয়দের অভিযোগ, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। এতে নদীতে ভাঙন তীব্র হচ্ছে। এছাড়া নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ না করার ফলে নদীতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ঠেকাতে শুষ্ক মৌসুমে নদীর সংরক্ষণের কোনো পদক্ষেপ নেয় না পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টরা। ফলে প্রতি বছরই যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি।চলতি বছর গত আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলার চরাঞ্চলের চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্ৰামসহ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে প্রায় ২০ বিঘা তিন ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলেও তারা ভাঙন রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিরাজগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্ব পাশে ঘেষে রয়েছে যমুনা নদী। আর পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতি নদী। ফলে নদী ভাঙ্গন এ উপজেলার মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, চরাঞ্চলের খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর, চরগিরিশ ইউনিয়ন ও নদী তীরবর্তী মাইজবাড়ী, কাজীপুর, গান্ধাইল ও শুভগাছা ইউনিয়ন হওয়ায় প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দেয়। এই দশটি ইউনিয়ন প্রতি বছরই কম বেশি ভাঙন দেখা যায়। সরেজমিনে গত ২৪ সেপ্টেম্বর চরাঞ্চলের চরগিরিশ ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায় প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যমুনার ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনে প্রায় ২০ বিঘা তিন ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কৃষকরা নদীর তীরে বসে তাদের হারানো ফসলি জমির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ভাঙনে প্রায় ২০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কিন্তু ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি প্রাথমিকভাবে ভাঙন ঠেকাতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হয়নি। ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে যমুনা পারের মানুষের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়েছে। ভেটুয়া গ্ৰামের বাসিন্দা আজিবার আলী বলেন, নদীতে অবৈধভাবে বালু কেটে গর্ত করার কারণে আমাদের জমিজমা ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। আমার সাত পাখি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ বছর আমি কোনো ফসল আবাদ করতে পারিনি। সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া পাওয়া একটাই নদীটা তারা স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করে দিক। তাতে আমাদের জমিজমা ঠেকে থাকলে আমরা বেঁচে যাব। নতুন মাইজবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নদীতে ১৩ বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙতে ভাঙতে আমরা এখন পঙ্গু হয়ে গেছি। আমাদের চলার মতো এখন কোনো পরিস্থিতি নেই। এবছরই আমার ২ পাখি জমি নদীতে চলে গেছে। এরকম ভাবে নিজের আবাদি জমি চোখের সামনে নদীতে চলে গেলে আমরা কিভাবে বাঁচব। এখন সরকারের কাছে আমাদের দাবি অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধ করুন। বিলচতল গ্ৰামের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, অবৈধভাবে নদীতে বালু কাটার কারণে মাটি নিচ থেকে টিল হয়ে যায়। ফলে মাটি নিচ থেকে আলগা হয়ে গেলে স্রোত এসে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এই চর টুকুই আমাদের শেষ সম্বল। এখানে আমরা চাষাবাদ ও গরুছাগল চড়াতাম। এটা ভেঙে গেলে আমরা নিরুপায়।এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নিবার্হী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কাজীপুর যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যে ভাঙন রয়েছে সে বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্ৰহণের জন্য আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সরেজমিনে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্ৰহণ করব















