সর্বশেষ
শার্শার বিশেষ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে আলোকিত নারী সংস্থার শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বেনাপোলে নাশকতা মামলায় পৌর ছাত্রলীগ নেতাসহ দুই আঃলীগ কর্মী আটক বেনাপোল পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত শার্শার বেনাপোল দিয়ে ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ২ তরুণী কাজিপুরে থানা চত্বরে মদসহ গ্রেফতার ১ জন পুলিশের পৃথক চলমান অভিযানে শার্শা ও ডিহি থেকে গাঁজা-ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার নেত্রকোণায় নাজু হত্যায় নুরুল আমিনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শার্শা থানা পুলিশ শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাবেক দুই মেম্বারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার শেরপুরের পাহাড়-বনের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক

কয়েকটি লিচুর মূল্য কি একটি শিশুর সম্মানের চেয়েও বেশি?

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার শিবগঞ্জে মানবতাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন!
বগুড়ার শিবগঞ্জে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। কয়েকটি লিচুর অভিযোগে মাত্র ১১ বছরের এক শিশুকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শিশুটির গলায় “চোর” লিখে অপমানের তকমাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এ কোন সমাজে আমরা বাস করছি?
ক্ষুধার্ত একটি শিশু যদি কয়েকটি ফল পাড়তে যায়, তাহলে তার বিচার কি এভাবেই হবে? দেশে কি আইন নেই? আদালত নেই? নাকি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেরাই বিচারক, নিজেরাই জল্লাদ?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অসহায় শিশুটি কান্নাকাটি করে বারবার নিজের নির্দোষিতা দাবি করছে। কিন্তু তার কান্না নির্যাতনকারীদের হৃদয় গলাতে পারেনি। বরং তারা একটি অবুঝ শিশুর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনকে বিনোদনে পরিণত করেছে।
এই ঘটনা শুধু একটি শিশুর ওপর নির্যাতন নয়; এটি মানবতা, বিবেক এবং শিশু অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। যারা একটি শিশুকে গাছে বেঁধে অপমান করতে পারে, তারা সমাজের জন্য কতটা ভয়ঙ্কর—তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্যাতিত শিশুর চিকিৎসা, পরিবারকে সহায়তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।
তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—ভিডিও ভাইরাল না হলে কি এই শিশুটি ন্যায়বিচার পেত? কত শত কাওছার প্রতিদিন নীরবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যাদের আর্তনাদ ক্যামেরাবন্দী হয় না?
প্রতিবাদী কণ্ঠ মনে করে, ক্ষুধা কোনো অপরাধ নয়। অপরাধ হলো ক্ষমতার দম্ভে একটি শিশুর সম্মান কেড়ে নেওয়া।
আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একইসঙ্গে রাষ্ট্র, সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—আর কোনো শিশুকে যেন কয়েকটি ফলের জন্য অপমান, নির্যাতন কিংবা মানবেতর আচরণের শিকার হতে না হয়।
একটি সভ্য সমাজের পরিচয় তার শিশুদের প্রতি আচরণে। শিবগঞ্জের এই ঘটনা আমাদের সেই সভ্যতার আয়নায় একটি লজ্জাজনক দাগ হয়ে রইল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কয়েকটি লিচুর মূল্য কি একটি শিশুর সম্মানের চেয়েও বেশি?

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বগুড়ার শিবগঞ্জে মানবতাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন!
বগুড়ার শিবগঞ্জে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়া দিয়েছে। কয়েকটি লিচুর অভিযোগে মাত্র ১১ বছরের এক শিশুকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, শিশুটির গলায় “চোর” লিখে অপমানের তকমাও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে—এ কোন সমাজে আমরা বাস করছি?
ক্ষুধার্ত একটি শিশু যদি কয়েকটি ফল পাড়তে যায়, তাহলে তার বিচার কি এভাবেই হবে? দেশে কি আইন নেই? আদালত নেই? নাকি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেরাই বিচারক, নিজেরাই জল্লাদ?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অসহায় শিশুটি কান্নাকাটি করে বারবার নিজের নির্দোষিতা দাবি করছে। কিন্তু তার কান্না নির্যাতনকারীদের হৃদয় গলাতে পারেনি। বরং তারা একটি অবুঝ শিশুর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনকে বিনোদনে পরিণত করেছে।
এই ঘটনা শুধু একটি শিশুর ওপর নির্যাতন নয়; এটি মানবতা, বিবেক এবং শিশু অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। যারা একটি শিশুকে গাছে বেঁধে অপমান করতে পারে, তারা সমাজের জন্য কতটা ভয়ঙ্কর—তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্যাতিত শিশুর চিকিৎসা, পরিবারকে সহায়তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।
তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—ভিডিও ভাইরাল না হলে কি এই শিশুটি ন্যায়বিচার পেত? কত শত কাওছার প্রতিদিন নীরবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যাদের আর্তনাদ ক্যামেরাবন্দী হয় না?
প্রতিবাদী কণ্ঠ মনে করে, ক্ষুধা কোনো অপরাধ নয়। অপরাধ হলো ক্ষমতার দম্ভে একটি শিশুর সম্মান কেড়ে নেওয়া।
আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। একইসঙ্গে রাষ্ট্র, সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—আর কোনো শিশুকে যেন কয়েকটি ফলের জন্য অপমান, নির্যাতন কিংবা মানবেতর আচরণের শিকার হতে না হয়।
একটি সভ্য সমাজের পরিচয় তার শিশুদের প্রতি আচরণে। শিবগঞ্জের এই ঘটনা আমাদের সেই সভ্যতার আয়নায় একটি লজ্জাজনক দাগ হয়ে রইল।