সর্বশেষ
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রতিবাদী কণ্ঠ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দীনের পা ভেঙেছে, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর আজীবন সদস্য তাজুল গুরুতর অসুস্থ, দোয়ার আহ্বান রাজধানীর বকশীবাজারে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শতাধিক অসহায় মানুষের মুখে হাসিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | কামরুল ইসলাম শুভ’র জন্মদিন – কেক কাটা সম্পন্ন, বিয়ে এখনো ‘লোডিং…’! সুন্দরবনে দস্যু দমনে জিরো টলারেন্স, নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী মোঃ সুজন ঢালী প্রতিবাদী কন্ঠের আজীবন সদস্য — মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার মাদক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত প্রতিশোধ: চরফ্যাশনে কুপিয়ে হত্যা রহিম ভূট্টু বেনাপোলের মানবাধিকার নেতা মিজানুর রহমান গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, ঢাকায় চিকিৎসাধীন ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর সম্মানিত অনুদানদাতা ও আজীবন সদস্য সুমনের পিতার ইন্তেকাল

ইবি শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম স্থায়ীভাবে বরখাস্ত, আনন্দে মুখর শিক্ষার্থীরা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫ ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির খবরে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। যৌন হয়রানি, সমকামিতার প্রস্তাব, ফল জালিয়াতি, হুমকি ও মানসিক নির্যাতনসহ ২৭টি গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রশাসন তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলমান আন্দোলনের পর অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ হওয়ায় মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিভাগের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আনন্দ মিছিল করেন। দুপুরে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান ও হাততালির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “এটি কেবল একটি জয় নয়, আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতি। আমরা একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষা পরিবেশ ফিরে পেয়েছি।”

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা ২৭টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে নামে। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাকে এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এতে শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্ট হয়ে স্থায়ী শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়।

শেষপর্যন্ত চলতি বছরের ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলাবিধির ৪(১)(এফ) ধারা অনুযায়ী হাফিজুল ইসলামকে ৩১ মে ২০২৫ থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষায়, “এটা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির অপসারণ নয়— এটি আমাদের বিভাগের পবিত্রতা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রতীক।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইবি শিক্ষক হাফিজুল ইসলাম স্থায়ীভাবে বরখাস্ত, আনন্দে মুখর শিক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির খবরে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। যৌন হয়রানি, সমকামিতার প্রস্তাব, ফল জালিয়াতি, হুমকি ও মানসিক নির্যাতনসহ ২৭টি গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রশাসন তদন্ত শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলমান আন্দোলনের পর অবশেষে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ হওয়ায় মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিভাগের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আনন্দ মিছিল করেন। দুপুরে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের সামনে থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা নানা স্লোগান ও হাততালির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাহসী সিদ্ধান্তের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “এটি কেবল একটি জয় নয়, আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতি। আমরা একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক শিক্ষা পরিবেশ ফিরে পেয়েছি।”

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা ২৭টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে নামে। তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাকে এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এতে শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্ট হয়ে স্থায়ী শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায়।

শেষপর্যন্ত চলতি বছরের ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী দক্ষতা ও শৃঙ্খলাবিধির ৪(১)(এফ) ধারা অনুযায়ী হাফিজুল ইসলামকে ৩১ মে ২০২৫ থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষায়, “এটা শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির অপসারণ নয়— এটি আমাদের বিভাগের পবিত্রতা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রতীক।”