সর্বশেষ
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রতিবাদী কণ্ঠ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দীনের পা ভেঙেছে, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর আজীবন সদস্য তাজুল গুরুতর অসুস্থ, দোয়ার আহ্বান রাজধানীর বকশীবাজারে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শতাধিক অসহায় মানুষের মুখে হাসিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | কামরুল ইসলাম শুভ’র জন্মদিন – কেক কাটা সম্পন্ন, বিয়ে এখনো ‘লোডিং…’! সুন্দরবনে দস্যু দমনে জিরো টলারেন্স, নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী মোঃ সুজন ঢালী প্রতিবাদী কন্ঠের আজীবন সদস্য — মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার মাদক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত প্রতিশোধ: চরফ্যাশনে কুপিয়ে হত্যা রহিম ভূট্টু বেনাপোলের মানবাধিকার নেতা মিজানুর রহমান গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, ঢাকায় চিকিৎসাধীন ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর সম্মানিত অনুদানদাতা ও আজীবন সদস্য সুমনের পিতার ইন্তেকাল

আহত শিশুদের জন্য রক্তদানে মানুষের ঢল, ও নেগেটিভ রক্তদাতাদের উপস্থিতি বেশি

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভিড় করছেন রক্তদাতা সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছেন শুধুমাত্র রক্ত দেওয়ার জন্য।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে সরেজমিনে বার্ন ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা ইনস্টিটিউট চত্বরে রক্তদাতাদের নাম, রক্তের গ্রুপ ও যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করছেন। রক্ত দেওয়ার জন্য প্রস্তুত অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

রোভার স্কাউট সদস্য মো. হাসান জানান, “আমরা এখন রক্তদাতাদের তালিকা করছি। ৮ম তলার ব্লাড ব্যাংক থেকে সংকেত পেলেই একে একে রক্ত নেওয়া শুরু হবে। আশা করছি, এক ঘণ্টার মধ্যে বুথ চালু হয়ে যাবে।”

এদিকে রক্তদাতাদের মধ্যে নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপধারীদের সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। ও নেগেটিভ রক্তের একজন দাতা বলেন, “আমার গ্রুপ ‘ও নেগেটিভ’। শুনলাম এই গ্রুপের রক্ত দরকার, তাই দেরি না করে চলে এসেছি। শিশুগুলো যেন সুস্থ হয়ে ওঠে, এই প্রার্থনাতেই রক্ত দিতে এসেছি।”

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা একজন তরুণ বলেন, “রক্তের জন্য কেউ কষ্টে থাকবে, আর আমরা নিশ্চিন্তে বসে থাকব—এটা হতে পারে না। তাই ছুটে এসেছি।”

নারীরাও রক্তদানে পিছিয়ে নেই। কেরানীগঞ্জ থেকে আসা এক নারী জানান, “আমি এবং আমার এক আত্মীয় রক্ত দিতে এসেছি। আরও কয়েকজন আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। আমরা চাই, আহত শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক।”

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত পর্যাপ্ত রক্তের মজুত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কোনো গ্রুপে ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।

দেশজুড়ে এই মানবিক সহানুভূতির ঢল আমাদের সমাজের সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আহত শিশুদের জন্য রক্তদানে মানুষের ঢল, ও নেগেটিভ রক্তদাতাদের উপস্থিতি বেশি

আপডেট সময় : ০৮:৩১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভিড় করছেন রক্তদাতা সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছেন শুধুমাত্র রক্ত দেওয়ার জন্য।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে সরেজমিনে বার্ন ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা ইনস্টিটিউট চত্বরে রক্তদাতাদের নাম, রক্তের গ্রুপ ও যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করছেন। রক্ত দেওয়ার জন্য প্রস্তুত অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

রোভার স্কাউট সদস্য মো. হাসান জানান, “আমরা এখন রক্তদাতাদের তালিকা করছি। ৮ম তলার ব্লাড ব্যাংক থেকে সংকেত পেলেই একে একে রক্ত নেওয়া শুরু হবে। আশা করছি, এক ঘণ্টার মধ্যে বুথ চালু হয়ে যাবে।”

এদিকে রক্তদাতাদের মধ্যে নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপধারীদের সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। ও নেগেটিভ রক্তের একজন দাতা বলেন, “আমার গ্রুপ ‘ও নেগেটিভ’। শুনলাম এই গ্রুপের রক্ত দরকার, তাই দেরি না করে চলে এসেছি। শিশুগুলো যেন সুস্থ হয়ে ওঠে, এই প্রার্থনাতেই রক্ত দিতে এসেছি।”

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা একজন তরুণ বলেন, “রক্তের জন্য কেউ কষ্টে থাকবে, আর আমরা নিশ্চিন্তে বসে থাকব—এটা হতে পারে না। তাই ছুটে এসেছি।”

নারীরাও রক্তদানে পিছিয়ে নেই। কেরানীগঞ্জ থেকে আসা এক নারী জানান, “আমি এবং আমার এক আত্মীয় রক্ত দিতে এসেছি। আরও কয়েকজন আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। আমরা চাই, আহত শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক।”

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত পর্যাপ্ত রক্তের মজুত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কোনো গ্রুপে ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।

দেশজুড়ে এই মানবিক সহানুভূতির ঢল আমাদের সমাজের সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।