DESCO কর্মকর্তা মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগটাকা না দিলে আবেদন বাতিলের হুমকি
- আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০ বার পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি : মোঃ আজিম মিঞা
ঢাকা | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানি লিমিটেড (DESCO)-এর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি করে সরকারি সেবা আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম মোজাম্মেল। তিনি বর্তমানে মিরপুর–১১, পল্লবী DESCO অফিসে কর্মরত বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাঁর বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ লাইনে অতিরিক্ত চাপ পড়লেই বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল। কেতলি ও রাইস কুকারের মতো স্বাভাবিক গৃহস্থালি যন্ত্র ব্যবহার করলেই বিদ্যুৎ চলে যেত।
বিদ্যুৎ লাইনের এই সমস্যার সমাধান পেতে ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট DESCO অফিসে আবেদন করতে যান। সেখান থেকেই শুরু হয় অভিযোগের সূত্রপাত।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল প্রথমে জানান, আবেদন করলেই ওয়াট বৃদ্ধি করে দেওয়া সম্ভব। তবে পরে সুযোগ বুঝে অফিসের বাইরে ডেকে নিয়ে তিনি বলেন,
সরকারি কোনো কাজ ফ্রিতে হয় না। উপরের মহল টাকা ছাড়া কাজ করে না।
এ সময় তিনি স্পষ্টভাবে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং বলেন, টাকা না দিলে যতবারই আবেদন করা হোক, সব আবেদন বাতিল করে দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ সময় তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও মানসিক চাপের মুখে ফেলা হয়।
ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগী একজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য সংবাদকর্মী নিজেই ভুক্তভোগী সেজে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অভিযুক্ত কর্মকর্তা সরাসরি আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কথা বলেন এবং জানান, আমাকে টাকা দিন, কাজ হয়ে যাবে।
অডিও–ভিডিও ও বিকাশ লেনদেনের প্রমাণ
সংবাদকর্মী পুরো কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও রেকর্ড সংগ্রহ করেন। তথ্যপ্রমাণ নিশ্চিত করতে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়, যার ডিজিটাল লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।
সংগ্রহ করা প্রমাণে দেখা যায়—
সরকারি কাজ আটকে রেখে ঘুষ দাবি
আবেদন রিজেক্ট করার হুমকি
মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ
সংবাদকর্মীর কাছে একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক গ্রাহকের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি , অভিযুক্ত কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ–সংক্রান্ত সেবা দিতে ঘুষ দাবি করে আসছেন। এতে সাধারণ গ্রাহকরা নিয়মিত হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ একটি মৌলিক সেবা উল্লেখ করে ভুক্তভোগীরা বলছেন, এ ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রমাণসহ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সাধারণ মানুষ।



















