সর্বশেষ
শিবচর বাজারে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট রোধে প্রশাসনের অভিযান। ৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%! জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য শেরপুরে বিএনপিতে যোগ দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ নেতাকর্মী ফ্লাশ করলেই মিলবে কিডনি রোগের সংকেত: টয়লেট ট্যাবলেটে যুগান্তকারী উদ্ভাবন কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এনইআইআর ইস্যুতে রাজপথে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরাপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্ট ও ডিজেলসহ ১৮ জন আটক কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি

৯ মাস ২০ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন — বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ শাওনের ময়নাতদন্ত

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে


ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের সাহসী তরুণ মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন শাওন।
আজ, দীর্ঘ ৯ মাস ২০ দিন পর আদালতের নির্দেশে তাঁর লা/শ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২4 সালের শেষভাগে, রাজধানী ঢাকায় চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন শাওন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে একটি ব্যানার হাতে ফ্লাইওভারের উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ শুরু হয় গুলিচালনা।
একটি গু*লি এসে বিদ্ধ করে শাওনের বুক—স্থানেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।

পরিবারের বক্তব্য
শাওনের বাবা আব্দুর রহিম বলেন,
“আমার ছেলে কোনো দাঙ্গাবাজ ছিল না। ওর একটাই অপরাধ—ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল। আমি শুধু চাই, যার হাতে ও মারা গেছে, সে যেন বিচার থেকে না বাঁচে।”

মা রওশন আরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“প্রতিদিন ছেলের কবরের পাশে বসে কাঁদতাম। আজ মনে হচ্ছে, ছেলের আত্মা বলছে—’মা, এবার সত্যি সামনে আসবে’।”

মানবাধিকারকর্মীদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবভয়েস’ এর কর্মকর্তা আফরোজা ইসলাম বলেন,
“একজন নিরস্ত্র তরুণকে গুলি করে হত্যা করা শুধু আইন নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ। শাওন শুধু একজন শহীদ না, সে বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশের প্রতীক হয়ে থাকবে।”

প্রতিবাদী কণ্ঠের অবস্থান
আমরা বিশ্বাস করি, সত্য কখনো মুছে ফেলা যায় না। শাওনের রক্তভেজা শহরের রাজপথ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—এই রাষ্ট্রে এখনো বিচার পাওয়ার জন্য কবর খুঁড়তে হয়।
এই অন্যায়ের বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও শাওন জন্মাবে, প্রতিবাদ করবে, শহীদ হবে।

আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি—

দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করে হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে।

শহীদ শাওনের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

নিরাপদ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে সবার জন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৯ মাস ২০ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন — বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ শাওনের ময়নাতদন্ত

আপডেট সময় : ০২:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ মে ২০২৫


ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের সাহসী তরুণ মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন শাওন।
আজ, দীর্ঘ ৯ মাস ২০ দিন পর আদালতের নির্দেশে তাঁর লা/শ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২4 সালের শেষভাগে, রাজধানী ঢাকায় চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন শাওন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে একটি ব্যানার হাতে ফ্লাইওভারের উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ শুরু হয় গুলিচালনা।
একটি গু*লি এসে বিদ্ধ করে শাওনের বুক—স্থানেই লুটিয়ে পড়েন তিনি।

পরিবারের বক্তব্য
শাওনের বাবা আব্দুর রহিম বলেন,
“আমার ছেলে কোনো দাঙ্গাবাজ ছিল না। ওর একটাই অপরাধ—ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল। আমি শুধু চাই, যার হাতে ও মারা গেছে, সে যেন বিচার থেকে না বাঁচে।”

মা রওশন আরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“প্রতিদিন ছেলের কবরের পাশে বসে কাঁদতাম। আজ মনে হচ্ছে, ছেলের আত্মা বলছে—’মা, এবার সত্যি সামনে আসবে’।”

মানবাধিকারকর্মীদের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবভয়েস’ এর কর্মকর্তা আফরোজা ইসলাম বলেন,
“একজন নিরস্ত্র তরুণকে গুলি করে হত্যা করা শুধু আইন নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ। শাওন শুধু একজন শহীদ না, সে বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশের প্রতীক হয়ে থাকবে।”

প্রতিবাদী কণ্ঠের অবস্থান
আমরা বিশ্বাস করি, সত্য কখনো মুছে ফেলা যায় না। শাওনের রক্তভেজা শহরের রাজপথ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—এই রাষ্ট্রে এখনো বিচার পাওয়ার জন্য কবর খুঁড়তে হয়।
এই অন্যায়ের বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও শাওন জন্মাবে, প্রতিবাদ করবে, শহীদ হবে।

আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি—

দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করে হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার ও বিচার করতে হবে।

শহীদ শাওনের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

নিরাপদ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে সবার জন্য।