সর্বশেষ
নালিতাবাড়ীতে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে ধরা,পলাতক মুদি দোকানদার আজিম মিঞার প্রতিবাদমূলক পোস্টে বিতর্কিত মন্তব্য, আলোচনায় পারি ফাউন্ডেশনের ফিরোজ আহমেদ পলাশ জামায়েতে ইসলামি যুব বিভাগ নালিতাবাড়ী শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য যুব র‍্যালি অনুষ্ঠিত ব্রাক্ষ্মণ পাড়া থানার ভয়ঙ্কর মাদক স্পটের নেতৃত্বে চৌকিদার শাহীন শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি এসএসসি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা ১০ বছরের শিশু অপহরণের পরের দিনই উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাপাহারে গাছের চারা বিতরণ সাপাহারে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশের পর জামিনে মুক্ত সাংবাদিক রেজানুর ইসলাম

এনামুল হক রাশেদীঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কারাবন্দী দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন–এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

রোববার (২১ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ (সদর আমলি আদালত) এর বিচারক মেহেদী হাসান তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আদালতের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম।

রেজানুর ইসলামের আইনজীবী তানজীম আল মিসবাহ জানান, জামিন আবেদন দাখিলের পর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব আদালতকে অবহিত করেন যে, ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল এবং ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় বাদীপক্ষও আসামির জামিনের পক্ষে মতামত প্রদান করে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলেও এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলেন না এবং মামলার সঙ্গে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততাও ছিল না। তিনি ইতোমধ্যে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর নাম ব্যবহার করে বা তাঁর পক্ষে দাবি করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিক রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁর নির্দেশনায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আপস-মীমাংসা হওয়ায় জামিনের পথ সুগম হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে প্রধান বিচারিক হাকিম আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে গত বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানায় রেজানুর ইসলামসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন স্থানীয় দৈনিক মহাস্থান পত্রিকার সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম।

এদিকে, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ করেছেন যে, প্রতিমন্ত্রীর অগোচরে তাঁর সম্মান রক্ষার নামে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা মিডিয়া অঙ্গনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে নিন্দা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়, পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

তবে মামলাটি ভিত্তিহীন ছিল কি না বা এর পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ কাজ করেছে কি না—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সত্য নির্ধারিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশের পর জামিনে মুক্ত সাংবাদিক রেজানুর ইসলাম

আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কারাবন্দী দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন–এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

রোববার (২১ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ (সদর আমলি আদালত) এর বিচারক মেহেদী হাসান তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আদালতের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম।

রেজানুর ইসলামের আইনজীবী তানজীম আল মিসবাহ জানান, জামিন আবেদন দাখিলের পর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব আদালতকে অবহিত করেন যে, ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল এবং ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় বাদীপক্ষও আসামির জামিনের পক্ষে মতামত প্রদান করে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলেও এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলেন না এবং মামলার সঙ্গে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততাও ছিল না। তিনি ইতোমধ্যে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর নাম ব্যবহার করে বা তাঁর পক্ষে দাবি করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিক রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁর নির্দেশনায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আপস-মীমাংসা হওয়ায় জামিনের পথ সুগম হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে প্রধান বিচারিক হাকিম আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে গত বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানায় রেজানুর ইসলামসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন স্থানীয় দৈনিক মহাস্থান পত্রিকার সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম।

এদিকে, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ করেছেন যে, প্রতিমন্ত্রীর অগোচরে তাঁর সম্মান রক্ষার নামে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা মিডিয়া অঙ্গনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে নিন্দা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়, পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

তবে মামলাটি ভিত্তিহীন ছিল কি না বা এর পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ কাজ করেছে কি না—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সত্য নির্ধারিত হবে।