সর্বশেষ
শার্শার বিশেষ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে আলোকিত নারী সংস্থার শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বেনাপোলে নাশকতা মামলায় পৌর ছাত্রলীগ নেতাসহ দুই আঃলীগ কর্মী আটক বেনাপোল পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত শার্শার বেনাপোল দিয়ে ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ২ তরুণী কাজিপুরে থানা চত্বরে মদসহ গ্রেফতার ১ জন পুলিশের পৃথক চলমান অভিযানে শার্শা ও ডিহি থেকে গাঁজা-ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার নেত্রকোণায় নাজু হত্যায় নুরুল আমিনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শার্শা থানা পুলিশ শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাবেক দুই মেম্বারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার শেরপুরের পাহাড়-বনের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক

প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশের পর জামিনে মুক্ত সাংবাদিক রেজানুর ইসলাম

এনামুল হক রাশেদীঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কারাবন্দী দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন–এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

রোববার (২১ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ (সদর আমলি আদালত) এর বিচারক মেহেদী হাসান তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আদালতের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম।

রেজানুর ইসলামের আইনজীবী তানজীম আল মিসবাহ জানান, জামিন আবেদন দাখিলের পর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব আদালতকে অবহিত করেন যে, ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল এবং ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় বাদীপক্ষও আসামির জামিনের পক্ষে মতামত প্রদান করে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলেও এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলেন না এবং মামলার সঙ্গে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততাও ছিল না। তিনি ইতোমধ্যে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর নাম ব্যবহার করে বা তাঁর পক্ষে দাবি করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিক রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁর নির্দেশনায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আপস-মীমাংসা হওয়ায় জামিনের পথ সুগম হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে প্রধান বিচারিক হাকিম আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে গত বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানায় রেজানুর ইসলামসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন স্থানীয় দৈনিক মহাস্থান পত্রিকার সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম।

এদিকে, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ করেছেন যে, প্রতিমন্ত্রীর অগোচরে তাঁর সম্মান রক্ষার নামে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা মিডিয়া অঙ্গনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে নিন্দা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়, পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

তবে মামলাটি ভিত্তিহীন ছিল কি না বা এর পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ কাজ করেছে কি না—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সত্য নির্ধারিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশের পর জামিনে মুক্ত সাংবাদিক রেজানুর ইসলাম

আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কারাবন্দী দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন–এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

রোববার (২১ জুন) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ (সদর আমলি আদালত) এর বিচারক মেহেদী হাসান তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া আদালতের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম।

রেজানুর ইসলামের আইনজীবী তানজীম আল মিসবাহ জানান, জামিন আবেদন দাখিলের পর আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব আদালতকে অবহিত করেন যে, ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলাটির সূত্রপাত হয়েছিল এবং ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় বাদীপক্ষও আসামির জামিনের পক্ষে মতামত প্রদান করে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব বলেন, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হলেও এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলেন না এবং মামলার সঙ্গে তাঁর কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততাও ছিল না। তিনি ইতোমধ্যে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর নাম ব্যবহার করে বা তাঁর পক্ষে দাবি করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন।

তিনি আরও জানান, সাংবাদিক রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁর নির্দেশনায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আপস-মীমাংসা হওয়ায় জামিনের পথ সুগম হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে প্রধান বিচারিক হাকিম আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচার এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে গত বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানায় রেজানুর ইসলামসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন স্থানীয় দৈনিক মহাস্থান পত্রিকার সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম।

এদিকে, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ করেছেন যে, প্রতিমন্ত্রীর অগোচরে তাঁর সম্মান রক্ষার নামে একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনা মিডিয়া অঙ্গনে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রেজানুর ইসলামের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে নিন্দা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়, পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

তবে মামলাটি ভিত্তিহীন ছিল কি না বা এর পেছনে ব্যক্তিস্বার্থ কাজ করেছে কি না—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সত্য নির্ধারিত হবে।