সর্বশেষ
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বছরের পর বছর চলছে নরোত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়! অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার কর্তৃক ত্রিশাল সার্কেল অফিস পরিদর্শন তালতলীতে রাতের আঁধারে যোগাযোগ সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ, দুর্ভোগে ১২ টি পরিবার চাঞ্চল্যকর চিরিরবন্দর জোড়া হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ৬৪ জেলায় লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: মোবাইল বন্ধ, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গায়েব, ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ চর মানিকার মানুষের প্রত্যাশার নাম আবুল বশার হেলালী সাবেক স্বামীকে বয়ফ্রেন্ডের মাধ্যমে জিম্মি করে ৪ লাখ টাকা দাবি, মুন্সীগঞ্জের তরুণীসহ গ্রেপ্তার ৫ সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত রোটারি ক্লাবের গোল্ড প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন জেনিথ লাইফের সিইও এস এম নুরুজ্জামান আসন্ন ২য় বিভাগ ফুটবল লীগ ২০২৬–২৭ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে বল বিতরণ

প্রতিবন্ধীদের নামে কোটি টাকার ঋণ! প্রতারণার শিকার দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারী শারমিন হক

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা থেকে
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা শারমিন হক—একজন দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারী। মানুষের অবয়ব তিনি ঝাপসা দেখতে পান, শুনতেও পারেন না ঠিকমতো। জীবনে কখনো একটি টাকার নোটও স্পষ্টভাবে দেখেননি তিনি। অথচ হঠাৎ করেই তার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন—একটি মামলার নোটিশ।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, একটি ব্যাংক থেকে তিনি ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন এবং তা পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে—যে নারী নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপনই কষ্টসাধ্য, তিনি কীভাবে কোটি টাকার ঋণ নিলেন?
ঘটনার অনুসন্ধানে সাটুরিয়ায় গিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে শারমিন হকের মতো আরও বেশ কয়েকজন দৃষ্টি, শ্রবণ বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে, যাদের নামে কোটি কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি এনজিও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এসব ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করে। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে তাদের অজান্তেই ব্যাংক থেকে বিপুল অংকের ঋণ উত্তোলন করা হয়।
এই প্রতারণার ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে শারমিন হকের ব্যক্তিগত জীবনেও। সম্প্রতি তিনি জানান, ঋণের দায়ভার মাথায় আসার পর তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন। এমনকি কোনো ধরনের ভরণপোষণও দিচ্ছেন না। বর্তমানে ৮ বছরের একটি সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
শারমিন হকের মতো অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর সঙ্গে এমন প্রতারণা মানবিকতা ও আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়—বরং একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দেয়, যারা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। একই সঙ্গে শারমিন হকসহ ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠন শারমিন হককে আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, যাতে তিনি অন্যায়ভাবে কারাবরণ না করেন।
প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই দেশের আইনে কি শারমিনদের জন্য ন্যায়বিচার আছে, নাকি তাদের অপেক্ষা করতে হবে কেবল নিয়তির বিচারের জন্য

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রতিবন্ধীদের নামে কোটি টাকার ঋণ! প্রতারণার শিকার দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারী শারমিন হক

আপডেট সময় : ০৫:২১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা শারমিন হক—একজন দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারী। মানুষের অবয়ব তিনি ঝাপসা দেখতে পান, শুনতেও পারেন না ঠিকমতো। জীবনে কখনো একটি টাকার নোটও স্পষ্টভাবে দেখেননি তিনি। অথচ হঠাৎ করেই তার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন—একটি মামলার নোটিশ।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, একটি ব্যাংক থেকে তিনি ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন এবং তা পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে—যে নারী নিজের দৈনন্দিন জীবনযাপনই কষ্টসাধ্য, তিনি কীভাবে কোটি টাকার ঋণ নিলেন?
ঘটনার অনুসন্ধানে সাটুরিয়ায় গিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সেখানে শারমিন হকের মতো আরও বেশ কয়েকজন দৃষ্টি, শ্রবণ বা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে, যাদের নামে কোটি কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি এনজিও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এসব ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করে। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে তাদের অজান্তেই ব্যাংক থেকে বিপুল অংকের ঋণ উত্তোলন করা হয়।
এই প্রতারণার ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে শারমিন হকের ব্যক্তিগত জীবনেও। সম্প্রতি তিনি জানান, ঋণের দায়ভার মাথায় আসার পর তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছেন। এমনকি কোনো ধরনের ভরণপোষণও দিচ্ছেন না। বর্তমানে ৮ বছরের একটি সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
শারমিন হকের মতো অসহায় প্রতিবন্ধী নারীর সঙ্গে এমন প্রতারণা মানবিকতা ও আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়—বরং একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের ইঙ্গিত দেয়, যারা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। একই সঙ্গে শারমিন হকসহ ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে স্থানীয়ভাবে কিছু ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠন শারমিন হককে আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন, যাতে তিনি অন্যায়ভাবে কারাবরণ না করেন।
প্রশ্ন রয়ে গেছে—এই দেশের আইনে কি শারমিনদের জন্য ন্যায়বিচার আছে, নাকি তাদের অপেক্ষা করতে হবে কেবল নিয়তির বিচারের জন্য