সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য

মো: আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৯৪ বার পড়া হয়েছে


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা ও মিরপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তার নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেই রাজধানীর পল্টনে হাদির মাথায় গুলি চালানো হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। একই দিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণেই পরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
ডিবি জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক খুব কাছ থেকে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেশে আনা হয় মরদেহ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
হাদির মৃত্যুর পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।
ডিবির মন্তব্য
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত। নির্দেশদাতা থেকে শুরু করে সরাসরি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০১:১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা ও মিরপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তার নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেই রাজধানীর পল্টনে হাদির মাথায় গুলি চালানো হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। একই দিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণেই পরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
ডিবি জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক খুব কাছ থেকে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেশে আনা হয় মরদেহ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
হাদির মৃত্যুর পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।
ডিবির মন্তব্য
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত। নির্দেশদাতা থেকে শুরু করে সরাসরি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।