শোকের মধ্যেই কচাকাটা থানায় খাসি জবাই ও ভূরিভোজের অভিযোগ, সমালোচনার মুখে ওসি
- আপডেট সময় : ০২:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানায় খাসি জবাই করে ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণের অভিযোগ উঠেছে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) শোক চলাকালীন সময়ে থানায় এ আয়োজন করা হয়। ওই দিনের কিছু খণ্ডচিত্র থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও কনস্টেবলরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এসআই ফাইসাল তার ফেসবুক প্রোফাইলে খাসি জবাইয়ের একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন— “২০২৬ সালকে বরণ করতে প্রস্তুতি চলছে।”
অন্য একটি পোস্টে থানার ওসি সোয়েল রানা ও এসআই ইব্রাহিমের খাবার গ্রহণের ছবি দিয়ে লেখা হয়— “কচাকাটা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মহোদয়।” একই ধরনের পোস্ট আরও একজন কনস্টেবলকেও দিতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই স্থানীয় জাতীয় পার্টির ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে থানায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা ও মিষ্টিমুখ করেন ওসি। জানা যায়, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা প্রায় ৫ কেজি মিষ্টি নিয়ে থানায় আসেন এবং তা বিতরণ করা হয়, যা নিয়েও সমালোচনা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন। বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মাইদুল ইসলাম বলেন,
“রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে কচাকাটা থানায় খাসি জবাই করে ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে—এতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। খবর পেয়ে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চার ইউনিয়নের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি।”
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির কচাকাটা ইউনিয়নের নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন দাবি করেন,
“জাতীয় পার্টির প্রার্থীর গণসংযোগ বিষয়ে অবহিত করতে আমরা ওসির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। এ সময় বলদিয়া ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক কয়েক কেজি মিষ্টি নিয়ে আসেন।”
বিএনপির কেদার ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন,
“দেশনেত্রীকে হারিয়ে যখন সারা দেশের মানুষ শোকাহত, তখন কচাকাটা থানায় ওসিসহ কর্মকর্তারা ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে এই থানায় অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানিয়েছি এবং এর প্রতিকার দাবি করছি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা বলেন,
“থানায় কোনো পার্টি বা ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়নি। থানার মেসে প্রতি মাসের শেষ দিনে নিয়মিতভাবেই এমন খাবারের আয়োজন থাকে। থার্টি ফার্স্ট নাইট বা নববর্ষ উপলক্ষে কোনো অনুষ্ঠান করা হয়নি।”
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী–কচাকাটা সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাইলে আমি এটাকে আরও ঝাঁঝালো/এক্সপোজিং টোনে, বা একদম নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভাষায়, অথবা আপনার অনলাইন পোর্টাল প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর স্টাইল অনুযায়ীও সাজিয়ে দিতে পারি।


















