সর্বশেষ
লালমনিরহাটে উজ্জল মিয়ার হত্যার বিচার ও প্রধান আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন কবিতা— অর্ধাঙ্গিনী কবি—এম, এইচ রশিদ নরোত্তমপুরে ফেক আইডি ও অপপ্রচারের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক। যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি গাইবান্ধায় জমি দখল নিয়ে নৃশংস হামলা: নারীসহ আহত ৩, ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ বেনাপোলের সাংবাদিক বাংলা টিভির প্রতিনিধি সেন্টু’র ওপর সন্ত্রাসী হামলা বীরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ফেক আইডির আড়ালে অপপ্রচার: মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে কার স্বার্থ রক্ষা? কাজিপুরে মডেল বিদ্যালয় চালান ১ জন শিক্ষক! নেত্রকোনায় সম্মিলিত মানবাধিকার জোটের সাংগঠনিক উন্নয়ন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বিয়ে ছিল ফাঁদ! ৮ স্বামীকে ফাঁসিয়ে কোটি টাকা হাতানো সামিরা নবম বিয়ের আগেই গ্রেপ্তার

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

পেশায় একসময় ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা, কিন্তু সেই পরিচয়কে ব্যবহার করে ‘বিয়ের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকার প্রতারক’ হয়ে ওঠেন সামিরা ফাতিমা। প্রেম, বিশ্বাস আর বিয়ের আবরণে প্রতারণা চালিয়ে কমপক্ষে ৮ জন পুরুষের জীবন থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। নবম বিয়ের পরিকল্পনা চলছিল পুরোদমে—ঠিক তখনই হাতেনাতে ধরা পড়লেন পুলিশের জালে।

গত ২৯ জুলাই ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে সামিরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

১৫ বছর ধরে চলা প্রতারণার জাল

নাগপুর পুলিশ জানায়, গত দেড় দশক ধরে সামিরা ফাতিমা প্রেমের অভিনয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও সামাজিক সম্মানকে ঢাল করে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। এ পর্যন্ত তার ৮টি বিয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। প্রতিটি বিয়েই ছিল তার সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ।

টার্গেট করতেন ধনী মুসলিম পুরুষ

সামিরা মূলত আর্থিকভাবে সচ্ছল, প্রবাসী বা ব্যবসায়ী মুসলিম পুরুষদের টার্গেট করতেন। ঘটকালির ওয়েবসাইট, ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে নিজেকে ডিভোর্সি ও সন্তানের মা বলে পরিচয় দিতেন। আবেগঘন গল্পে মন গলিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সামিরার নিজস্ব একটি সহযোগী চক্র ছিল, যারা পাত্র বাছাই থেকে শুরু করে যোগাযোগ, প্রাথমিক সম্পর্ক গড়া, এমনকি বিয়ের আয়োজনেও সহায়তা করত। বিয়ের পর শুরু হতো মূল কৌশল—আইনগত পদক্ষেপ, সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়।

ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে ফাঁস প্রতারণা

সাম্প্রতিক সময়ে দুইজন ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন।

এক ভুক্তভোগী জানান, বিয়ের পর সামিরা তাকে ছেড়ে চলে যান এবং পরে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে ৫০ লাখ টাকা আদায় করেন।

অন্য একজন জানান, সামিরা তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নাগপুর পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত সামিরাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

তদন্তে আরও চমকপ্রদ তথ্যের আশঙ্কা

নাগপুর পুলিশ জানায়, সামিরার সঙ্গে প্রতারণা চক্রে আর কারা জড়িত, কতজনকে এভাবে শিকার করা হয়েছে—সবই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


সংক্ষিপ্তভাবে শিরোনামের বিকল্প:

‘বিয়ে’ ছিল ব্যবসা! নবমবারের আগেই ধরা সামিরা

৮ স্বামী, কোটি টাকার প্রতারণা: গ্রেপ্তার সামিরা

ঘটকালি ওয়েবসাইটে শিকার খুঁজতেন সামিরা, ফাঁদে ৮ পুরুষ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিয়ে ছিল ফাঁদ! ৮ স্বামীকে ফাঁসিয়ে কোটি টাকা হাতানো সামিরা নবম বিয়ের আগেই গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

পেশায় একসময় ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা, কিন্তু সেই পরিচয়কে ব্যবহার করে ‘বিয়ের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকার প্রতারক’ হয়ে ওঠেন সামিরা ফাতিমা। প্রেম, বিশ্বাস আর বিয়ের আবরণে প্রতারণা চালিয়ে কমপক্ষে ৮ জন পুরুষের জীবন থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। নবম বিয়ের পরিকল্পনা চলছিল পুরোদমে—ঠিক তখনই হাতেনাতে ধরা পড়লেন পুলিশের জালে।

গত ২৯ জুলাই ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে সামিরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

১৫ বছর ধরে চলা প্রতারণার জাল

নাগপুর পুলিশ জানায়, গত দেড় দশক ধরে সামিরা ফাতিমা প্রেমের অভিনয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও সামাজিক সম্মানকে ঢাল করে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। এ পর্যন্ত তার ৮টি বিয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। প্রতিটি বিয়েই ছিল তার সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ।

টার্গেট করতেন ধনী মুসলিম পুরুষ

সামিরা মূলত আর্থিকভাবে সচ্ছল, প্রবাসী বা ব্যবসায়ী মুসলিম পুরুষদের টার্গেট করতেন। ঘটকালির ওয়েবসাইট, ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে নিজেকে ডিভোর্সি ও সন্তানের মা বলে পরিচয় দিতেন। আবেগঘন গল্পে মন গলিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সামিরার নিজস্ব একটি সহযোগী চক্র ছিল, যারা পাত্র বাছাই থেকে শুরু করে যোগাযোগ, প্রাথমিক সম্পর্ক গড়া, এমনকি বিয়ের আয়োজনেও সহায়তা করত। বিয়ের পর শুরু হতো মূল কৌশল—আইনগত পদক্ষেপ, সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়।

ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে ফাঁস প্রতারণা

সাম্প্রতিক সময়ে দুইজন ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন।

এক ভুক্তভোগী জানান, বিয়ের পর সামিরা তাকে ছেড়ে চলে যান এবং পরে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে ৫০ লাখ টাকা আদায় করেন।

অন্য একজন জানান, সামিরা তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নাগপুর পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত সামিরাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

তদন্তে আরও চমকপ্রদ তথ্যের আশঙ্কা

নাগপুর পুলিশ জানায়, সামিরার সঙ্গে প্রতারণা চক্রে আর কারা জড়িত, কতজনকে এভাবে শিকার করা হয়েছে—সবই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


সংক্ষিপ্তভাবে শিরোনামের বিকল্প:

‘বিয়ে’ ছিল ব্যবসা! নবমবারের আগেই ধরা সামিরা

৮ স্বামী, কোটি টাকার প্রতারণা: গ্রেপ্তার সামিরা

ঘটকালি ওয়েবসাইটে শিকার খুঁজতেন সামিরা, ফাঁদে ৮ পুরুষ