সর্বশেষ
চারঘাটে ৬০ গ্রাম হেরোইনসহ ২ জন গ্রেফতার গফরগাঁওয়ে বাংলাদেশ ছাত্র শিবির কর্তৃক কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শার্শায় প্রস্তুতিমূলক সভা, ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ঢাকা চকবাজারের বিশিষ্ট খেলনা ব্যবসায়ী পিন্টু আহমেদের পিত্তস্থলীতে পাথর অপারেশন আজ, সবার কাছে দোয়া কামনা কাচপুরের হাজী গরিবুল্লাহ রেস্তোরাঁয় খাবারের মান নিয়ে সাংবাদিকদের অসন্তোষ জমি নিয়ে বিরোধ: এক পক্ষকে কোপানোর পর অন্য পক্ষের বাড়িঘরে লুট নালিতাবাড়ীতে যুবককে অটোতে তুলে নিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ‘রিপোর্টার্স প্রেসক্লাব গাইবান্ধা’র আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দ কাজিপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিপদসংকুল আচরণের অভিযোগ

চাঁদাবাজির অভিযোগে রিয়াদ গ্রেপ্তার, বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫ ১০৩ বার পড়া হয়েছে


ঢাকার গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্যের বাসা থেকে চাঁদা আদায়ের সময় ধরা পড়া ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান (রিয়াদ)-এর বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ। রিয়াদের রিমান্ডে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর নাখালপাড়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে এই চেকটি উদ্ধার করা হয়, যেটি আগামী ২ আগস্টে ক্যাশ হওয়ার কথা ছিল।

বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি জানান, গুলশানে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে এই বিপুল অঙ্কের চেকের সন্ধান মেলে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি নতুন মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে ধরা ৫ জন
গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যার পর গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডের একটি বাসায় ১০ লাখ টাকা আদায়ের পর আরও ৪০ লাখ টাকা চাঁদা নিতে গিয়ে পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন:

মো. সাকাদাউন সিয়াম (২২)

সাদমান সাদাব (২১), নাটোরের লালপুরের বাসিন্দা

মো. আমিনুল ইসলাম (১৩), বাড্ডা আলাতুন্নেছা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র

ইব্রাহীম হোসেন মুন্না (২৪), চাঁদপুরের রামদাসদী গ্রামের বাসিন্দা

আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ (২৫), নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা

তাদের মধ্যে রিয়াদ ধানমন্ডির নিউ মডেল এলাকায় বসবাস করেন। ইব্রাহীম হোসেন ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক। গ্রেপ্তারের পর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি তিনজনকে বহিষ্কার করে এবং দেশের সব জেলা কমিটি স্থগিত ঘোষণা করে।

রিমান্ড ও মামলার অগ্রগতি
চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া চারজন হলেন:

রিয়াদ (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক)

ইব্রাহীম হোসেন মুন্না

সাকাদাউন সিয়াম

সাদমান সাদাব

চাঁদাবাজির পটভূমি
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৭ জুলাই সকাল ১০টায় রিয়াদ ও এক সহযোগী গুলশানে সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় যান। সেখানে তারা ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করে ভয়ভীতি দেখান। পরে ৫ লাখ টাকা নগদ ও আরও ৫ লাখ টাকা ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে তাদের দেন বাসার সদস্য সিদ্দিক আবু জাফর।

এরপর ১৯ জুলাই আবারো রাতে বাসায় এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভয় দেখান রিয়াদ ও তার দল। পরে ২৬ জুলাই বিকেলে আবার এসে বাকি ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং না দিলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। গুলশান থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য অভিযুক্ত অপু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

শেষ কথা
এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঁদাবাজির অভিযোগে রিয়াদ গ্রেপ্তার, বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৮:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫


ঢাকার গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্যের বাসা থেকে চাঁদা আদায়ের সময় ধরা পড়া ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান (রিয়াদ)-এর বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ। রিয়াদের রিমান্ডে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর নাখালপাড়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে এই চেকটি উদ্ধার করা হয়, যেটি আগামী ২ আগস্টে ক্যাশ হওয়ার কথা ছিল।

বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি জানান, গুলশানে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে এই বিপুল অঙ্কের চেকের সন্ধান মেলে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি নতুন মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে ধরা ৫ জন
গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যার পর গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডের একটি বাসায় ১০ লাখ টাকা আদায়ের পর আরও ৪০ লাখ টাকা চাঁদা নিতে গিয়ে পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন:

মো. সাকাদাউন সিয়াম (২২)

সাদমান সাদাব (২১), নাটোরের লালপুরের বাসিন্দা

মো. আমিনুল ইসলাম (১৩), বাড্ডা আলাতুন্নেছা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র

ইব্রাহীম হোসেন মুন্না (২৪), চাঁদপুরের রামদাসদী গ্রামের বাসিন্দা

আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ (২৫), নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা

তাদের মধ্যে রিয়াদ ধানমন্ডির নিউ মডেল এলাকায় বসবাস করেন। ইব্রাহীম হোসেন ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক। গ্রেপ্তারের পর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি তিনজনকে বহিষ্কার করে এবং দেশের সব জেলা কমিটি স্থগিত ঘোষণা করে।

রিমান্ড ও মামলার অগ্রগতি
চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া চারজন হলেন:

রিয়াদ (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক)

ইব্রাহীম হোসেন মুন্না

সাকাদাউন সিয়াম

সাদমান সাদাব

চাঁদাবাজির পটভূমি
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৭ জুলাই সকাল ১০টায় রিয়াদ ও এক সহযোগী গুলশানে সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় যান। সেখানে তারা ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করে ভয়ভীতি দেখান। পরে ৫ লাখ টাকা নগদ ও আরও ৫ লাখ টাকা ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে তাদের দেন বাসার সদস্য সিদ্দিক আবু জাফর।

এরপর ১৯ জুলাই আবারো রাতে বাসায় এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভয় দেখান রিয়াদ ও তার দল। পরে ২৬ জুলাই বিকেলে আবার এসে বাকি ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং না দিলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। গুলশান থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য অভিযুক্ত অপু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

শেষ কথা
এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।