সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

চাঁদাবাজির অভিযোগে রিয়াদ গ্রেপ্তার, বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫ ১০৯ বার পড়া হয়েছে


ঢাকার গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্যের বাসা থেকে চাঁদা আদায়ের সময় ধরা পড়া ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান (রিয়াদ)-এর বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ। রিয়াদের রিমান্ডে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর নাখালপাড়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে এই চেকটি উদ্ধার করা হয়, যেটি আগামী ২ আগস্টে ক্যাশ হওয়ার কথা ছিল।

বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি জানান, গুলশানে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে এই বিপুল অঙ্কের চেকের সন্ধান মেলে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি নতুন মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে ধরা ৫ জন
গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যার পর গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডের একটি বাসায় ১০ লাখ টাকা আদায়ের পর আরও ৪০ লাখ টাকা চাঁদা নিতে গিয়ে পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন:

মো. সাকাদাউন সিয়াম (২২)

সাদমান সাদাব (২১), নাটোরের লালপুরের বাসিন্দা

মো. আমিনুল ইসলাম (১৩), বাড্ডা আলাতুন্নেছা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র

ইব্রাহীম হোসেন মুন্না (২৪), চাঁদপুরের রামদাসদী গ্রামের বাসিন্দা

আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ (২৫), নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা

তাদের মধ্যে রিয়াদ ধানমন্ডির নিউ মডেল এলাকায় বসবাস করেন। ইব্রাহীম হোসেন ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক। গ্রেপ্তারের পর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি তিনজনকে বহিষ্কার করে এবং দেশের সব জেলা কমিটি স্থগিত ঘোষণা করে।

রিমান্ড ও মামলার অগ্রগতি
চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া চারজন হলেন:

রিয়াদ (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক)

ইব্রাহীম হোসেন মুন্না

সাকাদাউন সিয়াম

সাদমান সাদাব

চাঁদাবাজির পটভূমি
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৭ জুলাই সকাল ১০টায় রিয়াদ ও এক সহযোগী গুলশানে সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় যান। সেখানে তারা ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করে ভয়ভীতি দেখান। পরে ৫ লাখ টাকা নগদ ও আরও ৫ লাখ টাকা ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে তাদের দেন বাসার সদস্য সিদ্দিক আবু জাফর।

এরপর ১৯ জুলাই আবারো রাতে বাসায় এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভয় দেখান রিয়াদ ও তার দল। পরে ২৬ জুলাই বিকেলে আবার এসে বাকি ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং না দিলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। গুলশান থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য অভিযুক্ত অপু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

শেষ কথা
এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঁদাবাজির অভিযোগে রিয়াদ গ্রেপ্তার, বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চেক উদ্ধার

আপডেট সময় : ০৮:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫


ঢাকার গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্যের বাসা থেকে চাঁদা আদায়ের সময় ধরা পড়া ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান (রিয়াদ)-এর বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ। রিয়াদের রিমান্ডে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর নাখালপাড়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে এই চেকটি উদ্ধার করা হয়, যেটি আগামী ২ আগস্টে ক্যাশ হওয়ার কথা ছিল।

বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। তিনি জানান, গুলশানে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে এই বিপুল অঙ্কের চেকের সন্ধান মেলে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি নতুন মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে ধরা ৫ জন
গত ২৬ জুলাই সন্ধ্যার পর গুলশানের ৮৩ নম্বর রোডের একটি বাসায় ১০ লাখ টাকা আদায়ের পর আরও ৪০ লাখ টাকা চাঁদা নিতে গিয়ে পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। তারা হলেন:

মো. সাকাদাউন সিয়াম (২২)

সাদমান সাদাব (২১), নাটোরের লালপুরের বাসিন্দা

মো. আমিনুল ইসলাম (১৩), বাড্ডা আলাতুন্নেছা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র

ইব্রাহীম হোসেন মুন্না (২৪), চাঁদপুরের রামদাসদী গ্রামের বাসিন্দা

আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ (২৫), নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বাসিন্দা

তাদের মধ্যে রিয়াদ ধানমন্ডির নিউ মডেল এলাকায় বসবাস করেন। ইব্রাহীম হোসেন ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক। গ্রেপ্তারের পর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি তিনজনকে বহিষ্কার করে এবং দেশের সব জেলা কমিটি স্থগিত ঘোষণা করে।

রিমান্ড ও মামলার অগ্রগতি
চাঁদাবাজির অভিযোগে গুলশান থানায় দায়ের হওয়া মামলায় চারজনকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে যাওয়া চারজন হলেন:

রিয়াদ (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক)

ইব্রাহীম হোসেন মুন্না

সাকাদাউন সিয়াম

সাদমান সাদাব

চাঁদাবাজির পটভূমি
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৭ জুলাই সকাল ১০টায় রিয়াদ ও এক সহযোগী গুলশানে সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় যান। সেখানে তারা ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার দাবি করে ভয়ভীতি দেখান। পরে ৫ লাখ টাকা নগদ ও আরও ৫ লাখ টাকা ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে তাদের দেন বাসার সদস্য সিদ্দিক আবু জাফর।

এরপর ১৯ জুলাই আবারো রাতে বাসায় এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভয় দেখান রিয়াদ ও তার দল। পরে ২৬ জুলাই বিকেলে আবার এসে বাকি ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং না দিলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। গুলশান থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য অভিযুক্ত অপু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

শেষ কথা
এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।