সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

সাতকানিয়ায় অপূর্ণ ব্রিজ পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের আশঙ্কা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫ ১৫৫ বার পড়া হয়েছে


দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম মাদার্শা ইউনিয়নের পাহাড়ঘেঁষা জনপদে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে শুধু নিরাপদ যাতায়াতই নয়, কৃষি ও পর্যটনের সম্ভাবনাও উন্মোচিত হতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এখন তা পরিণত হয়েছে অপরাধীদের আড্ডাস্থলে, পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীর আমলে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। তবে কিছু অংশ শেষ না হতেই হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখান থেকে ইতোমধ্যেই মূল্যবান অনেক উপকরণ চুরি হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাতে ব্রিজ এলাকার পরিবেশ হয়ে ওঠে জনশূন্য ও অন্ধকার। এই সুযোগে মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও অপরাধীরা সেখানে নিরাপদে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। গরু পালনকারী কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা নিজের চোখে সেখানে রাতে মিটিমিটি আলো দেখতে পান এবং অপরিচিত লোকজনের চলাফেরা লক্ষ্য করেন।

এছাড়াও, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধীরাও এই নির্জন এলাকায় লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করলে ওই পাহাড়ি জনপদের কৃষকরা সহজে ফসল বাজারে আনতে পারবে, যা স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়া, গরু পালনকারীরাও তাদের পশুর নিরাপদ চলাচলের জন্য ভালো রাস্তা পাবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দেউদিঘি থেকে প্রায় তিন-চার কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ব্রিজটি চালু হলে পুরো অঞ্চল বদলে যাবে। কৃষি, পশু পালন, এমনকি পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এখন তা পরিণত হয়েছে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে।”

অবিলম্বে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাতকানিয়ায় অপূর্ণ ব্রিজ পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫


দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম মাদার্শা ইউনিয়নের পাহাড়ঘেঁষা জনপদে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে শুধু নিরাপদ যাতায়াতই নয়, কৃষি ও পর্যটনের সম্ভাবনাও উন্মোচিত হতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এখন তা পরিণত হয়েছে অপরাধীদের আড্ডাস্থলে, পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীর আমলে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। তবে কিছু অংশ শেষ না হতেই হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখান থেকে ইতোমধ্যেই মূল্যবান অনেক উপকরণ চুরি হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাতে ব্রিজ এলাকার পরিবেশ হয়ে ওঠে জনশূন্য ও অন্ধকার। এই সুযোগে মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও অপরাধীরা সেখানে নিরাপদে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। গরু পালনকারী কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা নিজের চোখে সেখানে রাতে মিটিমিটি আলো দেখতে পান এবং অপরিচিত লোকজনের চলাফেরা লক্ষ্য করেন।

এছাড়াও, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধীরাও এই নির্জন এলাকায় লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করলে ওই পাহাড়ি জনপদের কৃষকরা সহজে ফসল বাজারে আনতে পারবে, যা স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়া, গরু পালনকারীরাও তাদের পশুর নিরাপদ চলাচলের জন্য ভালো রাস্তা পাবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দেউদিঘি থেকে প্রায় তিন-চার কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ব্রিজটি চালু হলে পুরো অঞ্চল বদলে যাবে। কৃষি, পশু পালন, এমনকি পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এখন তা পরিণত হয়েছে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে।”

অবিলম্বে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।