সর্বশেষ
শিবচর বাজারে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট রোধে প্রশাসনের অভিযান। ৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%! জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য শেরপুরে বিএনপিতে যোগ দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ নেতাকর্মী ফ্লাশ করলেই মিলবে কিডনি রোগের সংকেত: টয়লেট ট্যাবলেটে যুগান্তকারী উদ্ভাবন কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এনইআইআর ইস্যুতে রাজপথে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরাপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্ট ও ডিজেলসহ ১৮ জন আটক কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি

সাতকানিয়ায় অপূর্ণ ব্রিজ পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের আশঙ্কা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫ ৫৯ বার পড়া হয়েছে


দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম মাদার্শা ইউনিয়নের পাহাড়ঘেঁষা জনপদে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে শুধু নিরাপদ যাতায়াতই নয়, কৃষি ও পর্যটনের সম্ভাবনাও উন্মোচিত হতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এখন তা পরিণত হয়েছে অপরাধীদের আড্ডাস্থলে, পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীর আমলে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। তবে কিছু অংশ শেষ না হতেই হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখান থেকে ইতোমধ্যেই মূল্যবান অনেক উপকরণ চুরি হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাতে ব্রিজ এলাকার পরিবেশ হয়ে ওঠে জনশূন্য ও অন্ধকার। এই সুযোগে মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও অপরাধীরা সেখানে নিরাপদে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। গরু পালনকারী কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা নিজের চোখে সেখানে রাতে মিটিমিটি আলো দেখতে পান এবং অপরিচিত লোকজনের চলাফেরা লক্ষ্য করেন।

এছাড়াও, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধীরাও এই নির্জন এলাকায় লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করলে ওই পাহাড়ি জনপদের কৃষকরা সহজে ফসল বাজারে আনতে পারবে, যা স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়া, গরু পালনকারীরাও তাদের পশুর নিরাপদ চলাচলের জন্য ভালো রাস্তা পাবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দেউদিঘি থেকে প্রায় তিন-চার কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ব্রিজটি চালু হলে পুরো অঞ্চল বদলে যাবে। কৃষি, পশু পালন, এমনকি পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এখন তা পরিণত হয়েছে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে।”

অবিলম্বে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাতকানিয়ায় অপূর্ণ ব্রিজ পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়ের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫


দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম মাদার্শা ইউনিয়নের পাহাড়ঘেঁষা জনপদে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ব্রিজটি সম্পূর্ণভাবে চালু হলে শুধু নিরাপদ যাতায়াতই নয়, কৃষি ও পর্যটনের সম্ভাবনাও উন্মোচিত হতে পারে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় এখন তা পরিণত হয়েছে অপরাধীদের আড্ডাস্থলে, পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীর আমলে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। তবে কিছু অংশ শেষ না হতেই হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজটির রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখান থেকে ইতোমধ্যেই মূল্যবান অনেক উপকরণ চুরি হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাতে ব্রিজ এলাকার পরিবেশ হয়ে ওঠে জনশূন্য ও অন্ধকার। এই সুযোগে মাদকসেবী, জুয়াড়ি ও অপরাধীরা সেখানে নিরাপদে তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। গরু পালনকারী কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা নিজের চোখে সেখানে রাতে মিটিমিটি আলো দেখতে পান এবং অপরিচিত লোকজনের চলাফেরা লক্ষ্য করেন।

এছাড়াও, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধীরাও এই নির্জন এলাকায় লুকিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর দাবি, এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করলে ওই পাহাড়ি জনপদের কৃষকরা সহজে ফসল বাজারে আনতে পারবে, যা স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। এছাড়া, গরু পালনকারীরাও তাদের পশুর নিরাপদ চলাচলের জন্য ভালো রাস্তা পাবে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দেউদিঘি থেকে প্রায় তিন-চার কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ব্রিজটি চালু হলে পুরো অঞ্চল বদলে যাবে। কৃষি, পশু পালন, এমনকি পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এখন তা পরিণত হয়েছে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে।”

অবিলম্বে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।