সর্বশেষ
মোবাইল_কোর্ট পরিচালনা করে ইয়াবা সেবনকারীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড আইজিপির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ সালথায় পলাতক মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার: ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তারেক অবশেষে পুলিশের জালে এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রেস্তোরা সমিতির সভাপতি গাজী ওসমান গনি সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের ‘অভয়ারণ্য’—দুর্নীতি, ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতা গাইবান্ধায় কালোবাজারি তেলের কারবারে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা—এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে জোরালো যৌথ অভিযান প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি লিজের জমি দখল, ঘর নির্মাণে বাড়ছে উত্তেজনা পহেলা বৈশাখে প্রীতিভোজে অংশ নিলেন চকবাজার থানার ওয়ার্ড ২৯-এর কাউন্সিলর প্রার্থী জননেতা হাজী টিপু সুলতান এক বিয়েতে দুই কাবিননামা! নীলফামারীতে কাজীর কারসাজি ফাঁস, জেলহাজতে প্রেরণ

মুন্সীগঞ্জে যমজ কন্যাশিশু হত্যা: স্বামীকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজের দায় স্বীকার করলেন মা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৪:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার এক বিলের পানিতে পাওয়া গেল মাত্র পাঁচ মাস বয়সী যমজ দুই কন্যাশিশুর মরদেহ। এই বিভীষিকাময় ঘটনার পেছনে ছিল তাঁদের জন্মদাত্রী মায়েরই নির্মম সিদ্ধান্ত। পুলিশের তদন্ত শেষে বুধবার (৯ জুলাই) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন শান্তা বেগম (২২) নামের ওই নারী।

শান্তার ভাষ্যমতে, প্রায় দুই বছর আগে সোহাগ শেখের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শুরুতে সম্পর্ক ভালো থাকলেও গর্ভধারণের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। যমজ কন্যাসন্তান জন্মের পর তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান এবং সেখানেই থাকতেন। কিছুদিন আগে স্বামী সোহাগ তাঁকে সন্তানদের নিয়ে আবার নিজের বাড়িতে ফিরতে বলেন। তবে ফিরে যাওয়ার পর থেকে সোহাগ বাজার না করা, দুধ না আনা, এমনকি সন্তানদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে না দেওয়ার মতো অবহেলা করতে থাকেন। এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো, এবং মাঝেমধ্যে সোহাগ তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।

শান্তার ভাষ্যে, ঘটনার দিন বিকালে সোহাগের সঙ্গে আবার তর্ক হয় এবং সে ফোনে সন্তানদের দুধ আনতে বললে, সোহাগ ক্ষেপে উঠে বলে—“তোর মেয়ে, তুইই সামলাবি, আমি কিছু করব না।” এই কথায় শান্তা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

রাগের মাথায় প্রথমে ছোট মেয়ে সামিয়াকে, এরপর বড় মেয়ে লামিয়াকে বাড়ির পাশের বিলের পানিতে ফেলে দেন তিনি। তারপর নিজের ঘরে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন। কিছু সময় পর তিনি আত্মীয়ের বাড়ি গিয়ে বলেন, “সোহাগ আমার বাচ্চাদের পানিতে ফেলে দিয়েছে।” উদ্দেশ্য ছিল—স্বামীকে ফাঁসানো।

তবে পুলিশি তদন্তে ঘটনা ভিন্ন মোড় নেয়। শিশুদের পানিতে ফেলার সময় সোহাগ কোথায় ছিলেন, তা মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে জানা যায়—তিনি তখন বাজারে ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও তার বাজারে থাকার প্রমাণ মেলে।

পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে শান্তা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তিনিই তাঁর সন্তানদের হত্যা করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংসারজীবনে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। যমজ সন্তানের জন্মের পর বাড়ে অর্থনৈতিক চাপ। শান্তা ও সোহাগের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সালমান রহমান জানান, “শিশুদের মৃত্যুর সময় সোহাগ বাড়িতে ছিলেন না, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। শান্তা তার স্বামীকে ফাঁসাতে মিথ্যা বললেও শেষমেশ নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।”

তিনি আরও জানান, সোহাগ কন্যা সন্তান হওয়ায় উদাসীন ছিলেন, দেখভাল করতেন না। এরই মাঝে পারিবারিক কলহ ও হতাশা শান্তাকে এমন ভয়ানক সিদ্ধান্ত নিতে ঠেলে দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মুন্সীগঞ্জে যমজ কন্যাশিশু হত্যা: স্বামীকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজের দায় স্বীকার করলেন মা

আপডেট সময় : ০৪:২৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার এক বিলের পানিতে পাওয়া গেল মাত্র পাঁচ মাস বয়সী যমজ দুই কন্যাশিশুর মরদেহ। এই বিভীষিকাময় ঘটনার পেছনে ছিল তাঁদের জন্মদাত্রী মায়েরই নির্মম সিদ্ধান্ত। পুলিশের তদন্ত শেষে বুধবার (৯ জুলাই) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন শান্তা বেগম (২২) নামের ওই নারী।

শান্তার ভাষ্যমতে, প্রায় দুই বছর আগে সোহাগ শেখের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। শুরুতে সম্পর্ক ভালো থাকলেও গর্ভধারণের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। যমজ কন্যাসন্তান জন্মের পর তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান এবং সেখানেই থাকতেন। কিছুদিন আগে স্বামী সোহাগ তাঁকে সন্তানদের নিয়ে আবার নিজের বাড়িতে ফিরতে বলেন। তবে ফিরে যাওয়ার পর থেকে সোহাগ বাজার না করা, দুধ না আনা, এমনকি সন্তানদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে না দেওয়ার মতো অবহেলা করতে থাকেন। এ নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া হতো, এবং মাঝেমধ্যে সোহাগ তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।

শান্তার ভাষ্যে, ঘটনার দিন বিকালে সোহাগের সঙ্গে আবার তর্ক হয় এবং সে ফোনে সন্তানদের দুধ আনতে বললে, সোহাগ ক্ষেপে উঠে বলে—“তোর মেয়ে, তুইই সামলাবি, আমি কিছু করব না।” এই কথায় শান্তা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

রাগের মাথায় প্রথমে ছোট মেয়ে সামিয়াকে, এরপর বড় মেয়ে লামিয়াকে বাড়ির পাশের বিলের পানিতে ফেলে দেন তিনি। তারপর নিজের ঘরে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকেন। কিছু সময় পর তিনি আত্মীয়ের বাড়ি গিয়ে বলেন, “সোহাগ আমার বাচ্চাদের পানিতে ফেলে দিয়েছে।” উদ্দেশ্য ছিল—স্বামীকে ফাঁসানো।

তবে পুলিশি তদন্তে ঘটনা ভিন্ন মোড় নেয়। শিশুদের পানিতে ফেলার সময় সোহাগ কোথায় ছিলেন, তা মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে জানা যায়—তিনি তখন বাজারে ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজেও তার বাজারে থাকার প্রমাণ মেলে।

পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে শান্তা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, তিনিই তাঁর সন্তানদের হত্যা করেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সংসারজীবনে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছিল। যমজ সন্তানের জন্মের পর বাড়ে অর্থনৈতিক চাপ। শান্তা ও সোহাগের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সালমান রহমান জানান, “শিশুদের মৃত্যুর সময় সোহাগ বাড়িতে ছিলেন না, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। শান্তা তার স্বামীকে ফাঁসাতে মিথ্যা বললেও শেষমেশ নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।”

তিনি আরও জানান, সোহাগ কন্যা সন্তান হওয়ায় উদাসীন ছিলেন, দেখভাল করতেন না। এরই মাঝে পারিবারিক কলহ ও হতাশা শান্তাকে এমন ভয়ানক সিদ্ধান্ত নিতে ঠেলে দেয়।