সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

নারীসহ রেস্ট হাউসে ধরা, প্রত্যাহার ঝিনাইদহের ওসি সাইফুল

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫ ১১১ বার পড়া হয়েছে

যশোরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি রেস্ট হাউসে স্ত্রী পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া এ ঘটনার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় যশোর পাউবোর পুরনো রেস্ট হাউসের ‘কপোতাক্ষ’ নামক কক্ষে উঠেছিলেন ওসি সাইফুল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন।

খবর পেয়ে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসান সনি দলবল নিয়ে রেস্ট হাউসে যান। কক্ষের দরজায় ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে ওসি সাইফুল বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রদল নেতারা তাকে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের ভেতর নিয়ে যান। এ সময় ঘটে বাগবিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি ও কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। পরে ৬ জুলাই রাতে জেলা পুলিশ ওসি সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে।

এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, “ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিঠির ভিত্তিতে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।”

রেস্ট হাউসের কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান জানান, “ওসি সাইফুল নিজেই এসে স্ত্রী পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে কক্ষ নিয়েছিলেন। পরে কিছু লোক এসে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।”

এদিকে ওসি সাইফুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ব্যক্তিগত কাজে যশোরে এসেছিলাম। আমার এক নারী বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রেস্ট হাউসে ছিলাম। কোনো অনৈতিক কিছু ঘটেনি। এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। ছাত্রনেতারা শুধু কথা বলে চলে গেছেন।”

ঘটনার পর ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মনজুর মোর্শেদ বলেন, “তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নারীসহ রেস্ট হাউসে ধরা, প্রত্যাহার ঝিনাইদহের ওসি সাইফুল

আপডেট সময় : ০১:১৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

যশোরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি রেস্ট হাউসে স্ত্রী পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া এ ঘটনার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় যশোর পাউবোর পুরনো রেস্ট হাউসের ‘কপোতাক্ষ’ নামক কক্ষে উঠেছিলেন ওসি সাইফুল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন।

খবর পেয়ে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসান সনি দলবল নিয়ে রেস্ট হাউসে যান। কক্ষের দরজায় ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে ওসি সাইফুল বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রদল নেতারা তাকে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের ভেতর নিয়ে যান। এ সময় ঘটে বাগবিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি ও কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনা।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। পরে ৬ জুলাই রাতে জেলা পুলিশ ওসি সাইফুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে।

এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, “ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিঠির ভিত্তিতে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।”

রেস্ট হাউসের কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান জানান, “ওসি সাইফুল নিজেই এসে স্ত্রী পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে কক্ষ নিয়েছিলেন। পরে কিছু লোক এসে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।”

এদিকে ওসি সাইফুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ব্যক্তিগত কাজে যশোরে এসেছিলাম। আমার এক নারী বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে রেস্ট হাউসে ছিলাম। কোনো অনৈতিক কিছু ঘটেনি। এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। ছাত্রনেতারা শুধু কথা বলে চলে গেছেন।”

ঘটনার পর ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মনজুর মোর্শেদ বলেন, “তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”