সর্বশেষ
চারঘাটে ৬০ গ্রাম হেরোইনসহ ২ জন গ্রেফতার গফরগাঁওয়ে বাংলাদেশ ছাত্র শিবির কর্তৃক কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শার্শায় প্রস্তুতিমূলক সভা, ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ঢাকা চকবাজারের বিশিষ্ট খেলনা ব্যবসায়ী পিন্টু আহমেদের পিত্তস্থলীতে পাথর অপারেশন আজ, সবার কাছে দোয়া কামনা কাচপুরের হাজী গরিবুল্লাহ রেস্তোরাঁয় খাবারের মান নিয়ে সাংবাদিকদের অসন্তোষ জমি নিয়ে বিরোধ: এক পক্ষকে কোপানোর পর অন্য পক্ষের বাড়িঘরে লুট নালিতাবাড়ীতে যুবককে অটোতে তুলে নিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ‘রিপোর্টার্স প্রেসক্লাব গাইবান্ধা’র আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দ কাজিপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিপদসংকুল আচরণের অভিযোগ

উখিয়ায় পাষণ্ড বাবার নির্মমতা: চার বছরের মেয়েকে হত্যা করে ফেলে দিল খালে

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫ ১০১ বার পড়া হয়েছে


কক্সবাজারের উখিয়ায় এক মাদকাসক্ত পিতার নৃশংসতায় প্রাণ হারাল চার বছরের একটি নিষ্পাপ শিশু। মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ খালে ফেলে দেন বাবা আমান উল্লাহ (৩২)। নিহত শিশুর নাম কানিছ ফাতেমা জ্যোতি।

শনিবার (৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উখিয়ার মনখালী কোনারপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, টেকনাফের শামলাপুর বাজার থেকে গাঁজা সেবন করে বাড়ি ফিরে আসে আমান উল্লাহ। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় নিজের মেয়ে জ্যোতিকে নির্মমভাবে রড দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে সে নিথর হয়ে গেলে মেয়ের মরদেহ টেনে নিয়ে গিয়ে পাশের মনখালী খালের পানিতে ফেলে দেয়।

চিৎকার শুনে অন্য সন্তানরা ও স্ত্রী জোসনা আক্তার ছুটে গিয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। সঙ্গে সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে খালের পাশে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন চাকমাপাড়া ব্রিজের নিচ থেকে।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা আমান উল্লাহকে আটক করে তার বাড়ির টিনের চালা ও দরজা ভেঙে বাইরে বের করে আনে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

পরে উখিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘাতক আমান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের সামনেই নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেন তিনি।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, “শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, আমান উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত। তার এই নির্মমতা পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন একটাই দাবি—এই পাষণ্ড যেন উপযুক্ত শাস্তি পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উখিয়ায় পাষণ্ড বাবার নির্মমতা: চার বছরের মেয়েকে হত্যা করে ফেলে দিল খালে

আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫


কক্সবাজারের উখিয়ায় এক মাদকাসক্ত পিতার নৃশংসতায় প্রাণ হারাল চার বছরের একটি নিষ্পাপ শিশু। মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ খালে ফেলে দেন বাবা আমান উল্লাহ (৩২)। নিহত শিশুর নাম কানিছ ফাতেমা জ্যোতি।

শনিবার (৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উখিয়ার মনখালী কোনারপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, টেকনাফের শামলাপুর বাজার থেকে গাঁজা সেবন করে বাড়ি ফিরে আসে আমান উল্লাহ। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় নিজের মেয়ে জ্যোতিকে নির্মমভাবে রড দিয়ে আঘাত করে। একপর্যায়ে সে নিথর হয়ে গেলে মেয়ের মরদেহ টেনে নিয়ে গিয়ে পাশের মনখালী খালের পানিতে ফেলে দেয়।

চিৎকার শুনে অন্য সন্তানরা ও স্ত্রী জোসনা আক্তার ছুটে গিয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। সঙ্গে সঙ্গে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে খালের পাশে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন চাকমাপাড়া ব্রিজের নিচ থেকে।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা আমান উল্লাহকে আটক করে তার বাড়ির টিনের চালা ও দরজা ভেঙে বাইরে বের করে আনে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

পরে উখিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘাতক আমান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের সামনেই নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেন তিনি।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, “শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয়দের মতে, আমান উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক অশান্তি লেগেই থাকত। তার এই নির্মমতা পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন একটাই দাবি—এই পাষণ্ড যেন উপযুক্ত শাস্তি পায়।