সর্বশেষ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের মন্তব্যের জের; বিএমএসএফ প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দৌলতপুরে ‘স্বপ্নধারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.’ ঘিরে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ২০ বছর আগে মৃত ব্যক্তির নামে ফেক আইডি! মসজিদ সভাপতির বক্তব্য ঘিরে নরোত্তমপুরে তীব্র আলোচনা শিল্পকারখানার মেশিন ও যন্ত্রাংশ তৈরিতে আস্থার নাম জে আর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর: ঢাকা-৭ আসনে আনন্দ মিছিল হারিয়ে যাবো কলমে : ময়মনসিংহে গণভোটের রায়বাস্তবায়ন ও জনদুর্গভোগ লাঘবের দাবিতে বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত বরকত উল্লাহ বুলুর বড় ভাই রফিক উল্লাহ মিয়া আর নেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সহ-সভাপতি মোঃ আবুল বাসার মজুমদার স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতায় বীমা খাতে আস্থার সংকট: অর্থ উপদেষ্টা তিতুমীর

২০ বছর আগে মৃত ব্যক্তির নামে ফেক আইডি! মসজিদ সভাপতির বক্তব্য ঘিরে নরোত্তমপুরে তীব্র আলোচনা

নোয়াখালী প্রতিনিধি | স্টাফ রিপোর্টার: আবু তাহের খোকন
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২০ বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত একটি কথিত ফেসবুক ফেক আইডি থেকে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আইডিতে প্রতিবাদী কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ আজিম মিঞার পিতা, মরহুম আবুল হাসেম মিঞার নাম ও ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরহুম বকশি মিঞার কবরের ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফেক আইডির মাধ্যমে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং বিভিন্ন ভিত্তিহীন মন্তব্য ছড়িয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিবাদী কণ্ঠ মানবিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ফেক আইডি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যঙ্গাত্মক ও আপত্তিকর ছবি তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ধারাবাহিক এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জড়িতদের পরিচয় ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে।

আরও জানা গেছে, ওই কথিত ফেক আইডির মাধ্যমে মরহুম কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেব জামে মসজিদের সভাপতি জহিরুল ইসলামের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যদি অ্যাকাউন্টটি একজন মৃত ব্যক্তির নামে পরিচালিত হয়ে থাকে, তবে এটি পরিচালনা করছে কে?

স্থানীয়দের একাংশের মতে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য প্রচার করা শুধু অনৈতিক নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনগত অপরাধের আওতায়ও পড়তে পারে বলে তারা মন্তব্য করেন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এলাকার সচেতন মহলের ভাষ্য, মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পরিপন্থী। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে যাদের নাম এসেছে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

প্রতিবাদী কণ্ঠের আহ্বান

মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে ফেক আইডি পরিচালনা, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন। মতপ্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে, তবে তা নিজের প্রকৃত পরিচয়ে, সত্য ও যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে এবং দেশের প্রচলিত আইন ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে হওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিভ্রান্তি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের হাতিয়ার নয়, বরং দায়িত্বশীল মতপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

২০ বছর আগে মৃত ব্যক্তির নামে ফেক আইডি! মসজিদ সভাপতির বক্তব্য ঘিরে নরোত্তমপুরে তীব্র আলোচনা

আপডেট সময় : ১১:৪৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২০ বছর আগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত একটি কথিত ফেসবুক ফেক আইডি থেকে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আইডিতে প্রতিবাদী কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ আজিম মিঞার পিতা, মরহুম আবুল হাসেম মিঞার নাম ও ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরহুম বকশি মিঞার কবরের ওপর ভবন নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফেক আইডির মাধ্যমে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং বিভিন্ন ভিত্তিহীন মন্তব্য ছড়িয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিবাদী কণ্ঠ মানবিক সংগঠন ও এর কার্যক্রম সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, একাধিক ফেক আইডি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যঙ্গাত্মক ও আপত্তিকর ছবি তৈরি ও প্রচার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ধারাবাহিক এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জড়িতদের পরিচয় ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে।

আরও জানা গেছে, ওই কথিত ফেক আইডির মাধ্যমে মরহুম কলিমুল্লাহ মৌলভী সাহেব জামে মসজিদের সভাপতি জহিরুল ইসলামের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যদি অ্যাকাউন্টটি একজন মৃত ব্যক্তির নামে পরিচালিত হয়ে থাকে, তবে এটি পরিচালনা করছে কে?

স্থানীয়দের একাংশের মতে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য প্রচার করা শুধু অনৈতিক নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনগত অপরাধের আওতায়ও পড়তে পারে বলে তারা মন্তব্য করেন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এলাকার সচেতন মহলের ভাষ্য, মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার পরিপন্থী। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে যাদের নাম এসেছে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

প্রতিবাদী কণ্ঠের আহ্বান

মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে ফেক আইডি পরিচালনা, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন। মতপ্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে, তবে তা নিজের প্রকৃত পরিচয়ে, সত্য ও যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে এবং দেশের প্রচলিত আইন ও নৈতিকতার সীমার মধ্যে হওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিভ্রান্তি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের হাতিয়ার নয়, বরং দায়িত্বশীল মতপ্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে।