সিসাদূষণ প্রতিরোধে রাবিতে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও পিওর আর্থের র্যালি
- আপডেট সময় : ১২:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
সিসাদূষণের উৎস, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সিসাদূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও পিওর আর্থ বাংলাদেশের উদ্যোগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
‘সিসাদূষণ প্রতিরোধে, আমরা আছি একসাথে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক সিসাদূষণ প্রতিরোধ সপ্তাহ উপলক্ষে দেশের আট বিভাগে সপ্তাহব্যাপী জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পিওর আর্থ বাংলাদেশের সহযোগিতায় ইয়ুথনেট গ্লোবাল এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এতে সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, ইউক্যান ও আর্থ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।
আয়োজকদের মতে, শিশু, তরুণ, শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সিসার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি সিসাদূষণের উৎস শনাক্ত করা, প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দূষণ রোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কর্মসূচিতে পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাশ বলেন, “শিশুদের সিসার বিষক্রিয়া থেকে সুরক্ষিত রাখতে সিসার উৎস শনাক্ত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিরাপদ ভোগ্যপণ্য নিশ্চিত করা, পরিবেশসম্মত ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে পিওর আর্থ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে যৌথভাবে সম্প্রসারিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) নির্দেশিকা প্রণয়নে কাজ করছে। এই নির্দেশিকা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারির কার্যকর সংগ্রহ, ট্র্যাকিং ও পরিবেশসম্মত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা করবে।”
ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, “অপরিকল্পিত ও অনিরাপদ সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শুধু শ্রমিকদের নয়, আশপাশের পুরো জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।”ক্ষতিকর শিল্পপ্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা এবং নীতিগত পরিবর্তনের দাবি জোরদার করার কথাও বলেন তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম কনক বলেন, “সিসাদূষণ প্রতিরোধ করতে হলে আইনের সহায়তা নিতে হবে এবং নীতিমালার আওতায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিসার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ইয়ুথনেট গ্লোবালের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়কারী হৃদিকা আহসান শ্রেয়া বলেন, “স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ সিসাদূষণ প্রতিরোধের কাজকে এগিয়ে নিতে পারে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সিসাদূষণের উৎস চিহ্নিত করা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
কর্মসূচির অংশ হিসেবে র্যালি, মানববন্ধন, উঠান বৈঠক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারাভিযান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিটিও এ দেশব্যাপী উদ্যোগের অংশ।



















