সর্বশেষ
শিবচর বাজারে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট রোধে প্রশাসনের অভিযান। ৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%! জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য শেরপুরে বিএনপিতে যোগ দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ নেতাকর্মী ফ্লাশ করলেই মিলবে কিডনি রোগের সংকেত: টয়লেট ট্যাবলেটে যুগান্তকারী উদ্ভাবন কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এনইআইআর ইস্যুতে রাজপথে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরাপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্ট ও ডিজেলসহ ১৮ জন আটক কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি

সাতকানিয়ায় মাদক সন্ত্রাসের নতুন রূপ: গডফাদার-গডমাদারের রাজত্বে বিপন্ন জনজীবন

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫ ৩৩ বার পড়া হয়েছে


চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা ও ভদ্রলোকের এলাকা হিসেবে পরিচিত সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা আজ মাদকের ভয়াল ছোবলে বিপর্যস্ত। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকেই সাতকানিয়ায় মাদক কারবারিদের এক নতুন গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের নিরবতা এই পরিস্থিতিকে আরও গভীরতর করছে।

বিশেষ করে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন ও মাদার্শা ইউনিয়ন মাদক কারবারের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সোনাকানিয়া ৩নং ওয়ার্ডে এক নারী নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাদক চক্রকে—স্থানীয়রা যাকে ‘গডমাদার’ বলে আখ্যায়িত করছেন। নাম রুনা আক্তার। তার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সোনাকানিয়া থেকে মাদার্শা পর্যন্ত বিস্তৃত।

একজন মাদকসেবীর সূত্রে জানা যায়, রুনা নিজেকে সাবেক এমপি আবু রেজা নদভীর ভাতিজি এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান সেলিমের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে থানাসহ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। বর্তমানে একজন সম্মানিত আলেমের নাম ব্যবহার করেও চলছে তার অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ তার কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলে তাকে ভয়ভীতি, হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার রয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকার জোর এবং উচ্চপর্যায়ের লবিং।

গতকাল মাদার্শা বাংলা ক্লাবের সামনে এমনই এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বাধায় এক মাদকসেবী প্রকাশ্যে ছুরি নিয়ে হামলা চালাতে উদ্যত হয়। এ ঘটনা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে।

এলাকাবাসীর দাবি—মাদকের এই ভয়াবহ নেটওয়ার্ক এবং এর নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত চালায়, তাহলে বেরিয়ে আসবে ভয়ঙ্কর সব সত্য। জনগণের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী ও সাতকানিয়া থানা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—এই ‘গডফাদার-গডমাদারদের’ বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাতকানিয়ায় মাদক সন্ত্রাসের নতুন রূপ: গডফাদার-গডমাদারের রাজত্বে বিপন্ন জনজীবন

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫


চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা ও ভদ্রলোকের এলাকা হিসেবে পরিচিত সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা আজ মাদকের ভয়াল ছোবলে বিপর্যস্ত। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকেই সাতকানিয়ায় মাদক কারবারিদের এক নতুন গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের নিরবতা এই পরিস্থিতিকে আরও গভীরতর করছে।

বিশেষ করে সোনাকানিয়া ইউনিয়ন ও মাদার্শা ইউনিয়ন মাদক কারবারের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সোনাকানিয়া ৩নং ওয়ার্ডে এক নারী নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাদক চক্রকে—স্থানীয়রা যাকে ‘গডমাদার’ বলে আখ্যায়িত করছেন। নাম রুনা আক্তার। তার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সোনাকানিয়া থেকে মাদার্শা পর্যন্ত বিস্তৃত।

একজন মাদকসেবীর সূত্রে জানা যায়, রুনা নিজেকে সাবেক এমপি আবু রেজা নদভীর ভাতিজি এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান সেলিমের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে থানাসহ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। বর্তমানে একজন সম্মানিত আলেমের নাম ব্যবহার করেও চলছে তার অপকর্ম আড়াল করার চেষ্টা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ তার কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলে তাকে ভয়ভীতি, হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার রয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকার জোর এবং উচ্চপর্যায়ের লবিং।

গতকাল মাদার্শা বাংলা ক্লাবের সামনে এমনই এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বাধায় এক মাদকসেবী প্রকাশ্যে ছুরি নিয়ে হামলা চালাতে উদ্যত হয়। এ ঘটনা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে।

এলাকাবাসীর দাবি—মাদকের এই ভয়াবহ নেটওয়ার্ক এবং এর নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্ত চালায়, তাহলে বেরিয়ে আসবে ভয়ঙ্কর সব সত্য। জনগণের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী ও সাতকানিয়া থানা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—এই ‘গডফাদার-গডমাদারদের’ বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের।