সর্বশেষ
শিবচর বাজারে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট রোধে প্রশাসনের অভিযান। ৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%! জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য শেরপুরে বিএনপিতে যোগ দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ নেতাকর্মী ফ্লাশ করলেই মিলবে কিডনি রোগের সংকেত: টয়লেট ট্যাবলেটে যুগান্তকারী উদ্ভাবন কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এনইআইআর ইস্যুতে রাজপথে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরাপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্ট ও ডিজেলসহ ১৮ জন আটক কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি

যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য

মো: আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা ও মিরপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তার নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেই রাজধানীর পল্টনে হাদির মাথায় গুলি চালানো হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। একই দিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণেই পরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
ডিবি জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক খুব কাছ থেকে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেশে আনা হয় মরদেহ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
হাদির মৃত্যুর পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।
ডিবির মন্তব্য
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত। নির্দেশদাতা থেকে শুরু করে সরাসরি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০১:১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ জানিয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা ও মিরপুরের ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি। তার নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেই রাজধানীর পল্টনে হাদির মাথায় গুলি চালানো হয়।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। একই দিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণেই পরিকল্পিতভাবে শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
ডিবি জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই যুবক খুব কাছ থেকে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) এ নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
দেশে আনা হয় মরদেহ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
হাদির মৃত্যুর পরদিন ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরে বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে দাফন করা হয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।
ডিবির মন্তব্য
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন,
“এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সংঘটিত। নির্দেশদাতা থেকে শুরু করে সরাসরি হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।