সর্বশেষ
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রতিবাদী কণ্ঠ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দীনের পা ভেঙেছে, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর আজীবন সদস্য তাজুল গুরুতর অসুস্থ, দোয়ার আহ্বান রাজধানীর বকশীবাজারে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শতাধিক অসহায় মানুষের মুখে হাসিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | কামরুল ইসলাম শুভ’র জন্মদিন – কেক কাটা সম্পন্ন, বিয়ে এখনো ‘লোডিং…’! সুন্দরবনে দস্যু দমনে জিরো টলারেন্স, নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী মোঃ সুজন ঢালী প্রতিবাদী কন্ঠের আজীবন সদস্য — মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার মাদক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত প্রতিশোধ: চরফ্যাশনে কুপিয়ে হত্যা রহিম ভূট্টু বেনাপোলের মানবাধিকার নেতা মিজানুর রহমান গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, ঢাকায় চিকিৎসাধীন ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর সম্মানিত অনুদানদাতা ও আজীবন সদস্য সুমনের পিতার ইন্তেকাল

মায়ের আত্মত্যাগে বেঁচে গেল মেয়ে: মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় নিভে গেল রজনীর জীবন

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ভয়াবহ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন মেহেরপুরের গাংনীর রজনী খাতুন। শেষ মুহূর্তে নিজের শিশুকন্যাকে বাঁচাতে ক্লাসরুমের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। মেয়ে তখন পর্যন্ত স্কুল থেকে বেরিয়ে নিরাপদে চলে গেলেও মায়ের ফেরা হলো না।

রজনী ভেবেছিলেন তার মেয়ে তখনও শ্রেণিকক্ষে রয়েছে। মেয়ে যেন আগুনের গ্রাসে না পড়ে, সেই আশঙ্কায় আগুনের মুখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যক্রমে শিশুটি স্কুল ভবনের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং প্রাণে বেঁচে যায়।

তবে শিশু কন্যাকে রক্ষা করতে গিয়ে রজনী নিজে অগ্নিদগ্ধ হন এবং পরবর্তীতে ঢাকার সিএমএইচ বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

রজনীর পরিচয় ও পরিবার

নিহত রজনী মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের বাওট গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বিএনপি সভাপতি আব্দুল হামিদের কন্যা। স্বামী জহিরুল ইসলাম পেশায় ব্যবসায়ী, যার বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চর সাদিপুর গ্রামে। কর্মসূত্রে রাজধানীর উত্তরায় তিন সন্তানসহ বসবাস করছিলেন তারা।

রজনীর মরদেহ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারজুড়ে শোকের মাতম

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় রজনীর পিতার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র মেয়ের এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা-মা। আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় এলাকাবাসীরাও এই আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন।

মায়ের সাহসিকতায় বেঁচে যাওয়া শিশুকন্যার চোখে এখনো ভয় আর বিভ্রান্তি। অথচ সে জানে না, তার জীবন রক্ষার জন্যই মা চিরদিনের মতো বিদায় নিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মায়ের আত্মত্যাগে বেঁচে গেল মেয়ে: মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় নিভে গেল রজনীর জীবন

আপডেট সময় : ০৮:২২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

ঢাকা: মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ভয়াবহ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন মেহেরপুরের গাংনীর রজনী খাতুন। শেষ মুহূর্তে নিজের শিশুকন্যাকে বাঁচাতে ক্লাসরুমের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। মেয়ে তখন পর্যন্ত স্কুল থেকে বেরিয়ে নিরাপদে চলে গেলেও মায়ের ফেরা হলো না।

রজনী ভেবেছিলেন তার মেয়ে তখনও শ্রেণিকক্ষে রয়েছে। মেয়ে যেন আগুনের গ্রাসে না পড়ে, সেই আশঙ্কায় আগুনের মুখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যক্রমে শিশুটি স্কুল ভবনের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং প্রাণে বেঁচে যায়।

তবে শিশু কন্যাকে রক্ষা করতে গিয়ে রজনী নিজে অগ্নিদগ্ধ হন এবং পরবর্তীতে ঢাকার সিএমএইচ বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

রজনীর পরিচয় ও পরিবার

নিহত রজনী মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের বাওট গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বিএনপি সভাপতি আব্দুল হামিদের কন্যা। স্বামী জহিরুল ইসলাম পেশায় ব্যবসায়ী, যার বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চর সাদিপুর গ্রামে। কর্মসূত্রে রাজধানীর উত্তরায় তিন সন্তানসহ বসবাস করছিলেন তারা।

রজনীর মরদেহ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারজুড়ে শোকের মাতম

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় রজনীর পিতার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র মেয়ের এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা-মা। আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় এলাকাবাসীরাও এই আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন।

মায়ের সাহসিকতায় বেঁচে যাওয়া শিশুকন্যার চোখে এখনো ভয় আর বিভ্রান্তি। অথচ সে জানে না, তার জীবন রক্ষার জন্যই মা চিরদিনের মতো বিদায় নিয়েছেন।