প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর প্রতিশোধে কিশোর হত্যা: চাঞ্চল্যকর তথ্যসহ গ্রেপ্তার ৬
- আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
প্রেমিকার আপত্তিকর ছবি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জের ধরে কিশোর আল আদিয়াত সায়র (১৭) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— তাসলিমা আক্তার (১৮), সৌদি প্রবাসী আরাফাত হোসেন (২২), মো. সাকিব খান (২২), নয়ন মিয়া (২২), নুরুজ্জামান শ্যামল (২০) ও রাকিব মিয়া (২২)।
ডিবি সূত্র জানায়, গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইকও উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে ভিকটিম আল আদিয়াত সায়রের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে আল আদিয়াত গোপনে তাসলিমার আপত্তিকর ছবি ধারণ করে তা নিজের কয়েকজন বন্ধুর কাছে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে তাসলিমা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
এরপর তাসলিমার সঙ্গে সৌদি আরবপ্রবাসী আরাফাত হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাসলিমার আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা জানতে পেরে আরাফাত দেশে ফিরে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি গত ২ নভেম্বর দেশে ফেরেন।
পরদিন ৩ নভেম্বর তাসলিমা কৌশলে আল আদিয়াত সায়রকে নিয়ে গাজীপুরের উলুখোলা এলাকায় যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল ইজিবাইকচালক রাকিবসহ অন্যান্য সহযোগীরা। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) পূবাইল থানাধীন বিন্দান রোড এলাকায় পৌঁছালে আল আদিয়াতকে ইজিবাইকে তুলে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর আসামিরা মরদেহ ঘোড়াশাল-টঙ্গী মহাসড়কের পাশের একটি নির্জন স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়।
ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, নিহতের স্বজন মিজানুর রহমান আদালতে নালিশি পিটিশন দাখিল করলে আদালতের নির্দেশে কদমতলী থানায় মামলাটি রুজু হয়। পরে গত ২৬ নভেম্বর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে ডিবির ওয়ারী বিভাগ।
প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৩১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রথমে তাসলিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


















