নবীনগরের নারুই বাজারে ‘সালিশ’ ঘিরে উত্তেজনা—
- আপডেট সময় : ০১:১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, প্রশ্নের মুখে ন্যায়বিচারব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা (দক্ষিণ) ইউনিয়নের নারুই বাজারে একটি গ্রাম্য সালিশকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া একটি ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় যেমন চাঞ্চল্য, তেমনি দেশজুড়ে চলছে ন্যায়বিচার ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল (৪ জুন ২০২৬)। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক বিক্রির সন্দেহে অভি মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে বাজারে নিয়ে আসা হয়। এরপর সালিশের নামে তার হাত-পা বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কষ্টে চিৎকার করছেন, আর আশপাশে অনেকে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখছেন এবং কেউ কেউ মোবাইলে দৃশ্য ধারণ করছেন।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একপক্ষের দাবি, এলাকায় মাদকের বিস্তার ও ক্ষোভের কারণে স্থানীয়রা এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে অন্যপক্ষ বলছে, অপরাধের অভিযোগ থাকলেও বিচার করার একমাত্র অধিকার রাষ্ট্র ও আদালতের—এভাবে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া আইনবিরোধী এবং অমানবিক।
স্থানীয় একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির কারণেই অনেক সময় সাধারণ মানুষ নিজেরাই ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
অন্যদিকে মানবাধিকার ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকে বলছেন, অভিযোগ সত্য হলেও এ ধরনের শাস্তি আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং এতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়।
ঘটনার পর নবীনগর থানার পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। থানার ওসি মোর্শেদ আলম চৌধুরী জানান, ভিডিওটি নজরে আসার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে টিম পাঠিয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ভিকটিমকে উদ্ধার করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই কাউকে প্রকাশ্যে এভাবে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অপরাধ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।



















