জুড়ীর পাহাড়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান, পাঁচ দশকেও হয়নি বাণিজ্যিক উত্তোলনের উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ১১:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
১৯৭৫ সালে প্রথম অনুসন্ধান, হাড়ারগজ পাহাড় এলাকায় ইউরেনিয়ামের উপস্থিতির তথ্য; আধুনিক সমীক্ষার দাবি স্থানীয়দের।মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় মূল্যবান তেজস্ক্রিয় খনিজ ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়ার প্রায় পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও এর সম্ভাব্য মজুতের আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে জুড়ীর পাহাড়ে থাকা সম্ভাবনাময় এই খনিজ সম্পদ নিয়ে নতুন করে অনুসন্ধান ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পুরোনো প্রতিবেদন ও প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের হারাগাছা বা ষাড়েরগজ পাহাড় এলাকায় বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের অনুসন্ধানে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতির সন্ধান পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে জুড়ীর ফুলতলা ও সাগরনাল এলাকার বিভিন্ন স্থানে ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান চালানো হয়।
বাংলাপিডিয়ার জুড়ী উপজেলা বিষয়ক তথ্যেও এ উপজেলায় ইউরেনিয়াম ও চীনা মাটির সন্ধান পাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
অনুসন্ধান হয়েছিল, কিন্তু থেমে যায় কার্যক্রম:
প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সহায়তায় জুড়ীসহ সিলেট অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে ইউরেনিয়াম অনুসন্ধান করা হয়। কিছু প্রতিবেদনে জুড়ী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক অনুসন্ধান কূপ খননের তথ্যও উঠে এসেছে। তবে এসব অনুসন্ধানের পর বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য মজুত নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম আর এগোয়নি বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো এলাকায় ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া এবং সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য ইউরেনিয়াম মজুত থাকা এক বিষয় নয়। মজুতের পরিমাণ, আকরিকের গ্রেড, গভীরতা, উত্তোলন ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নির্ধারণের জন্য আধুনিক ভূতাত্ত্বিক ও তেজস্ক্রিয়তা সমীক্ষা প্রয়োজন।
পাঁচ দশক পরও প্রশ্নের উত্তর মেলেনি:
১৯৭৫ সালের প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর প্রায় ৫১ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু জুড়ীর হাড়ারগজ-ষাড়েরগজ পাহাড় এলাকায় বর্তমানে কতটুকু ইউরেনিয়াম রয়েছে, তার ঘনত্ব কত, তা অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য কি না এবং উত্তোলন করলে পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে একটি হালনাগাদ সমন্বিত গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও বাণিজ্যিকভাবে আহরণযোগ্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ব্যাপক অনুসন্ধান ও সমীক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি পরিবেশগত সতর্কতা:
ইউরেনিয়াম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি। ফলে বাংলাদেশে ইউরেনিয়ামের নিজস্ব উৎসের সম্ভাবনা থাকলে তা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে জুড়ীর পাহাড়ি অঞ্চল পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল। সেখানে বন, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনুসন্ধান বা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, তেজস্ক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই করতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নতুন করে সমীক্ষা হোক
জুড়ীর স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন, কয়েক দশক আগে করা অনুসন্ধানের ওপর নির্ভর না করে বর্তমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে হারাগাছা-ষাড়েরগজ পাহাড় ও আশপাশের এলাকায় নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানো দরকার। এতে প্রকৃতপক্ষে সেখানে কতটুকু ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং তা উত্তোলনযোগ্য কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, বিশেষ করে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে একটি আধুনিক সমীক্ষা পরিচালনার দাবি উঠেছে।



















