সর্বশেষ
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রতিবাদী কণ্ঠ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দীনের পা ভেঙেছে, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর আজীবন সদস্য তাজুল গুরুতর অসুস্থ, দোয়ার আহ্বান রাজধানীর বকশীবাজারে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শতাধিক অসহায় মানুষের মুখে হাসিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | কামরুল ইসলাম শুভ’র জন্মদিন – কেক কাটা সম্পন্ন, বিয়ে এখনো ‘লোডিং…’! সুন্দরবনে দস্যু দমনে জিরো টলারেন্স, নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী মোঃ সুজন ঢালী প্রতিবাদী কন্ঠের আজীবন সদস্য — মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার মাদক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত প্রতিশোধ: চরফ্যাশনে কুপিয়ে হত্যা রহিম ভূট্টু বেনাপোলের মানবাধিকার নেতা মিজানুর রহমান গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, ঢাকায় চিকিৎসাধীন ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর সম্মানিত অনুদানদাতা ও আজীবন সদস্য সুমনের পিতার ইন্তেকাল

খুলনায় বিষাক্ত মদে ৫ জনের মৃত্যু: হোমিও চিকিৎসকের ছদ্মবেশে মদ তৈরির হোতা মোসলেম গ্রেপ্তার

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ১০:২২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫ ৮৫ বার পড়া হয়েছে


খুলনায় বিষাক্ত মদপানে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত মূল হোতা, কথিত হোমিও চিকিৎসক শেখ মোসলেম আলী (৭৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুলাই) গভীর রাতে খুলনা নগরীর রায়ের মহল এলাকার মালেক সড়কের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. আবু তারেক জানান, মোসলেম আলী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে বসেই মাদক জাতীয় মদ তৈরি করতেন। তার “মাতৃশোধন হোমিও ফার্মেসি” নামে একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, তিনি এলকোলি নামক মাদক, ঘুমের বড়ি এবং চুনের পানি মিশিয়ে ওই বিষাক্ত মদ তৈরি করতেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) মোসলেম আলীর তৈরি মদ আড়ংঘাটা থানার পূর্ব বিল পাবলা মদিনা নগর এলাকার একটি ঘেরে বসে পান করেন কয়েকজন ব্যক্তি। মদপানের পরই তাদের শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে—খুলনা পাবলিক কলেজের সামনে বসবাসরত তোতা মিয়া নামে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যু স্বাভাবিক ধরে মরদেহ পিরোজপুরে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। পরদিন শনিবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজন মারা যান। তারা হলেন—রায়ের মহল মল্লিক বাড়ির সাজ্জাদ, গৌতম, বয়রা শেরের মোড় এলাকার সাহাবুদ্দিন সাবু এবং বয়রা মধ্যপাড়ার আফরোজ হোসেন বাবু।

এ ঘটনায় বয়রা দাশপাড়ার সনু নামে একজন খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আরও দুইজন—উজ্জ্বল ও সাত্তার—চিকিৎসাধীন রয়েছেন একই হাসপাতালে।

মৃত্যুর ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে কথিত চিকিৎসক মোসলেম আলীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় খুলনা মহানগরীতে হোমিও চিকিৎসার আড়ালে মাদক উৎপাদন ও বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খুলনায় বিষাক্ত মদে ৫ জনের মৃত্যু: হোমিও চিকিৎসকের ছদ্মবেশে মদ তৈরির হোতা মোসলেম গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১০:২২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫


খুলনায় বিষাক্ত মদপানে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত মূল হোতা, কথিত হোমিও চিকিৎসক শেখ মোসলেম আলী (৭৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুলাই) গভীর রাতে খুলনা নগরীর রায়ের মহল এলাকার মালেক সড়কের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. আবু তারেক জানান, মোসলেম আলী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে বসেই মাদক জাতীয় মদ তৈরি করতেন। তার “মাতৃশোধন হোমিও ফার্মেসি” নামে একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, তিনি এলকোলি নামক মাদক, ঘুমের বড়ি এবং চুনের পানি মিশিয়ে ওই বিষাক্ত মদ তৈরি করতেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) মোসলেম আলীর তৈরি মদ আড়ংঘাটা থানার পূর্ব বিল পাবলা মদিনা নগর এলাকার একটি ঘেরে বসে পান করেন কয়েকজন ব্যক্তি। মদপানের পরই তাদের শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে—খুলনা পাবলিক কলেজের সামনে বসবাসরত তোতা মিয়া নামে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যু স্বাভাবিক ধরে মরদেহ পিরোজপুরে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। পরদিন শনিবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজন মারা যান। তারা হলেন—রায়ের মহল মল্লিক বাড়ির সাজ্জাদ, গৌতম, বয়রা শেরের মোড় এলাকার সাহাবুদ্দিন সাবু এবং বয়রা মধ্যপাড়ার আফরোজ হোসেন বাবু।

এ ঘটনায় বয়রা দাশপাড়ার সনু নামে একজন খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আরও দুইজন—উজ্জ্বল ও সাত্তার—চিকিৎসাধীন রয়েছেন একই হাসপাতালে।

মৃত্যুর ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে কথিত চিকিৎসক মোসলেম আলীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদক আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় খুলনা মহানগরীতে হোমিও চিকিৎসার আড়ালে মাদক উৎপাদন ও বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।