ক্লোন আইএমইআই ফোন এখনই বন্ধ নয়, ‘গ্রে’ ক্যাটাগরিতে রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের
- আপডেট সময় : ০৮:৫৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পর দেশে ব্যাপক হারে ক্লোন ও নকল আইএমইআইযুক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে। তবে হঠাৎ করে জনজীবনে বড় ধরনের যোগাযোগ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় এসব ফোন এখনই বন্ধ না করে ‘গ্রে’ ক্যাটাগরিতে ট্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
লাখ লাখ ভুয়া আইএমইআই নেটওয়ার্কে সচল
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে লক্ষ লক্ষ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বর সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘১১১১১১১১১১১১১’, ‘০০০০০০০০০০০০০’, ‘৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯’—এমন অস্বাভাবিক ও অবাস্তব আইএমইআই নম্বর।
এসব ডিভাইসের কোনো রেডিয়েশন টেস্ট বা নিরাপত্তা যাচাই কখনোই হয়নি। তবুও দীর্ঘদিন ধরে এসব ফোন সারাদেশে নির্বিঘ্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
হঠাৎ ব্লক নয়, গ্রে ট্যাগে রাখার কারণ
সরকার জানায়, একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক ডিভাইস বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকার আপাতত এসব ফোন সরাসরি ব্লক না করে ‘গ্রে’ ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একটি আইএমইআইতেই ৩ কোটির বেশি সংযোগ!
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১০ বছরে শুধু একটি আইএমইআই নম্বর—
৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯
এর বিপরীতে পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি সংযোগ (ডকুমেন্ট আইডি, এমএসআইএসডিএন ও আইএমইআইয়ের বিভিন্ন কম্বিনেশন)।
এসব আইএমইআই স্মার্টফোন ছাড়াও বিভিন্ন আইওটি ডিভাইসে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে মোবাইল অপারেটররা বর্তমানে মোবাইল ফোন, সিম-সংযুক্ত ডিভাইস ও আইওটি ডিভাইস আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারছে না।
ডুপ্লিকেট আইএমইআইয়ে লাখ লাখ ডিভাইস
শীর্ষ কয়েকটি আইএমইআই বিশ্লেষণে দেখা গেছে—
৪৪০০১৫২০২০০০ → প্রায় ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ডিভাইস
৩৫২২৭৩০১৭৩৮৬৩৪ → ১৭ লাখ ৫৮ হাজার
৩৫২৭৫১০১৯৫২৩২৬ → ১৫ লাখ ২৩ হাজার
শুধু ‘০’ আইএমইআই → ৫ লাখ ৮৬ হাজার ডিভাইস
এছাড়াও একাধিক আইএমইআই নম্বরে ১ থেকে ৫ লাখ পর্যন্ত ডিভাইস সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যা পুরো ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
ডিজিটাল জালিয়াতির বড় উৎস অবৈধ ফোন
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে সংঘটিত ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসে।
এছাড়া বিটিআরসি ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ তথ্য অনুযায়ী,
২০২৩ সালে ই-কেওয়াইসি জালিয়াতির ৮৫ শতাংশই ঘটেছে অবৈধ বা পুনঃপ্রোগ্রাম করা ফোন ব্যবহার করে।
একই বছরে দেশে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মোবাইল ফোন চুরির রিপোর্ট পাওয়া যায়, যার বড় একটি অংশ আজও উদ্ধার হয়নি।
নকল ফোন বিক্রি—নজিরবিহীন প্রতারণা
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন ও অফিসিয়াল ফোনের নামে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ নকল ও আন-অফিশিয়াল হ্যান্ডসেট বিক্রি করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন প্রতারণা। জনস্বার্থে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এনইআইআর কী করবে?
সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে এনইআইআর।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেইজে যুক্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অবৈধ ফোন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


















