কার্যালয়ে হামলা, এআই দিয়ে ছবি বিকৃতি ও ফেক আইডিতে অপপ্রচার: নরোত্তমপুরে মানবিক সংগঠনকে ঘিরে তোলপাড়
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ডে মানবিক ও সামাজিক সংগঠন “প্রতিবাদী কণ্ঠ”-এর কার্যালয়ে হামলা, সাইনবোর্ড অপসারণ, সংগঠনের কার্যক্রমে বাধা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং ফেক আইডির মাধ্যমে হুমকি-ধমকির অভিযোগে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল, সামাজিক সংগঠক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে “প্রতিবাদী কণ্ঠ”-এর কার্যালয়ে গিয়ে সংগঠনের সাইনবোর্ড ও বিভিন্ন স্টিকার অপসারণ করে। একই সঙ্গে সংগঠনটির চলমান মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে সক্রিয় দেখা গেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, ভিডিওতে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন পলাশের ছোট ভাই ইসমাইল হোসেন মোহনসহ আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্টদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে নতুন করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে “প্রতিবাদী কণ্ঠ”-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোহাম্মদ আজিম মিয়ার ছবি বিকৃত করা হয়েছে। সেই বিকৃত ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যানার, পোস্টার ও স্টিকার তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাকে সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে “প্রতিবাদী কণ্ঠ” এলাকায় একটি ইতিবাচক পরিচিতি অর্জন করেছে। ফলে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সামাজিক অন্যায়, অনিয়ম ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখার কারণেই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহলের রোষানলে রয়েছে। তাদের দাবি, সংগঠনটির কার্যক্রম স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি চালানো হচ্ছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোহাম্মদ আজিম মিঞা অভিযোগ করেন, তার প্রয়াত পিতার ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ফেক আইডি খোলা হয়েছে। এসব আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মানহানিকর প্রচারণা এবং পরিবারকে লক্ষ্য করে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।পলাশ মেম্বারের সন্ত্রাসী কিশোরগ্যাং বাহিনী আজিম মিঞাকে ফেক আইডির মাধ্যমে হুমকি প্রদান করে ঢাকা থেকে এলাকায় গেলে মব সৃষ্টি করে তাকে হেনস্তা করা হবে। এসব ফেক আইডিতে পলাশ মেম্বারের ছোট ভাই মোহন সোহাগ শামীম এবং পলাশ মেম্বার সুপ্রিয় রয়েছে লাইক কমেন্ট করা থেকে শুরু করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রতিনিয়তই চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কার্যালয়ে হামলা, অপপ্রচার, ফেক আইডি পরিচালনা এবং সাইবার হয়রানির মাধ্যমে আমাদের কণ্ঠ রোধ করতে চাওয়া হচ্ছে। আমরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চাই।”
জানা গেছে, ফেক আইডি, সাইবার হয়রানি এবং হুমকির ঘটনায় ঢাকার চকবাজার মডেল থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, মানবিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, সামাজিক কার্যক্রমে বাধা, অপপ্রচার এবং সাইবার হয়রানির মতো ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তারা দ্রুত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তাকে হামলা, অপপ্রচার, ভয়ভীতি কিংবা সাইবার সন্ত্রাসের মাধ্যমে দমিয়ে রাখার চেষ্টা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন



















