সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ১১ বছরের শিশু ইনফ্লুয়েন্সার ইয়াকিন হাম্মাদ

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫ ১১৩ বার পড়া হয়েছে

গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের সর্বশেষ শিকার ১১ বছর বয়সী ইয়াকিন হাম্মাদ—যিনি গাজার সবচেয়ে কনিষ্ঠ ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার প্রাণপ্রিয় হাসি, মানবিক কাজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের মাঝেও আশার আলো জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টার জন্য পরিচিত এই শিশুটি উত্তর গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-বারাকা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণে নিহত হন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ মে) রাতে ওই এলাকায় তীব্র সংঘর্ষের সময় ইয়াকিন নিহত হন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াকিন ও তার বড় ভাই মোহাম্মদ হাম্মাদ যুদ্ধকবলিত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারের মধ্যে নিয়মিত খাবার, পোশাক এবং খেলনা বিতরণ করতেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ইয়াকিন গাজার শিশুদের জন্য এক প্রেরণার নাম হয়ে উঠেছিলেন। যুদ্ধের নৃশংস বাস্তবতার মধ্যেও তিনি শিশুদের জন্য আনন্দের খোঁজ করতেন। কখনো নাচ-গান, কখনো আইসক্রিম বিতরণ কিংবা প্রার্থনায় অংশ নিয়ে সবার মধ্যে সাহস ছড়িয়ে দিতেন। তিনি এক পোস্টে লিখেছিলেন, “আমি চেষ্টা করি অন্য বাচ্চাদের একটু আনন্দ দিতে, যাতে তারা যুদ্ধ ভুলে থাকতে পারে।”

ইয়াকিন ছিলেন গাজাভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন ‘ওয়েনা কালেকটিভ’-এর সক্রিয় সদস্য। সংগঠনটি যুদ্ধকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ভাই মোহাম্মদের সঙ্গে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে গিয়ে তিনি আশ্রয় নেয়া শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করতেন।

ইয়াকিনের মৃত্যু শুধু গাজার জন্য নয়, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের জন্য এক গভীর ক্ষতি। তার ছোট্ট জীবন যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক শান্তির বার্তা হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ১১ বছরের শিশু ইনফ্লুয়েন্সার ইয়াকিন হাম্মাদ

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫

গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের সর্বশেষ শিকার ১১ বছর বয়সী ইয়াকিন হাম্মাদ—যিনি গাজার সবচেয়ে কনিষ্ঠ ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার প্রাণপ্রিয় হাসি, মানবিক কাজ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধের মাঝেও আশার আলো জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টার জন্য পরিচিত এই শিশুটি উত্তর গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-বারাকা অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণে নিহত হন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ মে) রাতে ওই এলাকায় তীব্র সংঘর্ষের সময় ইয়াকিন নিহত হন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াকিন ও তার বড় ভাই মোহাম্মদ হাম্মাদ যুদ্ধকবলিত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারের মধ্যে নিয়মিত খাবার, পোশাক এবং খেলনা বিতরণ করতেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ইয়াকিন গাজার শিশুদের জন্য এক প্রেরণার নাম হয়ে উঠেছিলেন। যুদ্ধের নৃশংস বাস্তবতার মধ্যেও তিনি শিশুদের জন্য আনন্দের খোঁজ করতেন। কখনো নাচ-গান, কখনো আইসক্রিম বিতরণ কিংবা প্রার্থনায় অংশ নিয়ে সবার মধ্যে সাহস ছড়িয়ে দিতেন। তিনি এক পোস্টে লিখেছিলেন, “আমি চেষ্টা করি অন্য বাচ্চাদের একটু আনন্দ দিতে, যাতে তারা যুদ্ধ ভুলে থাকতে পারে।”

ইয়াকিন ছিলেন গাজাভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন ‘ওয়েনা কালেকটিভ’-এর সক্রিয় সদস্য। সংগঠনটি যুদ্ধকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ভাই মোহাম্মদের সঙ্গে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে গিয়ে তিনি আশ্রয় নেয়া শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করতেন।

ইয়াকিনের মৃত্যু শুধু গাজার জন্য নয়, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের জন্য এক গভীর ক্ষতি। তার ছোট্ট জীবন যুদ্ধের বিরুদ্ধে এক শান্তির বার্তা হয়ে থাকবে।