দেশ-বিদেশের ভক্তদের পদচারণায় মুখর বারোমারী, শুরু দুই দিনের তীর্থোৎসব
- আপডেট সময় : ০২:১৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বারোমারী সাধু লিও’র খ্রিস্টধর্মপল্লীতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী ‘ফাতেমা রাণীর’ তীর্থোৎসব। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে পবিত্র খ্রিস্টযাগ ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় মহাখ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ ধর্মীয় আয়োজন। তীর্থোৎসবকে কেন্দ্র করে বারোমারী ও আশপাশের পাহাড়ি জনপদে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্রিস্টধর্মাবলম্বী ভক্তরা ইতোমধ্যে তীর্থপল্লীতে সমবেত হয়েছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এবার প্রায় অর্ধলক্ষাধিক তীর্থযাত্রীর সমাগম ঘটবে। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের শেষ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এ বার্ষিক তীর্থোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশ থেকেও খ্রিস্টভক্তরা এতে অংশ নেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে মা মারিয়ার প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদন করতে তীর্থযাত্রীরা এখানে সমবেত হন। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় পবিত্র খ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে উৎসবের কার্যক্রম শুরু হয়। সন্ধ্যায় আলোর শোভাযাত্রা, মহাখ্রিস্টযাগ, পাপস্বীকার ও নিশি জাগরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি রয়েছে। শুক্রবার সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথসহ অন্যান্য ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মহাখ্রিস্টযাগের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এবারের অনুষ্ঠানে প্রধান পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ময়মনসিংহ খ্রিস্টধর্মপ্রদেশের বিশপ পনেল পৌল কুবি সিএসসি। তীর্থযাত্রীদের সুবিধার্থে সেখানে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি তীর্থপল্লীর পাশের মাঠে বসেছে নানা পণ্যের মেলা। মেলায় খ্রিস্টধর্মীয় সামগ্রী, গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, চুড়ি-মালা, গৃহস্থালি সামগ্রী, শোপিস ও শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এ মেলায় খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও ভিড় করছেন। টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে আসা তীর্থযাত্রী বিপন সংমা বলেন, “এই তীর্থস্থানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। ফাতেমা রাণী মা মারিয়ার চরণে ভক্তি-শ্রদ্ধা জানাতে পারব। তিনি নিশ্চয় আমাদের সহায় হবেন।” তীর্থোৎসব আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও বারোমারী খ্রিস্টান মিশনের পালপুরোহিত রেভারেন্ড ফাদার তরুণ বনোয়ারী বলেন, “অন্যান্য বছরের মতো এবারও আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। দেশের পরিস্থিতিও ভালো থাকায় আমরা আশা করছি, ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারব। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্রিস্টভক্তরা মিশনের মাঠে এসেছেন। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও আমাদের উৎসব পরিদর্শন করেছেন।” এদিকে, তীর্থোৎসব ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুরো তীর্থপল্লী গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “এবার উৎসবকে ঘিরে পোশাকধারী ও সাদাপোশাকে প্রায় চার শতাধিক পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। আশা করি, খ্রিস্টান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করতে পারবেন।” উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালে প্রায় ৪২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বারোমারী সাধু লিও’র খ্রিস্টধর্মপল্লী। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৮ সাল থেকে স্থানটি বার্ষিক তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পর্তুগালের ফাতেমা নগরীর আদলে গড়ে তোলা এ ধর্মপল্লীতে রয়েছে ৪৮ ফুট উচ্চতার মা মারিয়ার বিশাল মূর্তি। প্রতিবছর এ তীর্থোৎসবে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্তের সমাগম ঘটে।



















