চাঞ্চল্যকর চিরিরবন্দর জোড়া হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১১:৩২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিসহ দুই পলাতক আসামিকে চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এবং র্যাব-১৩, রংপুরের যৌথ আভিযানিক দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক দুটি অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃতদের চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব জানায়, নিহত শহিদুল হক দুলু ও তার ছেলে জয়নাল আবেদিন দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানার উত্তর পলাশবাড়ী টেপাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রধান আসামি মো. সাদেকুল ইসলাম ও দ্বিতীয় আসামি মো. সাকিব নিহত শহিদুল হক দুলুর ছেলে এবং নিহত জয়নাল আবেদিনের সৎভাই। পারিবারিক বিরোধ ও জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে উত্তর পলাশবাড়ী বেগপাড়া গ্রামের মৃত বুলু হাজীর ভুট্টাক্ষেতে ভিকটিমরা পৌঁছালে ১ থেকে ৩ নম্বর আসামি, ৪ থেকে ১০ নম্বর আসামিদের প্ররোচনায় তাদের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ধারালো ছোরা ও লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করলে শহিদুল হক দুলু ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পিতাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে জয়নাল আবেদিনও গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর নিহতের অপর ছেলে বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ১৩ মে ২০২৬ তারিখে রুজু হয় (মামলা নং-১৩/২১), যাতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। র্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. সাদেকুল ইসলাম (৩০) এবং দ্বিতীয় আসামি মো. সাকিব (১৯) চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানা এলাকায় আত্মগোপন করে রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-১৩, রংপুরের যৌথ আভিযানিক দল গত ২৯ জুন পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। প্রথম অভিযানে দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. সাদেকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে ইপিজেড থানাধীন হোটেল ব্লু সোম ইন্টারন্যাশনালের সামনে অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় আসামি মো. সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে



















