ফেক আইডির আড়ালে অপপ্রচার: মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে কার স্বার্থ রক্ষা?
- আপডেট সময় : ০৫:২৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত একটি ফেসবুক ফেক আইডিকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফেক আইডিটিতে মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির নাম বিকৃত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফেক আইডিটির বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেন, সেখানে জামাল উদ্দিন ওরফে “প্যারাসিটামল” নামে পরিচিত ব্যক্তির বক্তব্য হিসেবে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এসব বক্তব্যের অনেকগুলোই তথ্য-প্রমাণবিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি কোনো বক্তব্য সত্য ও তথ্যভিত্তিক হয়, তাহলে নিজের পরিচয় গোপন রেখে ফেক আইডির আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজন কেন? একজন দায়িত্বশীল নাগরিক কিংবা সামাজিকভাবে সচেতন ব্যক্তি কেন নিজের পরিচয়ে কথা বলবেন না? এই প্রশ্ন এখন স্থানীয় জনমতের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সত্য ও তথ্য প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু ফেক আইডির আড়ালে থেকে ব্যক্তি আক্রমণ, সম্মানহানি এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তারা মনে করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়েরই বহিঃপ্রকাশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কবরস্থানের ওপর ভবন নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু গোষ্ঠী অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগকারীদের ধারণা, জনসমালোচিত কিছু বিষয় থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
এদিকে বিতর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য জানতে ওয়ার্ড প্রতিনিধি পলাশ মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। তাদের অভিযোগ, তথ্য জানতে যোগাযোগ করা হলে অনেক সময় তিনি স্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আরও প্রশ্ন ও জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অপপ্রচার, মিথ্যাচার কিংবা চরিত্রহননের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মৃত ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে ফেক আইডি পরিচালনা করা হলে সেটিও নৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়। তারা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত এবং প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
জনগণের একটাই প্রশ্ন—সত্যের পক্ষে কথা বলার সাহস যদি থাকে, তাহলে ফেক আইডির আড়ালে কেন? সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্যভিত্তিক বক্তব্য; গোপন পরিচয়ে অপপ্রচার নয়।
প্রতিবাদী কণ্ঠ বিশ্বাস করে—সত্যকে আড়াল করতে অপপ্রচার নয়, প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক জবাব। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ব্যবহৃত হয়, বিভ্রান্তি ও চরিত্রহননের জন্য নয়।




















