সর্বশেষ

বান্দরবান বালাঘাটায় ভয়াবহ আগুনের তাণ্ডব—

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

 

মুহূর্তেই ৮ ঘর ছাই, ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবার বান্দরবান পৌরসভার বালাঘাটা বাজার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মুহূর্তের আগুনে অন্তত ৮টি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়েছে এবং আরও ৩টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এক রাতেই দিশেহারা হয়ে পড়েছে অন্তত ১৩টি পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ জুন সকালে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিলকিস বেগম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মার্কাজ গলির একটি টিনশেড ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে মানুষ ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বের করার সুযোগ পাননি। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং চারপাশে শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি।

খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান জানান, সকাল ৯টা ১২ মিনিটে প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

তবে একই সময় বান্দরবান-রুমা সড়কে একটি দুর্ঘটনার খবর আসায় একটি ইউনিট সেখানে পাঠাতে হয়, ফলে আগুন নেভাতে দুটি ইউনিট কাজ চালিয়ে যায়।

দমকলকর্মীদের টানা প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। পুরোপুরি পুড়ে যায় ৮টি ঘর এবং আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ৩টি ঘর।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি টিনশেড ঘর থেকে আগুন শুরু হয়ে দ্রুত বাতাসের কারণে পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় পাশের একটি চারতলা ভবনের জানালার কাচও ভেঙে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তদের একজন তপন মল্লিক জানান, বহু বছরের পরিশ্রম ও সঞ্চয়ে তৈরি করা ঘরটি মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল, এখন আমরা একেবারে শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে আছি।”

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বান্দরবান বালাঘাটায় ভয়াবহ আগুনের তাণ্ডব—

আপডেট সময় : ০১:২৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

 

মুহূর্তেই ৮ ঘর ছাই, ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবার বান্দরবান পৌরসভার বালাঘাটা বাজার এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মুহূর্তের আগুনে অন্তত ৮টি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়েছে এবং আরও ৩টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এক রাতেই দিশেহারা হয়ে পড়েছে অন্তত ১৩টি পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ জুন সকালে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিলকিস বেগম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মার্কাজ গলির একটি টিনশেড ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে মানুষ ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও বের করার সুযোগ পাননি। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং চারপাশে শুরু হয় চিৎকার-চেঁচামেচি।

খবর পেয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান জানান, সকাল ৯টা ১২ মিনিটে প্রথমে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

তবে একই সময় বান্দরবান-রুমা সড়কে একটি দুর্ঘটনার খবর আসায় একটি ইউনিট সেখানে পাঠাতে হয়, ফলে আগুন নেভাতে দুটি ইউনিট কাজ চালিয়ে যায়।

দমকলকর্মীদের টানা প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। পুরোপুরি পুড়ে যায় ৮টি ঘর এবং আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও ৩টি ঘর।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি টিনশেড ঘর থেকে আগুন শুরু হয়ে দ্রুত বাতাসের কারণে পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় পাশের একটি চারতলা ভবনের জানালার কাচও ভেঙে যায়।

ক্ষতিগ্রস্তদের একজন তপন মল্লিক জানান, বহু বছরের পরিশ্রম ও সঞ্চয়ে তৈরি করা ঘরটি মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেল, এখন আমরা একেবারে শূন্য হাতে দাঁড়িয়ে আছি।”

এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।