সর্বশেষ
আগুন ঝরা দুপুর তাছলিমা আক্তার মুক্তা ময়মনসিংহ মেডিকেল হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড পরিদর্শনে এমরান সালেহ প্রিন্স সাপাহারে রাস্তার পাশে পড়ে আছে পশুর চামড়া, জনদুর্ভোগ গাইবান্ধায় রাস্তা নির্মাণে ভেলকিবাজি রাতের আঁধারে ফেলানো হচ্ছে খোয়া সান্তাহার প্রেসক্লাবের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য রুবি জয়ন্তী উদযাপন সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে শেরপুর জেলায় মোবাইল কোর্ট এক ছেলে সচিব, আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক; তবুও নিঃসঙ্গ মৃত্যু বৃদ্ধা মায়ের খরিয়া কাজির চর ইউনিয়নে জোরদার নির্বাচনী প্রচারণা: নরোত্তমপুরের একটি সামাজিক সংগঠনকে ঘিরে আলোচনা ও বিতর্ক, প্রতিষ্ঠাতার প্রতিবাদী মন্তব্য ফেক আইডি ও বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে আলোচনায় ইসমাইল হোসেন মোহন

এক ছেলে সচিব, আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক; তবুও নিঃসঙ্গ মৃত্যু বৃদ্ধা মায়ের

স্টাফ রিপোর্টার |
  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা রাজধানীর মিরপুরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা নাড়া দিয়েছে পুরো দেশকে। জীবদ্দশায় সন্তানদের মানুষ করতে যিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন, সেই মা-ই জীবনের শেষ সময়ে হয়ে পড়লেন অসহায় ও নিঃসঙ্গ।
ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর অন্তত ৭ থেকে ৮ দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের এক ছেলে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (সচিব), আরেকড় ছেলেড় বাংলাদেশ প্রকৌশলড়ড় বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। পরিবারের অন্য সন্তানরাও সমাজে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এত সাফল্য ও প্রতিষ্ঠার পরও জীবনের শেষ সময়ে বৃদ্ধা মায়ের পাশে কেউ ছিলেন না—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেড় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছিল এবং কক্ষজুড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—আমরা কি কেবল পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি, নাকি মানবিক মূল্যবোধ থেকেও দূরে সরে যাচ্ছি?
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অর্থ-সম্পদ নয়; প্রয়োজন সন্তানের সান্নিধ্য, খোঁজখবর এবং ভালোবাসা। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা কখনোই বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধকে মুছে দিতে পারে না।
নুরজাহান বেগমের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ঘটনা নয়; এটি পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সন্তানদের সফল মানুষ বানানোর পাশাপাশি তাদের মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং মা-বাবার প্রতি কর্তব্যবোধ শেখানোও সমান জরুরি।
আজ নুরজাহান বেগম নেই। কিন্তু তাঁর নীরব বিদায় সমাজের কাছে একটি প্রশ্ন রেখে গেছে—
“আমরা কি সত্যিই উন্নত হচ্ছি, নাকি শুধু প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি?”
আল্লাহ নুরজাহান বেগমকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

এক ছেলে সচিব, আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক; তবুও নিঃসঙ্গ মৃত্যু বৃদ্ধা মায়ের

আপডেট সময় : ০২:৫৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ঢাকা রাজধানীর মিরপুরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যা নাড়া দিয়েছে পুরো দেশকে। জীবদ্দশায় সন্তানদের মানুষ করতে যিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন, সেই মা-ই জীবনের শেষ সময়ে হয়ে পড়লেন অসহায় ও নিঃসঙ্গ।
ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর অন্তত ৭ থেকে ৮ দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, নুরজাহান বেগমের এক ছেলে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (সচিব), আরেকড় ছেলেড় বাংলাদেশ প্রকৌশলড়ড় বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। পরিবারের অন্য সন্তানরাও সমাজে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু এত সাফল্য ও প্রতিষ্ঠার পরও জীবনের শেষ সময়ে বৃদ্ধা মায়ের পাশে কেউ ছিলেন না—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেড় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছিল এবং কক্ষজুড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—আমরা কি কেবল পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি, নাকি মানবিক মূল্যবোধ থেকেও দূরে সরে যাচ্ছি?
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অর্থ-সম্পদ নয়; প্রয়োজন সন্তানের সান্নিধ্য, খোঁজখবর এবং ভালোবাসা। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা কখনোই বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধকে মুছে দিতে পারে না।
নুরজাহান বেগমের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ঘটনা নয়; এটি পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সন্তানদের সফল মানুষ বানানোর পাশাপাশি তাদের মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং মা-বাবার প্রতি কর্তব্যবোধ শেখানোও সমান জরুরি।
আজ নুরজাহান বেগম নেই। কিন্তু তাঁর নীরব বিদায় সমাজের কাছে একটি প্রশ্ন রেখে গেছে—
“আমরা কি সত্যিই উন্নত হচ্ছি, নাকি শুধু প্রতিষ্ঠিত হচ্ছি?”
আল্লাহ নুরজাহান বেগমকে ক্ষমা করুন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।