সর্বশেষ
হুমকি-ধামকি ও প্রতারণার অভিযোগে মানবাধিকার সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ স্ত্রীর আপত্তিকর ভিডিও দেখে মানসিক আঘাত, অস্ত্রের গুলিতে প্রাণ দিলেন পুলিশ কনস্টেবল সম্রাট জমকালো আয়োজনে বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতি সম্মাননা সাংবাদিকদের উন্নয়নে সরকার সচেষ্ট — এরশাদ উল্লাহ এমপি গাইবান্ধায় গৃহবধূ ববিতা হত্যা: ক্ষোভে ফুঁসে উঠে সড়ক অবরোধ, বিচার দাবিতে মানববন্ধন আনোয়ারা প্রেসক্লাবে ৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন, ৩ মাসে পূর্ণাঙ্গ কমিটির লক্ষ্যমাত্রা চরফ্যাশনে পল্লী বিদ্যুতের নীতিমালা ‘নিলামে’এজিএম আল মামুন ও পিইউসি উত্তমের সিন্ডিকেটে জিম্মি গ্রাহক গাজীপুরের শ্রীপুরে আলোচিত কিশোরী ফারিহাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। নোয়াখালী বেগমগঞ্জে মোহাম্মদ দীন ইসলামের ইন্তেকাল পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার-০২ ঘুমহীন চট্টগ্রাম: জ্বালানি সংকটে বন্ধ ১০ কেন্দ্র, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত নগরজীবন ৪–৫ ঘণ্টার লোডশেডিং, পানি সংকটে নাকাল নগরবাসী

চরফ্যাশনে পল্লী বিদ্যুতের নীতিমালা ‘নিলামে’এজিএম আল মামুন ও পিইউসি উত্তমের সিন্ডিকেটে জিম্মি গ্রাহক

 ​চরফ্যাশন প্রতিনিধি।
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

 ভোলার চরফ্যাশন জোনাল অফিস এখন দুর্নীতির নিরাপদ অভয়ারণ্য। বিআরইবি (BREB) ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সরকারি গেজেটকে স্রেফ ‘কাগজের টুকরো’ বানিয়ে এখানে চলছে মিটারের হাট। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে যেখানে নিষিদ্ধ দূরত্বে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে যাচ্ছে, সেখানে বৈধ আবেদনের ফাইল পচে মরছে কর্মকর্তাদের টেবিলে। এই দুর্নীতির মহোৎসবের মূল হোতা হিসেবে আঙুল উঠেছে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) আল মামুন এবং পিইউসি উত্তম কুমার দাসের দিকে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খুঁটি থেকে ঘরের দূরত্ব ১৩০ ফুটের এক ইঞ্চি বেশি হলেও সংযোগ দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ চরফ্যাশন জোনাল অফিসের এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে ১৩৯ ফুট দূরত্বে মিটার পাস করিয়ে দিয়েছেন (সিএমও নং ৫৪৫১৩৯৬)। গত ১২ এপ্রিল লাইন টেকনিশিয়ান নজরুল ইসলাম সরেজমিনে ফিতা দিয়ে মেপে এই ভয়াবহ জালিয়াতি ধরে ফেলেন। কিন্তু দুর্নীতির খুঁটির জোর এতই বেশি যে, নিয়ম ভাঙার পরও অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে যখন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ও সুপারভাইজার স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ এজিএম আল মামুনের টেবিলে জমা পড়ে, তখন তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, জনসম্মুখে সেই অভিযোগপত্রটি ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেন। সরকারি নথি ও অভিযোগের প্রতি এমন ঔদ্ধত্য প্রমাণ করে যে, চরফ্যাশন জোনাল অফিসে আইনের শাসন নয়, বরং আল মামুনের নিজস্ব ‘স্বৈরাচারী নিয়ম’ চলে। অভিযোগ উঠেছে, বড় অংকের মাসোহারা নিশ্চিত করতেই তিনি অধস্তনদের তোলা অভিযোগকে ডাস্টবিনে ঠাঁই দিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণ গ্রাহকদের ফাইল আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করাই পিইউসি উত্তম কুমার দাসের প্রধান কাজ। ​জিন্নাগড়ের মোহাম্মদ আলমগীর ১৪ মাস ধরে (আবেদন: ১২ ফেব. ২০২৫) মিটারের আশায় ঘুরছেন। ​চর মাদ্রাজের শওকত হোসেন (৯ মাস), ফারুক তালুকদার (৮ মাস) ও মোহাম্মদ হানিফদের মতো অর্ধশত ভুক্তভোগীর জীবন অন্ধকারে কাটলেও পিইউসি’র ‘পরিদর্শন’ করার সময় হয় না। অভিযোগ আছে, যারা ‘টেবিলের নিচ দিয়ে’ টাকা দিচ্ছেন না, তাদের ফাইলগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে মাসের পর মাস ফেলে রাখা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সরকারের ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ কর্মসূচি চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এজিএম আল মামুন ও পিইউসি উত্তম কুমারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তদন্তসহ তাদের দ্রুত ওএসডি (OSD) করে বিভাগীয় মামলা করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ​এই জোনাল অফিসে সাধারণ মানুষের অধিকার কি তবে টাকা দিয়ে কিনতে হবে? নাকি বিদ্যুৎ বিভাগ এই ‘দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট’ ভেঙে জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চরফ্যাশনে পল্লী বিদ্যুতের নীতিমালা ‘নিলামে’এজিএম আল মামুন ও পিইউসি উত্তমের সিন্ডিকেটে জিম্মি গ্রাহক

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 ভোলার চরফ্যাশন জোনাল অফিস এখন দুর্নীতির নিরাপদ অভয়ারণ্য। বিআরইবি (BREB) ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সরকারি গেজেটকে স্রেফ ‘কাগজের টুকরো’ বানিয়ে এখানে চলছে মিটারের হাট। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে যেখানে নিষিদ্ধ দূরত্বে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে যাচ্ছে, সেখানে বৈধ আবেদনের ফাইল পচে মরছে কর্মকর্তাদের টেবিলে। এই দুর্নীতির মহোৎসবের মূল হোতা হিসেবে আঙুল উঠেছে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) আল মামুন এবং পিইউসি উত্তম কুমার দাসের দিকে। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খুঁটি থেকে ঘরের দূরত্ব ১৩০ ফুটের এক ইঞ্চি বেশি হলেও সংযোগ দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ চরফ্যাশন জোনাল অফিসের এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে ১৩৯ ফুট দূরত্বে মিটার পাস করিয়ে দিয়েছেন (সিএমও নং ৫৪৫১৩৯৬)। গত ১২ এপ্রিল লাইন টেকনিশিয়ান নজরুল ইসলাম সরেজমিনে ফিতা দিয়ে মেপে এই ভয়াবহ জালিয়াতি ধরে ফেলেন। কিন্তু দুর্নীতির খুঁটির জোর এতই বেশি যে, নিয়ম ভাঙার পরও অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে যখন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ও সুপারভাইজার স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ এজিএম আল মামুনের টেবিলে জমা পড়ে, তখন তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, জনসম্মুখে সেই অভিযোগপত্রটি ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেন। সরকারি নথি ও অভিযোগের প্রতি এমন ঔদ্ধত্য প্রমাণ করে যে, চরফ্যাশন জোনাল অফিসে আইনের শাসন নয়, বরং আল মামুনের নিজস্ব ‘স্বৈরাচারী নিয়ম’ চলে। অভিযোগ উঠেছে, বড় অংকের মাসোহারা নিশ্চিত করতেই তিনি অধস্তনদের তোলা অভিযোগকে ডাস্টবিনে ঠাঁই দিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাধারণ গ্রাহকদের ফাইল আটকে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করাই পিইউসি উত্তম কুমার দাসের প্রধান কাজ। ​জিন্নাগড়ের মোহাম্মদ আলমগীর ১৪ মাস ধরে (আবেদন: ১২ ফেব. ২০২৫) মিটারের আশায় ঘুরছেন। ​চর মাদ্রাজের শওকত হোসেন (৯ মাস), ফারুক তালুকদার (৮ মাস) ও মোহাম্মদ হানিফদের মতো অর্ধশত ভুক্তভোগীর জীবন অন্ধকারে কাটলেও পিইউসি’র ‘পরিদর্শন’ করার সময় হয় না। অভিযোগ আছে, যারা ‘টেবিলের নিচ দিয়ে’ টাকা দিচ্ছেন না, তাদের ফাইলগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে মাসের পর মাস ফেলে রাখা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সরকারের ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ কর্মসূচি চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এজিএম আল মামুন ও পিইউসি উত্তম কুমারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তদন্তসহ তাদের দ্রুত ওএসডি (OSD) করে বিভাগীয় মামলা করার দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ​এই জোনাল অফিসে সাধারণ মানুষের অধিকার কি তবে টাকা দিয়ে কিনতে হবে? নাকি বিদ্যুৎ বিভাগ এই ‘দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট’ ভেঙে জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।