সর্বশেষ
“ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত” নালিতাবাড়ীতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নাজমুল হাসান নাদিমের প্রার্থীতা ঘোষণা সাপাহারে সরকারি খাড়ি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ: হুমকির মুখে ৮ গ্রাম নেত্রকোনায় তেল পাম্পে তীব্র সংকট ভোগান্তি বাইক মালিকরা ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করলেন এস.এম. আহসানুল কবির চৌধুরী (টিটু) র‍্যাব-৭’র অভিযানে ‘গলাকাটা বাচা’গ্রেফতার-স্বস্তির নিঃশ্বাস চট্টগ্রামে চট্টগ্রামে র‌্যাব-৭-এর সাঁড়াশি অভিযান: আলোচিত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পলাতক আসামি দেব গ্রেফতার ময়মনসিংহ তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিস্থাপন প্রস্তুতি পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ময়মনসিংহে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন মধ্যম মাদার্শা শান্তিনিকেতন বৌদ্ধ বিহারে মহাথের বরণ উৎসব হাটহাজারীতে প্রতিমন্ত্রীর শুভেচ্ছা, উপাসক-উপাসিকাদের মিলনমেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ

নেত্রকোনায় তেল পাম্পে তীব্র সংকট ভোগান্তি বাইক মালিকরা

শংকর চন্দ্র সরকার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি;
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

শংকর চন্দ্র সরকার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি; নেত্রকোনা জেলা সকল উপজেলায় তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, তেল আছে, তেল নেই: একটি ‘তেলবাজি’ মহাকাব্য’ ভোর ৪টা। ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস নয়, নাকে আসছে পোড়া ডিজেল আর পেট্রোলের সুবাস। বাংলাদেশ কি তবে তেল বিতরণে বিশ্বে প্রথম হতে চলেছে? দায়িত্বশীলদের কথায় তেলের নদী বয়ে যাচ্ছে, আর পাম্পে এসে দেখছি সেই নদী শুকিয়ে মরুভূমি। এক ফোঁটা তেলের জন্য পাম্পের সামনে রাত কাটানো এখন যেন এক নতুন ‘পিকনিক’। মশারি টাঙিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাটাই শুধু বাকি।বাইক মালিকরা সময় মত চাকরি ক্ষেত্রে যেতে পারছে না, আবার কেউ কেউ বাইকের উপর নির্ভর করে সংসার চালায় তাও পারছে না। চারপাশে শত শত মোটরযান, যেন এখানে কোনো আন্তর্জাতিক হর্ন উৎসব চলছে। কারো হর্ন সুরেলা, কারোটা কর্কশ—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ‘সিম্ফনি’। পিছন থেকে অবিরাম চিৎকার ভেসে আসছে— ওস্তাদ, সামনে টানো, টানো… আরো টানো। ভাইরে, সামনে তো গাড়ি, না? সামনে তো অনিশ্চয়তা, টানবো কেমনে? ইঞ্জিনের শব্দ আর মানুষের চিৎকারে মনে হচ্ছে, তেলের পাম্প নয়, আমরা বুঝি কোনো মহাকাশ অভিযানের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তেলের গোলকধাঁধা কর্তৃপক্ষ বলছেন, “তেল আছে, ভয়ের কিছু নেই।” আর পাম্পের মালিক বলছেন, “তেল নাই, সাপ্লাই নাই।” মাঝখানে আমরা সাধারণ পাবলিক তেলের ড্রাম আর বাইক নিয়ে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলছি। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ভোর ৪টা থেকে এখন সকাল ৯টা। গাড়ি একটুও নড়েনি, কিন্তু আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ঠিকই নড়ে গেছে। বা! কি চমৎকার দৃশ্য! এক ফোঁটা তেলের জন্য সারা রাত পাম্পে যাপন—এ যেন এক আধুনিক ত্যাগের মহিমা। ডিজিটাল যুগে তেলের জন্য এই এনালগ লাইন আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে, দুনিয়া এগোলেও আমরা এখনো সেই ‘লাইন মারার’ যুগেই পড়ে আছি। দেশের তেলের অভাব থাকুক আর না থাকুক, আমাদের এই ‘লাইনের কষ্ট’ নিয়ে রসিকতা করার তেলের (ধৈর্যের) অভাব যেন কোনোদিন না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নেত্রকোনায় তেল পাম্পে তীব্র সংকট ভোগান্তি বাইক মালিকরা

আপডেট সময় : ০৪:২৬:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

শংকর চন্দ্র সরকার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি; নেত্রকোনা জেলা সকল উপজেলায় তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, তেল আছে, তেল নেই: একটি ‘তেলবাজি’ মহাকাব্য’ ভোর ৪টা। ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস নয়, নাকে আসছে পোড়া ডিজেল আর পেট্রোলের সুবাস। বাংলাদেশ কি তবে তেল বিতরণে বিশ্বে প্রথম হতে চলেছে? দায়িত্বশীলদের কথায় তেলের নদী বয়ে যাচ্ছে, আর পাম্পে এসে দেখছি সেই নদী শুকিয়ে মরুভূমি। এক ফোঁটা তেলের জন্য পাম্পের সামনে রাত কাটানো এখন যেন এক নতুন ‘পিকনিক’। মশারি টাঙিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাটাই শুধু বাকি।বাইক মালিকরা সময় মত চাকরি ক্ষেত্রে যেতে পারছে না, আবার কেউ কেউ বাইকের উপর নির্ভর করে সংসার চালায় তাও পারছে না। চারপাশে শত শত মোটরযান, যেন এখানে কোনো আন্তর্জাতিক হর্ন উৎসব চলছে। কারো হর্ন সুরেলা, কারোটা কর্কশ—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত ‘সিম্ফনি’। পিছন থেকে অবিরাম চিৎকার ভেসে আসছে— ওস্তাদ, সামনে টানো, টানো… আরো টানো। ভাইরে, সামনে তো গাড়ি, না? সামনে তো অনিশ্চয়তা, টানবো কেমনে? ইঞ্জিনের শব্দ আর মানুষের চিৎকারে মনে হচ্ছে, তেলের পাম্প নয়, আমরা বুঝি কোনো মহাকাশ অভিযানের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তেলের গোলকধাঁধা কর্তৃপক্ষ বলছেন, “তেল আছে, ভয়ের কিছু নেই।” আর পাম্পের মালিক বলছেন, “তেল নাই, সাপ্লাই নাই।” মাঝখানে আমরা সাধারণ পাবলিক তেলের ড্রাম আর বাইক নিয়ে ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলছি। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ভোর ৪টা থেকে এখন সকাল ৯টা। গাড়ি একটুও নড়েনি, কিন্তু আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ঠিকই নড়ে গেছে। বা! কি চমৎকার দৃশ্য! এক ফোঁটা তেলের জন্য সারা রাত পাম্পে যাপন—এ যেন এক আধুনিক ত্যাগের মহিমা। ডিজিটাল যুগে তেলের জন্য এই এনালগ লাইন আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে, দুনিয়া এগোলেও আমরা এখনো সেই ‘লাইন মারার’ যুগেই পড়ে আছি। দেশের তেলের অভাব থাকুক আর না থাকুক, আমাদের এই ‘লাইনের কষ্ট’ নিয়ে রসিকতা করার তেলের (ধৈর্যের) অভাব যেন কোনোদিন না হয়।