সর্বশেষ
দুগ্ধ খাতকে শক্তিশালী করছে নারী খামারিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বেনাপোল সাদীপুর সীমান্তে বিএসএফ ১২ থেকে ১৫ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে নোয়াখালী পৌরসভার উন্নয়ন কাজে রহস্যজনক ধীরগতি, জনদুর্ভোগ চরমে: জবাবদিহিতা কোথায় বেগমগঞ্জের নরোত্তমপুরে ইমামকে বিদায় সংবর্ধনায় পাগড়ি পরানো নিয়ে বিতর্ক, বাজার থেকে ফেরার পথে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা: বেগমগঞ্জে চাঞ্চল্য সলিমপুরে সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ ভাঙার পাশাপাশি র‍্যাব ক্যাম্প ভাঙচুরের নেপথ্য শক্তি খুঁজছে সরকার মধ্যম নরোত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে সরব এলাকাবাসী। নেত্রকোণায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে বাড়িতে হামলা মোটরসাইকেল ভাংচুর আহত ৩ পাওনা টাকা নিয়ে সাত বছরের বিরোধ: লাম্বু রহিম ও আজিম মিঞার মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত কানাডা ভিসা প্রতারণা: দেবীদ্বারে জাকির হোসেন চক্রের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অভিযোগ

জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস

মো: আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে


বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআরকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, অস্ত্র রফতানি বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবেই এ আলোচনা হয়েছে।
রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজেদের বিমান বাহিনীর সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে চাইছে। প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পারমাণবিক শক্তিধারী দুই প্রতিবেশীর সংঘর্ষের পর পাকিস্তান তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা রফতানিমুখী বাজারে ব্যবহার করতে আগ্রহী।
আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান যৌথভাবে চীন–পাকিস্তানের তৈরি বহুমুখী যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে পাকিস্তান বাংলাদেশকে দ্রুত ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের আশ্বাস দেয়। পাশাপাশি, বিমান চালনা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, কারিগরি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা প্রদানের বিষয়েও সমঝোতা গড়ে ওঠে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই আলোচনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত করছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনরায় গুরুত্ব পেয়েছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক শক্তি উন্নয়ন কর্মসূচিতে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান অন্যতম প্রধান উপাদান। ইতোমধ্যে আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি এবং লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তিতেও এই বিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মঙ্গলবার বলেন, দেশের অস্ত্র শিল্পের অগ্রগতি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস

আপডেট সময় : ০২:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬


বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআরকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, অস্ত্র রফতানি বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবেই এ আলোচনা হয়েছে।
রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন পাকিস্তান গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজেদের বিমান বাহিনীর সাফল্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে চাইছে। প্রায় তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পারমাণবিক শক্তিধারী দুই প্রতিবেশীর সংঘর্ষের পর পাকিস্তান তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা রফতানিমুখী বাজারে ব্যবহার করতে আগ্রহী।
আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান যৌথভাবে চীন–পাকিস্তানের তৈরি বহুমুখী যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে পাকিস্তান বাংলাদেশকে দ্রুত ‘সুপার মুশশাক’ প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের আশ্বাস দেয়। পাশাপাশি, বিমান চালনা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, কারিগরি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা প্রদানের বিষয়েও সমঝোতা গড়ে ওঠে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই আলোচনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতির ইঙ্গিত করছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক পুনরায় গুরুত্ব পেয়েছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক শক্তি উন্নয়ন কর্মসূচিতে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান অন্যতম প্রধান উপাদান। ইতোমধ্যে আজারবাইজানের সঙ্গে চুক্তি এবং লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সঙ্গে প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তিতেও এই বিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মঙ্গলবার বলেন, দেশের অস্ত্র শিল্পের অগ্রগতি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।