ফুচকার টক পানিতে লুকিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিহেপাটাইটিস এ থেকে লিভার বিকলের সতর্কবার্তা চিকিৎসকের
- আপডেট সময় : ০৪:১৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
টক, ঝাল আর মুচমুচে ফুচকার জনপ্রিয়তা সর্বত্র। বাংলাদেশে ফুচকা আর ভারতে পানিপুরি বা গোলগাপ্পা—নাম ভিন্ন হলেও রসনাতৃপ্তির আনন্দ এক। তবে এই প্রিয় রাস্তার খাবারই যে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
ভারতের বিশিষ্ট স্নায়ুরোগ চিকিৎসক ডা. প্রিয়াঙ্কা শেরাওয়াত এক ভিডিও বার্তায় ফুচকা খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন। তিনি জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ফুচকা বিশেষ করে এর টক পানি শরীরে প্রবেশ করলে হেপাটাইটিস এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই ভাইরাস থেকে জন্ডিসসহ গুরুতর ক্ষেত্রে লিভার বিকল হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে।
টক পানিতেই মূল বিপদ
চিকিৎসকের মতে, ফুচকার স্বাদ নির্ভর করে এর টক-ঝাল পানির ওপর। কিন্তু এই পানি যদি বিশুদ্ধ না হয় বা দূষিত উৎস থেকে নেওয়া হয়, তাহলে এতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস থাকতে পারে। হেপাটাইটিস এ ভাইরাস সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমেই মানবদেহে প্রবেশ করে এবং প্রথমে অন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে পরে লিভারে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
শিশুদের ঝুঁকি বেশি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম। ফুচকার টক পানি ও আলু-মাখার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত জন্ডিস, দীর্ঘস্থায়ী লিভার সমস্যা এমনকি লিভার ফেইলিওরের মতো জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
রাস্তার ফুচকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ
ডা. প্রিয়াঙ্কা শেরাওয়াত রাস্তায় খোলা অবস্থায় বিক্রি হওয়া ফুচকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। তার পরিবর্তে বাড়িতে পরিষ্কার ও ফুটানো পানি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফুচকা তৈরি করে খাওয়ার কথা বলেছেন তিনি। কারণ রাস্তার খাবারে ব্যবহৃত পানির উৎস অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অজানা এবং তা প্রায়ই দূষিত থাকে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
হেপাটাইটিস এ সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন—
পেট খারাপ, জ্বর, চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলুদ হওয়া। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অসতর্কতাই লিভারের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই রসনাতৃপ্তির আগে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।





















